শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ১২:৩৯ অপরাহ্ন

ফেব্রুয়ারিজুড়ে তিনগুণ আয়ের স্বপ্ন ফুলচাষির

তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪

গাইবান্ধা জেলার ফুলের এলাকা হিসেবে পরিচিতি সাদুল্লাপুর উপজেলা। এখানকার বিভিন্ন ইউনিয়নে অর্ধযুগ ধরে ফুলচাষে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। তাদের সারা বছরের ফসল হিসেবে ফুল বিক্রির অন্যতম মাস ফেব্রুয়ারি। এ মাসে রোজ ডে থেকে শুরু করে উদযাপন হয় বিভিন্ন ধরণের ভালোবাসা দিবস। আর এসব দিবসগুলোতে বেড়ে যায় হরেক ফুলের চাহিদা। ফুলপ্রেমিদের এই চাহিদা পূরণের লক্ষে ওই মাসই তিনগুণ আয়ের স্বপ্ন দেখছেন প্রান্তিক কৃষক।

সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার কাঁঠাল লক্ষীপুর, আমবাগান, তাজনগর, খোর্দ্দ কোমরপুর, রাঘবেন্দপুর, পশ্চিম দামোদরপুর ও চকনদীসহ বিভিন্ন মাঠে দেখা গেছে ফুলচাষিদের ব্যস্ততা। এসব স্থানে দিগন্তজুড়ে নজর কাড়ছে হরেক ফুলের সমাহার।

সম্প্রতি ওইসব এলাকায় ফুলের ঘ্রাণে মাতোয়ারা হয়ে উঠেছে। আসছে বসন্তবরণ, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, মাতৃভাষা দিবসসহ বিভিন্ন দিবস। এ উপলক্ষে চাষিদের খেতে শোভাবর্ধনে দুলছে হরেক রকম ফুল। আর এই ফুলের ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশ এলাকায়।

জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার ওই এলাকাস্থ দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ করা হচ্ছে নানা ধরণের ফুল। বিশেষ করে ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগরসহ কয়েকটি গ্রামের মাঠ এখন অর্থকরী ফসল হিসেবে গোলাপ, গ্লাডিওলাস, গাধাসহ অন্যান্য ফুলচাষ করা হচ্ছে। সারা বছরের ফসল হিসেবে বেশ লাভজনক হওয়ায় ফুলচাষেই অধিক মাত্রায় ঝুঁকে পড়ছেন এখানকার কৃষক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চকনদী গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান তার দেড়বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের গোলাপ, গ্লাডিওলাস, গাধাফুল চাষ করেছে। তিন বছর ধরে ফুলচাষে অর্থনৈতিক দিক থেকে যথেষ্ট স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। এর ফলে আগামী বছর নতুন করে আরও বেশি জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তিনি।

তাজনগর গ্রামের কৃষক শাহীন মিয়া ফুল উৎপাদন করে আসছেন কয়েক বছর বছর যাবৎ। নিজ জমিতে বিভিন্ন জাতের ফুল উৎপাদন করছেন তিনি। তার উৎপাদিত ফুলের মধ্যে রয়েছে, রজনীগন্ধা, ডালিয়া, গোলাপ, সূর্যমুখী, গাধা, জারবারা (ইন্ডিয়া)। এ থেকে অনেকটাই লাভবান তিনি। তার এই সাফল্যে ওই গ্রামের অন্যান্য কৃষকরাও এ বছর ফুল চাষ করেছে।

কাঁঠাল লক্ষীপুর গ্রামের কৃষক আরিফ মিয়া নামের ফুলচাষি জানান, সাধারণত একটি গোলাপ ১০ টাকা দরে পাইকারী বিক্রি করা হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা প্রতিটি ১২ থেকে ১৫ টাকা মূল্যে বিক্রি করেন। তবে বিশেষ মৌসুমে যেমন- ফেব্রুয়ারি মাসের প্রপোজ ডে, ভালবাসা দিবস, মাতৃভাষা দিবসসহ, বিভিন্ন দিবসে একটি গোলাপ বাগান থেকেই বিক্রি হয় ১৫ টাকায়। যা দোকানে খুচরা বিক্রি হয় ১৯ থেকে ২০ টাকা দরে। এ মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফুল বিক্রি করে তিনগুণ লাভের স্বপ্ন দেখছেন। তবে কৃষি বিভাগের কোন সহযোগিতা পান না বলে জানান এই কৃষক।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, এ উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুলের আবাদ হয়ে আসছে। এ থেকে অল্প খরচে অধিক লাভ থাকছে কৃষকদের। তাদের আরও লাভবান করতে সার্বিক পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক খোরশেদ আলম বলেন, এলাকার মাটি ফুল চাষে অত্যন্ত উপযোগী। একারণে বেশি ফলন পাওয়ায় ফুলচাষ করে যথেষ্ট লাভবান হতে পারছেন কৃষক। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দিবসকে সামনে রেখে কৃষকরা ক্ষেতের ফুলগুলো ম্যাকিং করা শুরু করেছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন