শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মাল্টা চাষ-কম্পোস্ট সার উৎপাদনে সফল নাঈম হুদা

মো. রফিকুল ইসলাম: চাকুরি ছেড়ে দিয়ে একই জমিতে মাল্টা চাষ ও গাছের নিচে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন চিরিরবন্দরের উদ্যোক্তা নাঈম হুদা। স্বল্প জায়গায় বেশি লাভবান হওয়ায় তার সাফল্য এখন অনেকের নিকট অনুকরণীয়। স্বাধীন-মুক্তভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর গ্রামের প্রকৌশলী নাঈম হুদা।

প্রকৌশলী নাঈম হুদা চাকুরি ছেড়ে দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করে প্রতিমাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন। কেঁচো সার উৎপাদনের পাশাপাশি ওই একই জমিতে উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় করছেন। এছাড়াও এখানে ৮-১০ জন বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে।

প্রকৌশলী নাঈম হুদা ২০১৬ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক শেষ করে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি বুঝতে পারেন, চাকুরিতে যে পরিমাণ সময় আর শ্রম দিতে হচ্ছে, সে অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন অনেক কম। তাই চাকুরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাড়িতে কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনা থেকেই নিজ বাড়িতে কেঁচো সার বা কম্পোস্ট সার উৎপাদন কাজ শুরু করেন। এরপর আর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি। চাকুরি ছেড়ে ২০১৯ সালে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। উৎপাদিত সার নিজের কৃষিকাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত সার বিক্রি করে প্রতিমাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করেন। কেঁচো বিক্রি করেও প্রতিমাসে ৮-১০ হাজার টাকা আয় করেন। এতে তাঁর কেঁচো সার ও কেঁচো বিক্রি করে প্রতিমাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা উপার্জন হয়। শুধু তাই নয়-একই জমিতে শুরু করেন মাল্টা চাষ।

প্রকৌশলী নাঈম হুদা জানান, চাকুরি ছেড়ে কৃষি কাজ শুরু করি। প্রথমে কমলা, মাল্টা ও মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। বাড়ির পাশের পুকুরে শুরু করেন মাছ চাষ। বাগান করতে গিয়ে দেখতে পাই, ফলবাগানে রাসায়নিক সারের পাশাপাষি জৈব সারের প্রয়োজন হয়। তখন কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে দুই শতক জমিতে কেঁচো সারের একটা প্রজেক্ট তৈরি করি। কেঁচো খামারে ভালো মুনাফা আসে। এ কেঁচো সার নিয়ে গবেষণা শুরু করি। তখন হাউজ ও রিং থেকে ট্রেতে এই সার উৎপাদন শুরু করি। এখন কেঁচো সারের খামার সম্প্রসারণ করেছি। বর্তমানে বস্তার মধ্যেও কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছি। এ খামার থেকে প্রতিমাসে ৪-৫ টন কেঁচো সার উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিমাসে ২০০-৩০০ বস্তা ভার্মি কম্পোস্ট সার বিক্রি হয়। প্রতিবস্তা ভার্মি কম্পোস্ট সার সাড়ে ৫ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিনদিন সার বিক্রির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছে এ প্রকল্প স্বচক্ষে দেখতে আসছেন এবং সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বৈকুন্ঠপুর গ্রামের কৃষক শাকিল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জৈব সার নিয়ে কলাবাগান, লালশাক ক্ষেতে দিয়েছি। এ জৈব সার ব্যবহার করায় রানায়নিক সারে যে খরচ হতো তা থেকে খরচ অনেক কম হয়েছে।

 

