তোফায়েল হোসেন জাকির: ঈদুল আযহার কোরবানি উপলক্ষ্যে গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে ৩২ টি গবাদী পশুর হাট নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ১৯ টি স্থায়ী ও ১৩টি অস্থায়ী হাট রয়েছে। এছাড়া খামার পার্যায়সহ অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেও পশু কেনা-বেচা হচ্ছে। ইতোমধ্যে জমে ওঠেছে এই হাটগুলো। আর এসব হাটে দালালদের খপ্পড়ে পড়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন বলে ক্রেতা-বিক্রেতাদের অভিযোগ ওঠেছে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার লক্ষীপুর, মাঠের হাট, সাদুল্লাপুর ও পুরাতন বাদিখালিসহ আরও বিভিন্ন হাটে দেখা যায়- কোরবানি পশু কেনা-বেচার চিত্র। এসব হাটে কোরবানিযোগ্য পশুর মধ্যে ষাঁড়, বলদ, মহিষ, গাভী, ছাগল ও ভেড়া কেনা-বেচা শুরু হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলার ৩২ টি হাটের মধ্যে- সদর উপজেলায় ৫টি, সাদুল্লাপুরে ৫টি, পলাশবাড়ীতে ৪টি, গোবিন্দগঞ্জে ৮টি, সুন্দরগঞ্জে ৪টি, সাঘাটায় ৫টি ও ফুলছড়ি উপজেলায় ১টি হাট রয়েছে। এসব হাটে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৩০টি ভেটেরিনারি মেডিকেল দল কাজ করছে।
এদিকে, প্রতিহাটে দালাল ও ফড়িয়া মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ে ঠকবার শঙ্কায় ভুগছেন। হাটে আসা দালালরা মালিকদের সঙ্গে রফাদফা করে পশু হাতে নেন। ওই দামের চেয়ে বেশিতে বিক্রিত টাকা দালালদের পকেটে ঢুকছে বলে একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ। বর্তমানে জেলার নিয়মিত এবং মৌসুমী হাটগুলোতে দেশি-বিদেশি, ছোট- বড় গরু-ছাগল আমদানী ও বেচা-কেনা হচ্ছে। বছরব্যাপী গরু পালনকারী খামারীরা এসব হাটে কোরবানির পশু বিক্রি শুরু করছেন। ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিরা কোরবানির জন্য গরু-ছাগল ক্রয় করতে হাট-বাজারগুলোতে আসছেন।
সাদুল্লাপুর হাটের বিক্রেতা মনির হোসেন জানান, তার খামারের দুইটি গরু বিক্রি করতে হাটে এসেছেন। দালালের হাত থেকে রেহাই পেতে সঙ্গে নিয়েছেন আরও ৪ জনকে। কিন্তু গরুর দাম সন্তোষজনক না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ছেন তিনি।
লক্ষীপুর হাটে আসা ক্রেতা জলিল প্রধান ও বিক্রেতা মেহেদী খান বলেন, হাটে আসার সাথেই দালালদের সঙ্গে রফাদফা ছাড়া পশু বেচা-কেনা করা সম্ভব নয়। তাই তাদের কমিশন দিয়েই গরু ক্রয়-বিক্রয় করতে হয়।
খামারি সাজ্জাদ রহমান রাসেল বলেন, আসন্ন ঈদে আমার খামারে কোরবানিযোগ্য ৭ গরু রয়েছে। ইতোমধ্যে গরুগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রয়েছে। গো-খাদ্যের দাম বেশী হওয়ায় গরু পালনে খরচ বেড়েছে। তবে এবার হাটে দাম ভালো থাকলে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের তথ্যমতে, এ বছর কোরবানি উপলক্ষ্যে ১৭ হাজার ৩৩১ খামারে ষাড় ৩৭ হাজার ৬৬০, বলদ ৩ হাজার ৫৭২, গাভী ২২ হাজার ৪৬০, মহিষ ১৫৩, ছাগল ১ লাখ ২ হাজার ৯৩৮ ও ভেরা ১০ হাজার ২৮৯টি, দুম্বা ৪টি ও অন্যান্য ৭টি মজুদ আছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, এ জেলায় চাহিদা পুরণ রেখেও অতিরিক্ত ৩৯ হাজার ৪৮৩ টি কোরবানি পশু মজুদ আছে। আশা করছি, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও দেশের বিভিন্ন জায়গা এসব পশুর চাহিদা পূরণে সহায়ক ভূমিক রাখবে।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 


















