বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কোটি টাকা নিয়ে উধাও, ঘর মালিকের নেই এনজিও কর্মীদের তথ্য

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে নিরীহ লোকদেরকে কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে “কাশফুল ফাউন্ডেশন” নামের একটি এনজিও। উপজেলাসহ পৌরসভার প্রায় পাঁচশতাধিক গ্রাহকের অনন্ত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক সংস্থাটি। ঘর মালিকের কাছে কোনো তথ্য নেই লাপাত্তা সংস্থাটির কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর। আর এই প্রতারনার শিকার হয়ে দিশেহারা এখন ভুক্তভোগীরা।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভার পূর্ব বাইপাস মোড় থেকে গাইবান্ধা সড়ক ধরে ৫০০ গজ দূরে (ঠেংগা মারার পুরাতন অফিস) নোমান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নেয় কাশফুল ফাউন্ডেশন নামের তথাকথিত এ এনজিও। সপ্তাহব্যাপী পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সহজ শর্তে ঋাণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহক সংগ্রহ করে। সদস্যর নাম অন্তরভুক্ত ও ঋণ ভেদে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা গ্রহন করেন। কথা ছিল, চলতি মাসেই গ্রাহকদের ঋাণ দেওয়া হবে। ঋান নিতে এসে গ্রাহকরা দেখতে পান, এনজিও’র অফিস তালাবদ্ধ। এ সময় ২০ থেকে ৩০জন সদসর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনন্ত এক কোটি টাকা নিয়ে এনজিও’র কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন। এনজিওটির কোন ডকুমেন্ট নেই সদস্যদের কারো কাছেই।

পৌরসভার ৪নং ওয়াডের বাসিন্দা মটরশ্রমিক মাজেদুল ইসলাম বলেন , আমি দরিদ্র মানুষ। আমাকে দেড় লক্ষ টাকা লোন দেওয়ার কথা বলে জামানত হিসেবে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়া আমার নেতৃত্বে আর ১৫জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কারো কাছে ১০ হাজার, কারো কাছে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পযন্ত টাকা নিয়েছে। আজকে আমাদের লোন দেওয়ার কথা ছিল। সকালে বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসি। এসে দেখি, আমার মতো অনেকেই এখানে উপস্থিত হয়েছে। কিন্তু এসে দেখি অফিস তালাবদ্ধ। যাঁরা ঋান দিবেন, তাঁরা কেউ নেই। বুঝতে পারছি, আমরা সবাই প্রতারণার শিকার হয়েছি।

দহবন্দ ইউনিয়নের জিনিয়া গ্রামের হালিমা বেগম বলেন, ‘লোনের কথা কয়া দশ হাজার করে ট্যাকা হামরা পাঁচজনে দিছি। লোন দেওয়ার কথা কহে অফিসোত ডাকে আইল, হামরাও আইনো , আশি দেখি অফিসোত ওমরা কেউ নাই। এখন হামার কি হইবে বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।’

পশ্চিম বেলকা গ্রামের আরিফ মিয়া বলেন,  অসংখ্যা মানুষ জামানত হিসেবে টাকা দিছে। আমি ১৫ হাজার টাকা দিছি লোনের জন্য জামানত হিসেবে। তাঁরা পালিয়ে গেছে। বাড়ির মালিকের কাছে তাদের ঠায় ঠিকানা চাচ্ছি । আমরা আইনের আশ্রায় নিব। কিন্তু বাড়ির মালিক বলছেন তার কাছে তাদের কোন কিছু নেই। একটা এনজিয়ের জন্য বাড়ি ভাড়া নিবে আর মালিক কোন ডকুমেন্ট নিবে না। এটা কোন ভাবেই মানা যায় না। এই প্রতারনার সাথে বাড়ির মালিক সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

