শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় মাটি উত্তোলন করে রাস্তা নির্মাণে ঝুঁকিতে নবনির্মিত সেতু 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভুল্লি নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে ওই সেতুর সংযোগ রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভুল্লি নদীর উপর ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৬ টাকা। ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ও রাস্তা নির্মাণের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম (জিভি)। কাজটি পেয়ে নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর থেকে হেলিপ্যাড ইউজেড সদর দপ্তর রাস্তায় ভুল্লি নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে ওই সেতুর রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। ব্রিজের নিচ থেকে ভেকু দিয়ে (খনন যন্ত্র) মাটি খনন করায় উদ্বোধন না হওয়া ব্রিজটি ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে ব্রিজের নিচে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও যে কোনো সময় ব্রিজের নিচের মাটি ধ্বসে পড়ে দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই এলাকার মাসুম ইসলাম এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, জাহাঙ্গীরপুর মৌজার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ভুল্লি নদী। যা সরকারি খাস জমি। ওই জমির পাশে আমার নিজস্ব জমি রয়েছে। এ নদী হতে মো. লিটন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আমার জমির পার্শ্ববর্তী জমি থেকে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। মাটি খনন ও উত্তোলন করার কারণে সেখানে গভীর খালের সৃষ্টি হয়েছে। এ মাটি উত্তোলন বন্ধ না হলে নবনির্মিত ব্রিজ ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে। স্থানীয়রা আরো বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ঠিকাদার নিয়ম না মেনে সেতুর নিচ থেকে মাটি তুলে ওই সেতুর সড়ক নির্মাণ করছেন। মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়কসহ সেতু নির্মাণের কাজ। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা।
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৪ নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে-বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ধারার খ-উপধারায় উল্লেখ রয়েছে-সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বালু বা মাটি তোলা নিষিদ্ধ। অথচ এ আইন না মেনে সেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মাসুম ইসলাম।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম (জিভি)’র স্বত্বাধিকারী ফয়জুল বলেন, ব্যাচ ঢালাই পর্যন্ত আমার নিজস্ব মাটি ছিল। সেখান থেকে সে মাটি উঠিয়েছি। এর বাইরে আমি মাটি উত্তোলন করিনি। আমি যে মাটি বা বালু ব্রিজ নির্মাণের জন্য ফেলেছি ওইখানে ওটাই বের করেছি। আমার তো আইন জানার প্রয়োজন নাই যে, আমি কত কিলোমিটার পর্যন্ত খুঁড়তে পারবো?
উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা শাহ্ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমার জানামতে ব্রিজের পাশে জমির মাটি কিনে রাস্তা করছে। সেখানে সে গর্ত করেছিল সেই গর্তের মাটি রাস্তায় দিচ্ছে। সেটা আমি নিজে গিয়ে দেখেছি। এরপর আমি তাকে মাটি কাটতে নিষেধ করলে সে তা বন্ধ করে দেয়। সে তার নিজস্ব মাটি রাস্তায় দিতে পারবে কিন্তু দু’পাশের জমির উপরে লেভেলের মাটি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপরেও যদি মাটি কাটে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। যদি অনিয়ম করে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

খানসামায় মাটি উত্তোলন করে রাস্তা নির্মাণে ঝুঁকিতে নবনির্মিত সেতু 

প্রকাশের সময়: ০৫:১৫:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৪
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভুল্লি নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে ওই সেতুর সংযোগ রাস্তা নির্মাণের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভুল্লি নদীর উপর ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩২৬ টাকা। ৬০ মিটার দৈর্ঘ্যের আরসিসি গার্ডার ও রাস্তা নির্মাণের কাজ পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম (জিভি)। কাজটি পেয়ে নির্মাণ কাজ করছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর থেকে হেলিপ্যাড ইউজেড সদর দপ্তর রাস্তায় ভুল্লি নদীর উপর নির্মিত ব্রিজের নিচ থেকে মাটি উত্তোলন করে ওই সেতুর রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় লোকজন। ব্রিজের নিচ থেকে ভেকু দিয়ে (খনন যন্ত্র) মাটি খনন করায় উদ্বোধন না হওয়া ব্রিজটি ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে ব্রিজের নিচে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়াও যে কোনো সময় ব্রিজের নিচের মাটি ধ্বসে পড়ে দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ওই এলাকার মাসুম ইসলাম এলাকাবাসীর পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন বন্ধের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, জাহাঙ্গীরপুর মৌজার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে ভুল্লি নদী। যা সরকারি খাস জমি। ওই জমির পাশে আমার নিজস্ব জমি রয়েছে। এ নদী হতে মো. লিটন ইসলাম নামে এক ব্যক্তি আমার জমির পার্শ্ববর্তী জমি থেকে অবৈধভাবে ভেকু দিয়ে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। মাটি খনন ও উত্তোলন করার কারণে সেখানে গভীর খালের সৃষ্টি হয়েছে। এ মাটি উত্তোলন বন্ধ না হলে নবনির্মিত ব্রিজ ও আবাদি জমির ব্যাপক ক্ষতি হবে। স্থানীয়রা আরো বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে ঠিকাদার নিয়ম না মেনে সেতুর নিচ থেকে মাটি তুলে ওই সেতুর সড়ক নির্মাণ করছেন। মেয়াদ শেষ হলেও শেষ হয়নি সড়কসহ সেতু নির্মাণের কাজ। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারীরা।
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ এর ৪ নং ধারায় উল্লেখ রয়েছে-বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, চা-বাগানের ছড়া বা নদীর তলদেশ থেকে বালু বা মাটি উত্তোলন করা যাবে না। এ ধারার খ-উপধারায় উল্লেখ রয়েছে-সেতু, কালভার্ট, ড্যাম, ব্যারেজ, বাঁধ, সড়ক, মহাসড়ক, বন, রেললাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা অথবা আবাসিক এলাকা থেকে সর্বনিম্ন এক কিলোমিটার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সীমানার মধ্যে বালু বা মাটি তোলা নিষিদ্ধ। অথচ এ আইন না মেনে সেতুর নিচ থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মাসুম ইসলাম।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম (জিভি)’র স্বত্বাধিকারী ফয়জুল বলেন, ব্যাচ ঢালাই পর্যন্ত আমার নিজস্ব মাটি ছিল। সেখান থেকে সে মাটি উঠিয়েছি। এর বাইরে আমি মাটি উত্তোলন করিনি। আমি যে মাটি বা বালু ব্রিজ নির্মাণের জন্য ফেলেছি ওইখানে ওটাই বের করেছি। আমার তো আইন জানার প্রয়োজন নাই যে, আমি কত কিলোমিটার পর্যন্ত খুঁড়তে পারবো?
উপজেলা প্রকৌশল কর্মকর্তা শাহ্ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমার জানামতে ব্রিজের পাশে জমির মাটি কিনে রাস্তা করছে। সেখানে সে গর্ত করেছিল সেই গর্তের মাটি রাস্তায় দিচ্ছে। সেটা আমি নিজে গিয়ে দেখেছি। এরপর আমি তাকে মাটি কাটতে নিষেধ করলে সে তা বন্ধ করে দেয়। সে তার নিজস্ব মাটি রাস্তায় দিতে পারবে কিন্তু দু’পাশের জমির উপরে লেভেলের মাটি নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এরপরেও যদি মাটি কাটে তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. তাজ উদ্দিন বলেন, আমি বিষয়টি অবগত নই। যদি অনিয়ম করে থাকে তাহলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।