শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় প্রথম রঙিন ফুলকপি চাষ

সাদা ফুলকপির সঙ্গে সকলেই পরিচিত হলেও এই প্রথম খানসামা উপজেলায় রঙিন ফুলকপির চাষ হয়েছে। এসব ফুলকপি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও সুস্বাদু। রোগ প্রতিরোধ সম্পন্ন ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে ২০ শতক জমিতে সোনালী রঙের ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষক আবুল কালাম আজাদ। এতে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় এলাকায় বেশ সাড়া পড়েছে।

জানা গেছে, উপজেলায় এবারই প্রথম চাষ করা হয়েছে ভ্যান্টেলিনা জাতের রঙিন ফুলকপি। রঙিন জাতের এই ফুলকপিগুলোর দাম সাধারণ ফুলকপির চেয়ে বেশি। তবে দেখে মনে হতে পারে সাদা ফুলকপির ওপর রঙ দেয়া হয়েছে। নতুন এ ফুলকপি দেখতে প্রতিদিন মানুষ ক্ষেতে ভিড় করছেন। খানসামা থেকে চৌরঙ্গী মূল সড়কের সিফনি ভাটা নামক জায়গায় থেকে কৃষক আবুল কালাম আজাদের ক্ষেতে তাকালেই নজরে পড়বে সবুজ পাতায় মোড়ানো ফুলকপি। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখলেই নজরে আসবে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সোনালী রঙের ফুলকপি। যেটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

রঙিন ফুলকপি চাষী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০ শতক জমিতে চাষ, বীজ, সার ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অন্যদিকে এই জমির প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার পিস রঙিন ফুলকপি রয়েছে। যা বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৩৮-৪০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। রঙিন ফুলকপি চাষে রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার বেশী ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উচ্চ মূল্যের নিরাপদ সবজি উৎপাদন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষি বিভাগের বীজ, সার ও উপকরণ সহায়তায় নতুন জাতের এই রঙিন ফুলকপি চাষ হয়েছে। যা এ উপজেলায় প্রথম চাষ হয়েছে।

রঙিন ফুলকপি ক্ষেত পরিদর্শন করেন দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান। এই সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুণ কুমার রায় ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পৃথ্বীরাজ রায় উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার বলেন, নতুন এই জাতের রঙিন ফুলকপি পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে। সেই সাথে অল্প পুঁজিতে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন। এজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বিক বিষয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।

দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ জাত সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি বাজারে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ সবজি পাবেন ভোক্তারা।

খানসামায় প্রথম রঙিন ফুলকপি চাষ

প্রকাশের সময়: ০৫:৩০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

সাদা ফুলকপির সঙ্গে সকলেই পরিচিত হলেও এই প্রথম খানসামা উপজেলায় রঙিন ফুলকপির চাষ হয়েছে। এসব ফুলকপি দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি খেতেও সুস্বাদু। রোগ প্রতিরোধ সম্পন্ন ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে ২০ শতক জমিতে সোনালী রঙের ফুলকপি চাষ করেছেন কৃষক আবুল কালাম আজাদ। এতে স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ হওয়ায় এলাকায় বেশ সাড়া পড়েছে।

জানা গেছে, উপজেলায় এবারই প্রথম চাষ করা হয়েছে ভ্যান্টেলিনা জাতের রঙিন ফুলকপি। রঙিন জাতের এই ফুলকপিগুলোর দাম সাধারণ ফুলকপির চেয়ে বেশি। তবে দেখে মনে হতে পারে সাদা ফুলকপির ওপর রঙ দেয়া হয়েছে। নতুন এ ফুলকপি দেখতে প্রতিদিন মানুষ ক্ষেতে ভিড় করছেন। খানসামা থেকে চৌরঙ্গী মূল সড়কের সিফনি ভাটা নামক জায়গায় থেকে কৃষক আবুল কালাম আজাদের ক্ষেতে তাকালেই নজরে পড়বে সবুজ পাতায় মোড়ানো ফুলকপি। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখলেই নজরে আসবে সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে সোনালী রঙের ফুলকপি। যেটি ইতিমধ্যেই ব্যাপক আলোচিত হয়েছে।

রঙিন ফুলকপি চাষী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ২০ শতক জমিতে চাষ, বীজ, সার ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় ৬-৭ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। অন্যদিকে এই জমির প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার পিস রঙিন ফুলকপি রয়েছে। যা বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় ৩৮-৪০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। রঙিন ফুলকপি চাষে রাসায়নিক সারের চেয়ে জৈব সার বেশী ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উচ্চ মূল্যের নিরাপদ সবজি উৎপাদন প্রদর্শনীর মাধ্যমে কৃষি বিভাগের বীজ, সার ও উপকরণ সহায়তায় নতুন জাতের এই রঙিন ফুলকপি চাষ হয়েছে। যা এ উপজেলায় প্রথম চাষ হয়েছে।

রঙিন ফুলকপি ক্ষেত পরিদর্শন করেন দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান। এই সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার, উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা অরুণ কুমার রায় ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পৃথ্বীরাজ রায় উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার বলেন, নতুন এই জাতের রঙিন ফুলকপি পুষ্টি চাহিদা পূরণ করবে। সেই সাথে অল্প পুঁজিতে কৃষকরা অধিক লাভবান হবেন। এজন্য উপজেলা কৃষি বিভাগ সার্বিক বিষয়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছে।

দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান বলেন, পুষ্টি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ জাত সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। এতে কৃষকরা যেমন লাভবান হবে তেমনি বাজারে পুষ্টি সমৃদ্ধ ও নিরাপদ সবজি পাবেন ভোক্তারা।