প্রতারনা শিকার হওয়া কামরুন্নাহার নামে এক নারী বলেন, ‘শহরের মধ্য থেকে এত গুলো মানুষের কাছ থেকে এতো গুলো টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল। কেউই বলতে পারে না। এটা কোন কথা হলো। বাড়ির মালিকের নাম শুনেই আমরা অনেকেই টাকা দিছি। এই টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার পিছনে বাড়ির মালিকের সহযোগিতা থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় বাসার মালিক মোঃ নোমান মাহমুদের সাথে। তিনি বলেন, এনজিও পরিচালনা করার জন্য আমার বাসা ভাড়া নেয়। ভাড়া নেওয়ার সময় তাদের সাথে চুক্তি ও কাগজপত্রাদি চাইলে তাঁরা বলেন ঢাকা থেকে স্যাররা আগামী এক সপ্তাহের মধ্য আসবেন। স্যারদের উপস্থিতিতে চুক্তি সই করা হবে। এ কথা বলে তাঁরা এনজিও’র কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যই তাঁরা মানুষে টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাবে আমি এটা ধারনাও করতে পারি নাই। তবে তাঁদের ভাড়া দেওয়ার আগে কাগজপত্রাদি যাছাই করে বাসায় উঠানো উচিত ছিল আমার।’

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো: আতাউর রহমান বলেন, ‘এরকম সংস্থাকে বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে আমাদেরসহ থানায় বাসার মালিককে অবগত করা উচিত ছিল। বেশী আর্থিক সুবিধার কারনে তারা আমাদের অবগত করাননি হয়তোবা। বিষয়টি অবগত করালে তাদের বিষয় আগে খোঁজ নেয়া যেতো। তাহলে হয়তো-বা নিরহ মানুষ প্রতারিক হতো না।’

থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখবেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রতারনার সাথে বাসার মালিকও জড়িত ছিল কিনা, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার দৈনিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে নিরহ মানুষের সাথে অন্যায় করা ঠিক হয়নি। প্রথম আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি গুরুতরভাবে উপজেলা প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জানান স্থানীয় সাংসদ।

কোটি টাকা নিয়ে উধাও, ঘর মালিকের নেই এনজিও কর্মীদের তথ্য

প্রকাশের সময়: ০৬:১৪:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার কথা বলে নিরীহ লোকদেরকে কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে “কাশফুল ফাউন্ডেশন” নামের একটি এনজিও। উপজেলাসহ পৌরসভার প্রায় পাঁচশতাধিক গ্রাহকের অনন্ত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক সংস্থাটি। ঘর মালিকের কাছে কোনো তথ্য নেই লাপাত্তা সংস্থাটির কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর। আর এই প্রতারনার শিকার হয়ে দিশেহারা এখন ভুক্তভোগীরা।

কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পৌরসভার পূর্ব বাইপাস মোড় থেকে গাইবান্ধা সড়ক ধরে ৫০০ গজ দূরে (ঠেংগা মারার পুরাতন অফিস) নোমান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তির বাড়ি ভাড়া নেয় কাশফুল ফাউন্ডেশন নামের তথাকথিত এ এনজিও। সপ্তাহব্যাপী পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সহজ শর্তে ঋাণ দেওয়ার কথা বলে গ্রাহক সংগ্রহ করে। সদস্যর নাম অন্তরভুক্ত ও ঋণ ভেদে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা গ্রহন করেন। কথা ছিল, চলতি মাসেই গ্রাহকদের ঋাণ দেওয়া হবে। ঋান নিতে এসে গ্রাহকরা দেখতে পান, এনজিও’র অফিস তালাবদ্ধ। এ সময় ২০ থেকে ৩০জন সদসর সাথে কথা বলে জানা গেছে, অনন্ত এক কোটি টাকা নিয়ে এনজিও’র কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন। এনজিওটির কোন ডকুমেন্ট নেই সদস্যদের কারো কাছেই।

পৌরসভার ৪নং ওয়াডের বাসিন্দা মটরশ্রমিক মাজেদুল ইসলাম বলেন , আমি দরিদ্র মানুষ। আমাকে দেড় লক্ষ টাকা লোন দেওয়ার কথা বলে জামানত হিসেবে ১৫ হাজার টাকা নিয়েছে। এছাড়া আমার নেতৃত্বে আর ১৫জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। কারো কাছে ১০ হাজার, কারো কাছে ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পযন্ত টাকা নিয়েছে। আজকে আমাদের লোন দেওয়ার কথা ছিল। সকালে বাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে অফিসে আসি। এসে দেখি, আমার মতো অনেকেই এখানে উপস্থিত হয়েছে। কিন্তু এসে দেখি অফিস তালাবদ্ধ। যাঁরা ঋান দিবেন, তাঁরা কেউ নেই। বুঝতে পারছি, আমরা সবাই প্রতারণার শিকার হয়েছি।

