বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১ টাকায় মিলছে ১ কেজি শসা

দিনাজপুরের খাননাসায় লাভের আশায় ব্যাপক শসা চাষ করেছেন কৃষকেরা। ক্ষেতে শসার ফলন হয়েছে ভালো। প্রতি রমজান মাসের মতো এবারও শসার ব্যাপক চাহিদা ও বাজারদর ভালো ছিল। এতে চাষিদের মুখে হাসির ঝলক দেখা দেয়। কিন্তু রমজান মাস শেষ হওয়ার পর পরই হাট-বাজারে যাওয়ার পথে যে হাসি লেগেছিল কৃষকদের মুখে সেই মিলিয়ে যায় পাইকারদের দাম শুনে। শসার দাম একেবারেই কমে গেছে। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় শসা চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
কয়েকজন শসা চাষি জানান, রমজান মাসের শুরুতে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি শসা ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। ১০-১৫ দিন পূর্বেও বাজারে শসার দাম ভালো ছিল। গত সপ্তাহ থেকে দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় ক্ষেত থেকে কৃষকদের নিকট পাইকাররা প্রতিকেজি শসা  ১-২ টাকা দরে কিনছেন। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা দরে। এতে লোকসান গুণছেন শসা চাষিরা।
উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের আগ্রা গ্রামের কৃষক এনামুল হক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে সবজির দাম ভালো থাকায় বুক ভরা আশা নিয়ে শসা চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে শসা চাষ করতে ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেতে শসার আশানুরুপ ফলনও হয়েছে।  দাম ভালো পাবো বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু আমার সেই আশায় গুড়ে বালি। রমজান মাস শেষে পাইকাররা আর শসা কিনতে চাচ্ছেন না। এরই মধ্যে আমাকে শসা চাষ করে ৩০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। এখন এক টাকা দরে প্রতিকেজি শসা বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক মুন্না ইসলাম জানান, এ সময়ে ফসল উৎপাদনে অনেক মেধা, শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়। বর্তমানে ৫০ কেজির এক বস্তা শসা মাত্র ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শসার ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারে দাম ভালো না থাকায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারছি না। এ জন্য শসা তুলে ফেলে ওই জমিতে অন্য ফসল চাষ করব।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের চাষি রশিদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর এক একর জমিতে শসা লাগিয়েছেন। এতে তাঁর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে এখন যে শসার দাম, তাতে শ্রমিকদের মজুরি খরচই উঠছে না।
পাইকারি ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ জানান, বাজারে শসার ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা না থাকায় শসার দাম নেই বললেই চলে। আজকে কৃষকের নিকট ১ টাকা দরে প্রতিকেজি শসা কিনেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এ বছর উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০-৫০ শতাংশ জমির ফসল তোলা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে বাজারে শসার সরবরাহ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

১ টাকায় মিলছে ১ কেজি শসা

প্রকাশের সময়: ০৭:৪৭:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪
দিনাজপুরের খাননাসায় লাভের আশায় ব্যাপক শসা চাষ করেছেন কৃষকেরা। ক্ষেতে শসার ফলন হয়েছে ভালো। প্রতি রমজান মাসের মতো এবারও শসার ব্যাপক চাহিদা ও বাজারদর ভালো ছিল। এতে চাষিদের মুখে হাসির ঝলক দেখা দেয়। কিন্তু রমজান মাস শেষ হওয়ার পর পরই হাট-বাজারে যাওয়ার পথে যে হাসি লেগেছিল কৃষকদের মুখে সেই মিলিয়ে যায় পাইকারদের দাম শুনে। শসার দাম একেবারেই কমে গেছে। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না। ন্যায্য দাম না পাওয়ায় শসা চাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
কয়েকজন শসা চাষি জানান, রমজান মাসের শুরুতে পাইকারি বাজারে প্রতিকেজি শসা ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি করেন। ১০-১৫ দিন পূর্বেও বাজারে শসার দাম ভালো ছিল। গত সপ্তাহ থেকে দাম কমতে শুরু করে। বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় ক্ষেত থেকে কৃষকদের নিকট পাইকাররা প্রতিকেজি শসা  ১-২ টাকা দরে কিনছেন। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা দরে। এতে লোকসান গুণছেন শসা চাষিরা।
উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের আগ্রা গ্রামের কৃষক এনামুল হক জানান, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে সবজির দাম ভালো থাকায় বুক ভরা আশা নিয়ে শসা চাষ করেছি। এক বিঘা জমিতে শসা চাষ করতে ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ক্ষেতে শসার আশানুরুপ ফলনও হয়েছে।  দাম ভালো পাবো বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু আমার সেই আশায় গুড়ে বালি। রমজান মাস শেষে পাইকাররা আর শসা কিনতে চাচ্ছেন না। এরই মধ্যে আমাকে শসা চাষ করে ৩০ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে। এখন এক টাকা দরে প্রতিকেজি শসা বিক্রি করতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক মুন্না ইসলাম জানান, এ সময়ে ফসল উৎপাদনে অনেক মেধা, শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়। বর্তমানে ৫০ কেজির এক বস্তা শসা মাত্র ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। শসার ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজারে দাম ভালো না থাকায় উৎপাদন খরচও তুলতে পারছি না। এ জন্য শসা তুলে ফেলে ওই জমিতে অন্য ফসল চাষ করব।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানগড় গ্রামের চাষি রশিদুল ইসলাম জানান, তিনি এ বছর এক একর জমিতে শসা লাগিয়েছেন। এতে তাঁর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে এখন যে শসার দাম, তাতে শ্রমিকদের মজুরি খরচই উঠছে না।
পাইকারি ব্যবসায়ী নুর মোহাম্মদ জানান, বাজারে শসার ব্যাপক সরবরাহ রয়েছে। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা না থাকায় শসার দাম নেই বললেই চলে। আজকে কৃষকের নিকট ১ টাকা দরে প্রতিকেজি শসা কিনেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হাবিবা আক্তার জাগো২৪.নেট-কে বলেন, এ বছর উপজেলায় ৫০ হেক্টর জমিতে শসা চাষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪০-৫০ শতাংশ জমির ফসল তোলা হয়েছে। চাহিদার বিপরীতে বাজারে শসার সরবরাহ কয়েক গুণ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। এতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।