বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১১ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঈদ উপহারের ৫৭ বস্তা চাল জব্দ

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার উপলক্ষে দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে শনিবার (৯ জুলাই)  দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫৭ বস্তা জব্দ দেখিয়ে সিলগালা করেন  ইউএনও পরিমল কুমার সরকার।

উপজেলা সুত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার  দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের পরিবার যাতে সুন্দর ভবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন। সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল উপহার দিয়েছেন। সেই হিসাবে ৪নং দিওড় ইউনিয়নে ৪ হাজার ২’শত পরিরারের জন্য চাল প্রতিবস্তা ৩০ কেজির বস্তা হিসেবে ১হাজার ৪’শত  বস্তা চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিরামপুর উপজেলার ৪ নং দিওড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল প্রতিবস্তা ৩০ কেজি হিসেবে ১হাজার ৪’শত বস্তা চালের মধ্যে ১ হাজার ৩’শত ৪৩ বস্তা চাল দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে কাউকে ৫ কেজি, কাউকে ৩ কেজি করে চাল দেন। সেই সঙ্গে ৫৭ বস্তা চাল আত্মসাৎ এর জন্য রেখে চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক নিজেই বলেন, চাল শেষ হয়ে গেছে।
আর কাউকে চাল দেওয়া যাবে না। আপনারা বাড়ি চলে যান।

কিন্তু, সরকারি ভাবে প্রতিজন কার্ডধারীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও। ওই চেয়ারম্যান সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে কাউকে ৫ কেজি, কাউকে ৩ কেজি করে চাল দেন এবং কেউ কেউ কার্ড থাকলে চাল না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। চাল না পাওয়াই অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহের দানা বাঁধে।

শুক্রবার (৮ জুলাই) রাতে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনসাধারণ ও চাল বঞ্চিত বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়ন পরিষদ ঘিরে রেখে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকারকে ফোনে অভিযোগ করে বলেন,  ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা চাল পাইনি। তারা আরো বলেন, রাতেই এই চালগুলো পাচার করা হবে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার তাৎক্ষণিক ভাবে থানা পুলিশসহ ৪নং দিওড় ইউনিয়ন ঘটনা উপস্থিত হলে হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার কথা মুখে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডলের বিরুদ্ধে রাস্তায় মাটি কাটা লেবার অর্ধেক নিয়োগ দিয়ে বাঁকি অর্ধেক লেবারের টাকা আত্মসাৎ, রাস্তার গাছ কাটা, বিচারের নামে মানুষের কাছে থেকে টাকা নেওয়া, ভিজিডি-ভিজিএফ’র চাল লুটপাট করে খাওয়াসহ অনেক অভিযোগ করে। সেই বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডলের অপসারণের দাবিও তোলেন। তারপর তিনি জনতার উপস্থিতিই ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ঘরে তল্লাশী চালান। তল্লাশী চালিয়ে তিনি পরিষদের সভাকক্ষের ঘর থেকে ৫০ বাস্তা চাল ও ইউপি সচিবের ঘরের ভিতর পায়খানা (টয়লেট) থেকে ৭ বস্তা চাল পান। সব চাল সভাকক্ষের ঘরে রাখা হয়। অতঃপর তিনিই উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা ৫৭ বস্তা চাল পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরর্বতীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না করে শান্ত-শিষ্টভাবে নিজ বাড়ি চলে যান।

শনিবার (৯ জুলাই) বিকেলে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার থানা পুলিশসহ দিনাজপুরে বিরামপুর উপজেলা ৪নং দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত  হয়ে ৫৭ বস্তা চাল জব্দ দেখিয়ে সভাকক্ষের ঘরে রেখে ঘরটি সিলগালা করেন।

এবিষয়ে ৪নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল সঙ্গে মুঠোফোন একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তার বন্ধ ছিল।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে ৫৭ বস্তা চাল জব্দ দেখিয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদের একটি ঘরে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

ঈদ উপহারের ৫৭ বস্তা চাল জব্দ

প্রকাশের সময়: ০৯:২০:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ জুলাই ২০২২

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার উপলক্ষে দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে শনিবার (৯ জুলাই)  দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের ৫৭ বস্তা জব্দ দেখিয়ে সিলগালা করেন  ইউএনও পরিমল কুমার সরকার।