জনপ্রিয়

মাল্টা চাষ-কম্পোস্ট সার উৎপাদনে সফল নাঈম হুদা

প্রকাশের সময়: ০৯:২৪:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪

মো. রফিকুল ইসলাম: চাকুরি ছেড়ে দিয়ে একই জমিতে মাল্টা চাষ ও গাছের নিচে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে সফলতা পেয়েছেন চিরিরবন্দরের উদ্যোক্তা নাঈম হুদা। স্বল্প জায়গায় বেশি লাভবান হওয়ায় তার সাফল্য এখন অনেকের নিকট অনুকরণীয়। স্বাধীন-মুক্তভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের বৈকুন্ঠপুর গ্রামের প্রকৌশলী নাঈম হুদা।

প্রকৌশলী নাঈম হুদা চাকুরি ছেড়ে দিয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করে প্রতিমাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা উপার্জন করছেন। কেঁচো সার উৎপাদনের পাশাপাশি ওই একই জমিতে উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি করে বাড়তি টাকা আয় করছেন। এছাড়াও এখানে ৮-১০ জন বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে।

প্রকৌশলী নাঈম হুদা ২০১৬ সালে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে স্নাতক শেষ করে নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি বুঝতে পারেন, চাকুরিতে যে পরিমাণ সময় আর শ্রম দিতে হচ্ছে, সে অনুযায়ী বেতন পাচ্ছেন অনেক কম। তাই চাকুরি ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বাড়িতে কেঁচো সার বা ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদনের পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনা থেকেই নিজ বাড়িতে কেঁচো সার বা কম্পোস্ট সার উৎপাদন কাজ শুরু করেন। এরপর আর থেকে তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাঁকাতে হয়নি। চাকুরি ছেড়ে ২০১৯ সালে শুরু করেন কেঁচো সার উৎপাদন। উৎপাদিত সার নিজের কৃষিকাজে ব্যবহারের পর অতিরিক্ত সার বিক্রি করে প্রতিমাসে ২০-২৫ হাজার টাকা আয় করেন। কেঁচো বিক্রি করেও প্রতিমাসে ৮-১০ হাজার টাকা আয় করেন। এতে তাঁর কেঁচো সার ও কেঁচো বিক্রি করে প্রতিমাসে ৩৫-৪০ হাজার টাকা উপার্জন হয়। শুধু তাই নয়-একই জমিতে শুরু করেন মাল্টা চাষ।

প্রকৌশলী নাঈম হুদা জানান, চাকুরি ছেড়ে কৃষি কাজ শুরু করি। প্রথমে কমলা, মাল্টা ও মিশ্র ফলের বাগান গড়ে তোলেন। বাড়ির পাশের পুকুরে শুরু করেন মাছ চাষ। বাগান করতে গিয়ে দেখতে পাই, ফলবাগানে রাসায়নিক সারের পাশাপাষি জৈব সারের প্রয়োজন হয়। তখন কৃষি অফিসের পরামর্শক্রমে দুই শতক জমিতে কেঁচো সারের একটা প্রজেক্ট তৈরি করি। কেঁচো খামারে ভালো মুনাফা আসে। এ কেঁচো সার নিয়ে গবেষণা শুরু করি। তখন হাউজ ও রিং থেকে ট্রেতে এই সার উৎপাদন শুরু করি। এখন কেঁচো সারের খামার সম্প্রসারণ করেছি। বর্তমানে বস্তার মধ্যেও কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করেছি। এ খামার থেকে প্রতিমাসে ৪-৫ টন কেঁচো সার উৎপাদিত হচ্ছে। প্রতিমাসে ২০০-৩০০ বস্তা ভার্মি কম্পোস্ট সার বিক্রি হয়। প্রতিবস্তা ভার্মি কম্পোস্ট সার সাড়ে ৫ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দিনদিন সার বিক্রির পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন আসছে এ প্রকল্প স্বচক্ষে দেখতে আসছেন এবং সার কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

বৈকুন্ঠপুর গ্রামের কৃষক শাকিল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, জৈব সার নিয়ে কলাবাগান, লালশাক ক্ষেতে দিয়েছি। এ জৈব সার ব্যবহার করায় রানায়নিক সারে যে খরচ হতো তা থেকে খরচ অনেক কম হয়েছে।