তোফায়েল হোসেন জাকির: চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে গাইবান্ধার কৃষকরা আবহাওয়ার প্রতিবন্ধকতার শিকার হচ্ছে। চারা রোপণের বেশীরভাগ সময়ে খরার কবলে পড়েছে। মাঝে-মধ্যে পাচ্ছেন বৃষ্টির পানি। এমন প্রতিকুলতার মধ্যে দিয়েও প্রায় ১ সাড়ে ২৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চারা রোপনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে চাষাবাদ শুরু করছে তারা।
শুক্রবার (১১ আগস্ট) গাইবান্ধার ৭ উপজেলার বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে দেখা গেছে কৃষকদের রোপা আমন চারা রোপণের ব্যস্ততা। কেউ কেউ বৃষ্টির পানিতে আবার অনেকে মেশিনে সেচ দিয়ে কাদা মাটিতে রোপণ করছে স্বপ্নের চারা।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, গত আমন মৌসুমে ১ লাখ ২৯ হাজার ৬৯৯ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছিল। এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ৪৬০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে প্রায় ৫০ ভাগ। অথচ গত বছরের এই সময়ে ৮৫ ভাগ অর্জন হয়েছিল। এবারে পানির অভাবে চরম ব্যাহত হচ্ছে আমন চাষাবাদ।
স্থানীয়রা জানায়, জীবন জীবিকার জন্য গাইবান্ধার অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ জনসাধারণ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি ফসল ঘরে তুলে তাদের মৌলিক চাহিদা পুরণে চেষ্টা করে। এখানে ধান-পাট-ভূট্রা ও সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল উৎপাদন হয়ে থাকে। এসবের মধ্যে সবচেয়ে লাভজনক ফসল হচ্ছে রোপা আমন ধান। তবে আমন চারা রোপণের সময় প্রত্যেক বছরে বন্যা দেখা দিলেও এ বছরে এখনো বন্যার প্রভাব পড়েনি। তাই সম্প্রতি উঁচু এলাকার কৃষকরা আমন ধান চারা রোপণ কাজ পুরোদমে শুরু করেছে। আর কিছুদিন পরই নিচু এলাকার কৃষকরাও রোপণ করবেন আমন চারা। গেল বোরো আবাদে বাড়তি খরচ করে ধান উৎপাদন করেছেন তারা। সেই খরচ পুষিয়ে নিতে প্রস্তুতি নিয়েছেন রোপা আমন ধান আবাদের। কিন্তু মাঠে বৃষ্টির পানি কম থাকায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পলাশবাড়ীর কৃষক নুরুন্নবী মণ্ডল জানান, চলতি আমন মৌসুমে দেড় একর জমিতে ধান চারা রোপনের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। কিন্তু খরা আর বুষ্টির পানি কম থাকায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না তার। বর্তমানে সেচ দিয়ে আড়াই বিঘা জমিতে আমন চাষাবাদ শুরু করছেন।
গোবিন্দগঞ্জের কৃষক আব্দুল খালেক মিয়া বলেন, বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভর করে আমন চাষ করি। কিন্তু সেই পানির অপেক্ষায় থাকার পর কৃত্রিম উপায়ে চারা রোপন করতে হচ্ছে। এতে করে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। এরই মধ্যে বৃষ্টির পানি পাওয়ায় পুরোদমে চাষাবাদ শুরু করা হয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জিয়াউল হক বলেন, এবছরে অতিরিক্ত খরায় কৃষক কিছুটা চিন্তিত। আর আমরা কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকের পাশে থেকে সেচ ইউনিট চালু করে আমন ধান রোপনের পরামর্শ ও বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। তারপরও যদি বীজতলায় চারার বয়স ৩০ দিনের বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে করনীয় বিষয়ে পরমর্শ প্রদান করা হচ্ছে। অধিকাংশ কৃষক বীজতলা থেকে চারা তুলে বলান দিয়েছে। কিছুদিন কৃষকরা বৃষ্টির অপেক্ষায় থাকলেও এখন বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন ধানচারা রোপণ করছেন বলে জানান এই কর্মকর্তা।
গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, যাতে করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয় সে ব্যাপারে কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এর আগে নানা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কৃষকদের জন্য বীজতলা প্রস্তুত রয়েছে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 
























