গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানির ব্রহ্মপুত্র নদী, ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট ব্রহ্মপুত্র নদী, ফুলছড়ির যমুনা নদীতে অনুষ্ঠিত হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান। এসব স্থানে গাইবান্ধা শহর, সুন্দরগঞ্জ, বগুড়া সহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীরা পাপ মোচন ও পুর্ণ লাভের আসায় স্নান করতে আসেন। স্নান করে তারা দই দিয়ে চিরা, মুড়ি, খৈ আহার করে।
স্নান উৎসব নির্বিঘ্ন করতে কামারজানিতে ছিলনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি।
এটি পুণ্যার্থীদের জন্য পবিত্র দিন বলে জানিয়েছে স্নান উৎসব কমিটি। কমিটির সহ সভাপতি তপন কুমার এনি বলেন, ‘ এ বছর দুই লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর আগমন ঘটবে বলে আমরা ধারণা করছি। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অষ্টমীর স্নান উপলক্ষে মহিলাদের জন্য ছিল কাপড় ছাড়ার জন্য আলাদা ব্যবস্থা। ব্রহ্মপুত্র নদের বালুর ওপর তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন দোকান, স্টল, বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা ও টয়লেট।
ভোরে ‘হে ব্রহ্মপুত্র মহাভাগ শান্তর্ণ কুলনন্দর্ণ অমুঘা গর্ভ সন্তুতো পাপষ লৌহিত মে হরো’ অর্থাৎ ‘হে ব্রহ্মপুত্র মহাভাগত মোর পাপ মোচন করো’ মন্ত্র পড়ে পুণ্যার্থীরা স্নানকার্য সম্পাদন করবেন। প্রতিবছর শুক্লপক্ষের অষ্টমী তিথিতে কামারজানির ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ঐতিহ্যবাহী এই অষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে দূর-দূরান্ত থেকে খুদে ব্যবসায়ীরা চলে এসেছেন কামারজানির নদীর তীরে। প্রায় ১ কিলোমিটার পর্যন্ত বালুর ওপর তৈরি হয়েছে নানা রকম পণ্যের স্টল। নদীর কূল ধরে বসেছে বিভিন্ন রকমের দোকানপাট। মাটির জিনিসপত্র তো আছেই; এর পাশাপাশি উঠেছে মাটির তৈরি বিভিন্ন দেব-দেবীর মূর্তি, পুতুল, বাঘ, আম, নৌকা, খুরমা বাতাসা, চিনির তৈরি জীবজন্তুর প্রতিকৃতির শ্বাস, তাঁরা হাঁড়ি-পাতিল সহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য।
গাইবান্ধা শনি মন্দিরে পুরোহিত সুমন চক্রবর্তী বলেন- মঙ্গলবার ভোররাত থেকে স্নান শুরু হয়ে বিকেল ৪টা ৫৬ মিনিট পর্যন্ত চলে এই স্নান। পুর্ণ লাভের আশায় ভক্তবৃন্দরা এই স্নান করেন।
সঞ্জয় সাহা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















