তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের বুক চিরে বয়ে গেছে ‘কাটাখালী নদী’। এ নদীর ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাট দিয়ে পারাপারে ১২ গ্রামের মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো। এখানকার ভুক্তভোগী ব্যক্তিরা একটি সেতু নির্মাণের দাবি করলে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধির পেয়েছেন প্রতিশ্রুতি। যুগ-যুগ ধরে এই আশ্বাস শুনে আসলেও এখনও বাস্তবায়ন করেনি কেউ!
সম্প্রতি ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাটে দেখা গেছে- নদী পারাপারে মানুষের দুর্ভোগের দৃশ্য। সবাই এপার-ওপার হচ্ছেন চরম আকঙ্কে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কাটাখালী নদী এখন ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষের জন্য এক বড় প্রতিবন্ধকতার নাম। এই নদীর ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাটে একটি সেতুর অভাবে যুগ-যুগ ধরে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন উত্তর ছয়ঘরিয়া, পারসুন্দইল, গুচ্ছগ্রাম, মথুরাপুর, সুন্দইল, হঠাৎপাড়া, চড়পাড়া, নয়াপাড়া, চৌরপাড়া, রামনাথপুর ও কানিপাড়ার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে কাটাখালী নদীর পানি বেড়ে গেলে এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদী পারাপারের একমাত্র মাধ্যম তখন ডিঙ্গি নৌকা। ফলে কোমলমতি স্কুলগামী শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে চায় না, অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরাও ভয়ে তাদেরকে স্কুলে পাঠাতে চান না। সেইসঙ্গে কোন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। অনেক সময় মাইলের পর মাইল রাস্তা ঘুরিয়ে অসুস্থ রোগীকে নিয়ে যেতে হয়। যা অনেক ক্ষেত্রে রোগীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হওয়ায় এলাকার ছেলে-মেয়েদের ভালো কোথাও বিয়ে দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী মেনারুল ইসলাম, সাদা মিয়া ও আলকাছ আলীসহ আরও অনেকে জানান, একটি ব্রিজের অভাবে আমরা আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বারবার প্রতিশ্রুতি পেলেও ব্রিজের দেখা পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের কষ্টের টাকায় এই বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছি। তবে এই সাঁকো দিয়ে ভারী মালামাল বা অসুস্থ রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে আনা-নেওয়া করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, অবিলম্বে কাটাখালী নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করে এই অবহেলিত জনপদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হোক।
তালুককানুপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদ আলম মন্ডল বলেন, ছয়ঘরিয়া খেয়াঘাটে সেতু নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের মাসিক সভায় একাধিকবার উত্থাপন করেছি। এখনও কোন ফল পাওয়া যায়নি।
এলজিইডির গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুবুল হক জানান, খোঁজ নিয়ে ওইস্থানে সেতু নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠাবেন। বরাদ্দ এলে দ্রুত কাজ করবেন।
তোফায়েল হোসেন জাকির 
























