সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কৃষকের স্বপ্নের ফসল ইঁদুরের পেটে

কৃষক শাহানুর মিয়া (৫৫)। মাঠে আছে ৩০ শতক জমি। পরিবারের অন্ন যোগানোর স্বপ্নে সেই জমিতে আবাদ করেছেন রোপা আমন ধান। ইতোমধ্যে পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ শেষে ধানগাছ থোড় হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ইঁদুরের আক্রমণ। এতে করে ক্ষেতে ফসল কেটে সাবাড় করছে রাক্ষুসে ইঁদুর।

সরেজমিনে গাইবান্ধার জামালপুর ইউনিয়নের বড় জামালপুর (পুর্বপাড়া) গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে শাহানুর মিয়া জমিতে দেখা গেছে ধানক্ষেতে ইঁদুর আক্রমণের দৃশ্য। এসময় নষ্ট হওয়া ধানগাছগুলো কাঁধে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় তাকিয়েছিলেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু শাহানুর মিয়াই নন। গাইবান্ধা জেলার অধিকাংশ মানুষ ধান ফসলের ওপর নির্ভশীল। এ থেকে পরিবারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন তারা। চলতি মৌসুমে খরার কবলে পড়ে সেচ দিয়ে রোপণ করতে হয়েছে আমন চারা। এরপর পরিচর্যা শেষে কতিপয় কৃষকরে জমিতে দেখা দেয় পোকা-মাকড় ও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ। এ থেকে সার-কিটনাশক প্রয়োগে কিছুটা রক্ষা পায় কৃষকরা। এতে করে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। এরই মধ্যে কয়েকদিনের বর্ষণের পানি জমে এবং নেমে গেলে শুরু হয় রাক্ষুসে ইঁদুরের উপদ্রুপ। দিনশেষে সন্ধ্যায় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই বিশালাকৃতির ইঁদুরের দল ধানগাছ কেটে সাবাড় করছে। এতে করে ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় ইঁদুর দমনের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কোন ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহানুর মিয়া বলেন, পরিবারের চাহিদা মেটাতে ৩০ শতক জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করেছি। এই ক্ষেতে নানা দুর্যোগের ধকল সামলিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়েছে ইঁদুরের উপদ্রুপ। এসব ইঁদুরের তান্ডপে জমির প্রায় ৩০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে।  ইঁদুরগুলো মারতে কিটনাশক ও অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করেও তেমন কোন কাজ হচ্ছে না।

আরেক কৃষক হজরত আলী প্রামানিক বলেন, আমার জমিতে ইঁদুর দমনে বাঁশের ফাঁদ পাতানো হয়েছে। এছাড়া রাতের বেলায় টিনের শব্দ বাজিয়ে ও টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ইঁদুর তাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জানান, ধানক্ষেতের ইঁদুর নিধনের ব্যাপারে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে মাঠেপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকের স্বপ্নের ফসল ইঁদুরের পেটে

প্রকাশের সময়: ০৭:৫১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৩

কৃষক শাহানুর মিয়া (৫৫)। মাঠে আছে ৩০ শতক জমি। পরিবারের অন্ন যোগানোর স্বপ্নে সেই জমিতে আবাদ করেছেন রোপা আমন ধান। ইতোমধ্যে পরিচর্যা ও সার প্রয়োগ শেষে ধানগাছ থোড় হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ইঁদুরের আক্রমণ। এতে করে ক্ষেতে ফসল কেটে সাবাড় করছে রাক্ষুসে ইঁদুর।

সরেজমিনে গাইবান্ধার জামালপুর ইউনিয়নের বড় জামালপুর (পুর্বপাড়া) গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে শাহানুর মিয়া জমিতে দেখা গেছে ধানক্ষেতে ইঁদুর আক্রমণের দৃশ্য। এসময় নষ্ট হওয়া ধানগাছগুলো কাঁধে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় তাকিয়েছিলেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুধু শাহানুর মিয়াই নন। গাইবান্ধা জেলার অধিকাংশ মানুষ ধান ফসলের ওপর নির্ভশীল। এ থেকে পরিবারের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন তারা। চলতি মৌসুমে খরার কবলে পড়ে সেচ দিয়ে রোপণ করতে হয়েছে আমন চারা। এরপর পরিচর্যা শেষে কতিপয় কৃষকরে জমিতে দেখা দেয় পোকা-মাকড় ও ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ। এ থেকে সার-কিটনাশক প্রয়োগে কিছুটা রক্ষা পায় কৃষকরা। এতে করে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা ছিল। এরই মধ্যে কয়েকদিনের বর্ষণের পানি জমে এবং নেমে গেলে শুরু হয় রাক্ষুসে ইঁদুরের উপদ্রুপ। দিনশেষে সন্ধ্যায় ঘনিয়ে আসার সাথে সাথেই বিশালাকৃতির ইঁদুরের দল ধানগাছ কেটে সাবাড় করছে। এতে করে ফসল নষ্ট হয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় ইঁদুর দমনের জন্য কৃষি বিভাগ থেকে কোন ধরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক শাহানুর মিয়া বলেন, পরিবারের চাহিদা মেটাতে ৩০ শতক জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করেছি। এই ক্ষেতে নানা দুর্যোগের ধকল সামলিয়ে উঠতে না উঠতেই শুরু হয়েছে ইঁদুরের উপদ্রুপ। এসব ইঁদুরের তান্ডপে জমির প্রায় ৩০ ভাগ ফসল নষ্ট হয়েছে।  ইঁদুরগুলো মারতে কিটনাশক ও অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করেও তেমন কোন কাজ হচ্ছে না।

আরেক কৃষক হজরত আলী প্রামানিক বলেন, আমার জমিতে ইঁদুর দমনে বাঁশের ফাঁদ পাতানো হয়েছে। এছাড়া রাতের বেলায় টিনের শব্দ বাজিয়ে ও টর্চ লাইট জ্বালিয়ে ইঁদুর তাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক খোরশেদ আলম জানান, ধানক্ষেতের ইঁদুর নিধনের ব্যাপারে প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে মাঠেপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।