গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দিনদিরন কিশোর গ্যাং এর দৌরাত্ন্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘটছে হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক কাণ্ড। এরই মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে পথরোধ করে টানাহেঁচড়ার ঘটনায় ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে অভিভাক। এখন ওই গ্যাংটির ভয়ে ছাত্রীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হওয়ার পথে।
শনিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ছাত্রীর স্বজনরা। তারা জানান, উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের সতীরজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নুর আলম (১৭) ও খোকা মিয়ার ছেলে শাকিল মিয়া (১৬) নামে দুই বখাটের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২ আগস্ট উপজেলার সতীরজান গ্রামের ওই স্কুলছাত্রী কিশোর নুর আলম ও শাকিল মিয়া স্কুলে যাবার পথে প্রায়ই হাত ধরে টানাহেঁচড়াসহ উত্ত্যক্ত করে। এতে ছাত্রীর লেখাপড়ায় অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নুর আলম ও শাকিলের অবিভাবকদের নিকট অবহিত করলে তারা তাদের সন্তানদের শাসন না করে ছাত্রীর বাবাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এদিকে, ওই ছাত্রীর বাবা-মা স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রমোদ চন্দ্রের কাছে এর প্রতিকার চেয়ে বিচার দিতে গেলে ওই ইউপি সদস্য ২০ হাজার টাকা উৎকোচ দাবি করেন। পরে কোন উপায়ন্তর না পেয়ে বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই ছাত্রীর বাবা। অভিযোগ দায়েরের পর অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে দুই বখাটেদের অবিভাবকরা।
ইউপি সদস্য প্রমোদ চন্দ্র টাকা দাবি করার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে বিচার চাইতে এসেছিলেন। সব শুনে আমার মনে হয়েছে ঘটনাটিও পুরোপুরি সত্য নয়।
এ বিষয়ে কথিত কিশোরদের পিতা আব্দুর রাজ্জাকের ও খোকা মিয়ার জানান, ছাত্রী উত্ত্যাক্তের বিষয়টি সম্পন্ন মিথ্যা-বানোয়াট। ছাত্রীর বাবার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত জেরে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ-আল-মারুফ বলেন, এক ছাত্রীকে উত্যক্তের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কঞ্চিবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 



