দহবন্দ ইউনিয়নের জিনিয়া গ্রামের হালিমা বেগম বলেন, ‘লোনের কথা কয়া দশ হাজার করে ট্যাকা হামরা পাঁচজনে দিছি। লোন দেওয়ার কথা কহে অফিসোত ডাকে আইল, হামরাও আইনো , আশি দেখি অফিসোত ওমরা কেউ নাই। এখন হামার কি হইবে বলেই হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।’

পশ্চিম বেলকা গ্রামের আরিফ মিয়া বলেন,  অসংখ্যা মানুষ জামানত হিসেবে টাকা দিছে। আমি ১৫ হাজার টাকা দিছি লোনের জন্য জামানত হিসেবে। তাঁরা পালিয়ে গেছে। বাড়ির মালিকের কাছে তাদের ঠায় ঠিকানা চাচ্ছি । আমরা আইনের আশ্রায় নিব। কিন্তু বাড়ির মালিক বলছেন তার কাছে তাদের কোন কিছু নেই। একটা এনজিয়ের জন্য বাড়ি ভাড়া নিবে আর মালিক কোন ডকুমেন্ট নিবে না। এটা কোন ভাবেই মানা যায় না। এই প্রতারনার সাথে বাড়ির মালিক সরাসরি জড়িত বলে অভিযোগ করেন তিনি।’

প্রতারনা শিকার হওয়া কামরুন্নাহার নামে এক নারী বলেন, ‘শহরের মধ্য থেকে এত গুলো মানুষের কাছ থেকে এতো গুলো টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল। কেউই বলতে পারে না। এটা কোন কথা হলো। বাড়ির মালিকের নাম শুনেই আমরা অনেকেই টাকা দিছি। এই টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার পিছনে বাড়ির মালিকের সহযোগিতা থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় বাসার মালিক মোঃ নোমান মাহমুদের সাথে। তিনি বলেন, এনজিও পরিচালনা করার জন্য আমার বাসা ভাড়া নেয়। ভাড়া নেওয়ার সময় তাদের সাথে চুক্তি ও কাগজপত্রাদি চাইলে তাঁরা বলেন ঢাকা থেকে স্যাররা আগামী এক সপ্তাহের মধ্য আসবেন। স্যারদের উপস্থিতিতে চুক্তি সই করা হবে। এ কথা বলে তাঁরা এনজিও’র কার্যক্রম শুরু করেন। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যই তাঁরা মানুষে টাকা পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাবে আমি এটা ধারনাও করতে পারি নাই। তবে তাঁদের ভাড়া দেওয়ার আগে কাগজপত্রাদি যাছাই করে বাসায় উঠানো উচিত ছিল আমার।’

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো: আতাউর রহমান বলেন, ‘এরকম সংস্থাকে বাসা ভাড়া দেওয়ার আগে আমাদেরসহ থানায় বাসার মালিককে অবগত করা উচিত ছিল। বেশী আর্থিক সুবিধার কারনে তারা আমাদের অবগত করাননি হয়তোবা। বিষয়টি অবগত করালে তাদের বিষয় আগে খোঁজ নেয়া যেতো। তাহলে হয়তো-বা নিরহ মানুষ প্রতারিক হতো না।’

থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহবুব আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখবেন তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই প্রতারনার সাথে বাসার মালিকও জড়িত ছিল কিনা, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার দৈনিক আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এভাবে নিরহ মানুষের সাথে অন্যায় করা ঠিক হয়নি। প্রথম আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। খোঁজ খবর নিয়ে বিষয়টি গুরুতরভাবে উপজেলা প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে নির্দেশ দেওয়া হবে বলেও জানান স্থানীয় সাংসদ।