উপজেলা সুত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার  দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের পরিবার যাতে সুন্দর ভবে ঈদ উদযাপন করতে পারেন। সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল উপহার দিয়েছেন। সেই হিসাবে ৪নং দিওড় ইউনিয়নে ৪ হাজার ২’শত পরিরারের জন্য চাল প্রতিবস্তা ৩০ কেজির বস্তা হিসেবে ১হাজার ৪’শত  বস্তা চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়।

সরেজমিনে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) বিরামপুর উপজেলার ৪ নং দিওড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল প্রতিবস্তা ৩০ কেজি হিসেবে ১হাজার ৪’শত বস্তা চালের মধ্যে ১ হাজার ৩’শত ৪৩ বস্তা চাল দরিদ্র, অসহায় ও দুস্থদের মাঝে কাউকে ৫ কেজি, কাউকে ৩ কেজি করে চাল দেন। সেই সঙ্গে ৫৭ বস্তা চাল আত্মসাৎ এর জন্য রেখে চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক নিজেই বলেন, চাল শেষ হয়ে গেছে।
আর কাউকে চাল দেওয়া যাবে না। আপনারা বাড়ি চলে যান।

কিন্তু, সরকারি ভাবে প্রতিজন কার্ডধারীকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও। ওই চেয়ারম্যান সরকারি নিয়মকে তোয়াক্কা না করে কাউকে ৫ কেজি, কাউকে ৩ কেজি করে চাল দেন এবং কেউ কেউ কার্ড থাকলে চাল না পেয়ে বাড়ি ফিরে যান। চাল না পাওয়াই অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও সন্দেহের দানা বাঁধে।

শুক্রবার (৮ জুলাই) রাতে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় জনসাধারণ ও চাল বঞ্চিত বিক্ষুব্ধ জনসাধারণ বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়ন পরিষদ ঘিরে রেখে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকারকে ফোনে অভিযোগ করে বলেন,  ইউনিয়ন পরিষদের অনেক চাল লুকিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা চাল পাইনি। তারা আরো বলেন, রাতেই এই চালগুলো পাচার করা হবে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার তাৎক্ষণিক ভাবে থানা পুলিশসহ ৪নং দিওড় ইউনিয়ন ঘটনা উপস্থিত হলে হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতার কথা মুখে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডলের বিরুদ্ধে রাস্তায় মাটি কাটা লেবার অর্ধেক নিয়োগ দিয়ে বাঁকি অর্ধেক লেবারের টাকা আত্মসাৎ, রাস্তার গাছ কাটা, বিচারের নামে মানুষের কাছে থেকে টাকা নেওয়া, ভিজিডি-ভিজিএফ’র চাল লুটপাট করে খাওয়াসহ অনেক অভিযোগ করে। সেই বিক্ষুব্ধ জনতা চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডলের অপসারণের দাবিও তোলেন। তারপর তিনি জনতার উপস্থিতিই ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ঘরে তল্লাশী চালান। তল্লাশী চালিয়ে তিনি পরিষদের সভাকক্ষের ঘর থেকে ৫০ বাস্তা চাল ও ইউপি সচিবের ঘরের ভিতর পায়খানা (টয়লেট) থেকে ৭ বস্তা চাল পান। সব চাল সভাকক্ষের ঘরে রাখা হয়। অতঃপর তিনিই উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা ৫৭ বস্তা চাল পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে পরর্বতীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনারা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না করে শান্ত-শিষ্টভাবে নিজ বাড়ি চলে যান।

শনিবার (৯ জুলাই) বিকেলে বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার থানা পুলিশসহ দিনাজপুরে বিরামপুর উপজেলা ৪নং দিওড় ইউনিয়ন পরিষদের উপস্থিত  হয়ে ৫৭ বস্তা চাল জব্দ দেখিয়ে সভাকক্ষের ঘরে রেখে ঘরটি সিলগালা করেন।

এবিষয়ে ৪নং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক মন্ডল সঙ্গে মুঠোফোন একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তার বন্ধ ছিল।

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) পরিমল কুমার সরকার বলেন, পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চাল আত্মসাৎ এর অভিযোগে ৫৭ বস্তা চাল জব্দ দেখিয়ে ওই ইউনিয়ন পরিষদের একটি ঘরে সিলগালা করে রাখা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।