মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে মাদরাসায় অনুপস্থিত সুপারের একদিনে ১৮ কার্যদিবসের স্বাক্ষর

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মাওলানা মুহা. রেজাউল করিম নামের এক মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একারনে স্থানীদের তোপের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই মাস ধরে অনুপস্থিত থাকেন তিনি। এরপর গোপনে মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা বহিতে একইদিনে ১৮ কার্যদিবসের স্বাক্ষর করেন এই সুপার।

সম্প্রতি উপজেলার ফরিদপুর ইউয়িনের ইসবপুর দ্বি-মূখী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা সুপার রেজাউল করিমের এ ধরণের অপকর্মে এলাকাবাসী ও অভিভাকরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে শুরু নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ইসবপুর দ্বি-মূখী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় সুপারিনটেনডেন্ট মুহা. রেজাউল করিম নিয়োগ বাণিজ্যসহ রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর একেএম আজিজুল বারীর সঙ্গে আতাঁত করে গোপনে অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধির নামে টাকা গ্রহণ ও জেনারেল ফান্ডের অর্থ আত্নসাত করেছেন তিনি। এছাড়াও একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে শোকজ দিয়ে লাখ লাখ টাকা তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে সেই শোকজ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর অবৈধ পন্থায় মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি গোপনে গঠন করেছেন এই সুপার রেজাউল করিম। শুধু তায় নয়, অভিযুক্ত সুপারের ছেলে তানভীরুল ইসলামকে ২০২৫ সালে একইসাথে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী দেখিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে তাকে পাস করিয়ে নিয়েছে। আর এই ছেলেকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে এই সুপার।

এ বিষয়ে অভিভাবক কুদ্দুস শেখ বলেন, ওই সুপার রেজাউল করিমের সিমাহীন অনিয়ম-দুর্ণীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করাসহ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। তবুও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উল্টো থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে প্রতিবাদকারীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন এই সুপার। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি।

অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মুহা. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী সুপার খাইরুল ইসলাম বলেন, সুপার মহোদয় প্রায় দুইমাস ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার পর ১৮ জানুয়ারি এসে হাজিরা বহিতে ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাক্ষর করে গেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হারুন অর রশিদ বলেন, ইসবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি বিধিবর্হিভূতডাবে গঠন করা হয়েছে। তদন্তকালে বিভিন্ন অভিযোগের সঠিকতা আছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ওই মাদরাসা সুপার একইদিনে ১৮ কার্যদিবসের স্বাক্ষর দেওয়া মোটেও ঠিক করেনি। তার দুর্ণীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে মাদরাসায় অনুপস্থিত সুপারের একদিনে ১৮ কার্যদিবসের স্বাক্ষর

প্রকাশের সময়: ০৪:০৮:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মাওলানা মুহা. রেজাউল করিম নামের এক মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একারনে স্থানীদের তোপের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানে প্রায় দুই মাস ধরে অনুপস্থিত থাকেন তিনি। এরপর গোপনে মাদরাসায় উপস্থিত হয়ে হাজিরা বহিতে একইদিনে ১৮ কার্যদিবসের স্বাক্ষর করেন এই সুপার।

সম্প্রতি উপজেলার ফরিদপুর ইউয়িনের ইসবপুর দ্বি-মূখী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসা সুপার রেজাউল করিমের এ ধরণের অপকর্মে এলাকাবাসী ও অভিভাকরা চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাদের মধ্যে শুরু নানা মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ইসবপুর দ্বি-মূখী ইসলামীয়া দাখিল মাদরাসায় সুপারিনটেনডেন্ট মুহা. রেজাউল করিম নিয়োগ বাণিজ্যসহ রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর একেএম আজিজুল বারীর সঙ্গে আতাঁত করে গোপনে অবৈধভাবে ম্যানেজিং কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। সেইসঙ্গে শিক্ষকদের বেতন স্কেল বৃদ্ধির নামে টাকা গ্রহণ ও জেনারেল ফান্ডের অর্থ আত্নসাত করেছেন তিনি। এছাড়াও একাধিক শিক্ষক-কর্মচারীকে শোকজ দিয়ে লাখ লাখ টাকা তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়ে সেই শোকজ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তিনি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ অক্টোবর অবৈধ পন্থায় মাদরাসার ম্যানেজিং কমিটি গোপনে গঠন করেছেন এই সুপার রেজাউল করিম। শুধু তায় নয়, অভিযুক্ত সুপারের ছেলে তানভীরুল ইসলামকে ২০২৫ সালে একইসাথে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার্থী দেখিয়ে প্রক্সির মাধ্যমে তাকে পাস করিয়ে নিয়েছে। আর এই ছেলেকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করছে এই সুপার।

এ বিষয়ে অভিভাবক কুদ্দুস শেখ বলেন, ওই সুপার রেজাউল করিমের সিমাহীন অনিয়ম-দুর্ণীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ করাসহ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। তবুও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উল্টো থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে প্রতিবাদকারীদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছেন এই সুপার। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি।

অভিযুক্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা মুহা. রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সহকারী সুপার খাইরুল ইসলাম বলেন, সুপার মহোদয় প্রায় দুইমাস ধরে প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার পর ১৮ জানুয়ারি এসে হাজিরা বহিতে ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত স্বাক্ষর করে গেছেন।

উপজেলা মাধ্যমিক অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার হারুন অর রশিদ বলেন, ইসবপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি বিধিবর্হিভূতডাবে গঠন করা হয়েছে। তদন্তকালে বিভিন্ন অভিযোগের সঠিকতা আছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, ওই মাদরাসা সুপার একইদিনে ১৮ কার্যদিবসের স্বাক্ষর দেওয়া মোটেও ঠিক করেনি। তার দুর্ণীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।