শ্রমিক খরচ কম ও অল্প সময়ে জমিতে ‘রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার’ দিয়ে ধানের চারা রোপণে খরচ ও সময় উভয়েই বেঁচে যায় কৃষকদের। শ্রমিক দিয়ে কাজ করলে সময় ও খরচ দু’টোই বেশি লাগে এবং এ যন্ত্রের মাধ্যমে করতে পারলে দু’টোই কম লাগে। এতে কৃষকরা আরো বেশি লাভবান হবে।
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে প্রথমবারের মত কৃষি যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, খামার যান্ত্রিকীকরণ ও খরচ কমিয়ে কৃষককে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ৬০ জন কৃষকের ৫০ একর জমিতে ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ ‘রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার’ এর সাহায্যে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণে কৃষক পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী শুরু করেছে। গতকাল ১৭ ফেব্রæয়ারি বৃহস্পতিবার উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুস সালামের জমিতে ২০২১-২২ অর্থ বছরে বোরো মৌসুমে ব্রিধান-৭৯ জাতের রোপণ কার্যক্রমের আওতায় রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে চারা রোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন আক্তার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাহানা আফরোজ ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
যন্ত্র দিয়ে প্রতিঘন্টায় ০.৩৫ হেক্টর জমির ধান রোপণ করা যায়। জ্বালানি খরচ ঘণ্টায় ৭০০ গ্রাম। প্রতি হেক্টর জমিতে ২০ জন শ্রমিকের সাশ্রয় হয়। এ যন্ত্র দিয়ে ধানের চারা রোপণ করলে কৃষকের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। চারা রোপণে যন্ত্রটি ব্যবহার করলে রোপণ খরচ ৫০-৭৫ ভাগ কমানো সম্ভব। এটা দিয়ে চারা রোপণ করলে লাইন সোজা হয়। ফলে পরবর্তীতে আগাছা নিড়ানো, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ ও ধান কর্তন করা সহজ হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাসুদেব রায় জাগো২৪.নেট-কে বলেন, যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধি, আধুনিক ধান রোপণের ‘রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার’ যন্ত্রের সাহায্যে সম দূরত্ব, সম-গভীরতায় এবং অল্প শ্রমে ধানের চারা রোপন করা সম্ভব। কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধিই এই কার্যক্রমের লক্ষ্য। রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক জমিতে সুস্থ ও সবল চারা রোপণ করা যায়। এতে সময়, শ্রম, অর্থ ও পানি সাশ্রয় হয়। পাশাপাশি জমিতে উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পায়। রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টারের মাধ্যমে বোরোর চারা রোপণের মধ্যদিয়ে কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ হলো। এবার আমনধানের ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়া বোরো চাষে কৃষক পুরোদমে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন। সার ও সেচ নিশ্চিত হলে এবং আবহাওয়া অনুক‚লে থাকলে বোরোর ভালো ফলনও আশা করছেন তারা।

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 









