শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুরবানির পশু বানাতে ছাগলের দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল-এ লিটন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরিপক্ক ছাগলের দাঁত তুলে কুরবানির পশু হিসেবে বিক্রির উপযোগী করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ছয়টার দিকে উপজেলার পৌরসভার মহিলা কলেজ গেইট সংলগ্ন আলভি ডেন্টাল কেয়ার-এ এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকায় লিটন ও তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিকে আটক করেন। এসময় চাপের মুখে তারা ছাগলের দাঁত তোলার বিষয়টি স্বীকার করেন।

অভিযুক্তরা বলেন, “ছাগলের দাঁতটা লড়তাছিল, এইজন্য তুইলা নিয়া বেইচ্চা হালাম।
ছাগলের দাঁত মানুষের ডেন্টাল চেম্বারে কেন তোলা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, “হুনছি এইহানে দাঁত তুলে।”

ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুরবানির মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও প্রতারণা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা বলেন, “কাঁচা দাঁত তোলা প্রাণীর প্রতি চরম অবিচার। যে সরঞ্জাম দিয়ে পশুর দাঁত তোলা হয়েছে, তা দিয়েই আবার মানুষের চিকিৎসা হবে—এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।”

এ বিষয়ে আলভি ডেন্টাল কেয়ার-এর মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, “আমি তো ছিলাম না। আমার দোকানের ছেলে না বুঝে দাঁত তুলে ফেলেছে।”

দাঁত তোলার বিষয়টি স্বীকার করে রাকিব নামের এক ব্যক্তি বলেন, “পরিচিত একজন আমার কাছে নিয়ে আসায় তুলে দিছি, তবে কোনো টাকা নেইনি।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাজনীন সুলতানাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, “প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।

জনপ্রিয়

কুরবানির পশু বানাতে ছাগলের দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৯:১৩:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

ময়মনসিংহের ত্রিশাল-এ লিটন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরিপক্ক ছাগলের দাঁত তুলে কুরবানির পশু হিসেবে বিক্রির উপযোগী করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার বিকেল ছয়টার দিকে উপজেলার পৌরসভার মহিলা কলেজ গেইট সংলগ্ন আলভি ডেন্টাল কেয়ার-এ এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা পৌরসভার জামে মসজিদ রোড এলাকায় লিটন ও তার সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিকে আটক করেন। এসময় চাপের মুখে তারা ছাগলের দাঁত তোলার বিষয়টি স্বীকার করেন।

অভিযুক্তরা বলেন, “ছাগলের দাঁতটা লড়তাছিল, এইজন্য তুইলা নিয়া বেইচ্চা হালাম।
ছাগলের দাঁত মানুষের ডেন্টাল চেম্বারে কেন তোলা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, “হুনছি এইহানে দাঁত তুলে।”

ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুরবানির মতো ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও প্রতারণা করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা বলেন, “কাঁচা দাঁত তোলা প্রাণীর প্রতি চরম অবিচার। যে সরঞ্জাম দিয়ে পশুর দাঁত তোলা হয়েছে, তা দিয়েই আবার মানুষের চিকিৎসা হবে—এটা ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।”

এ বিষয়ে আলভি ডেন্টাল কেয়ার-এর মালিক দন্ত চিকিৎসক আনোয়ার হোসেন মানিক বলেন, “আমি তো ছিলাম না। আমার দোকানের ছেলে না বুঝে দাঁত তুলে ফেলেছে।”

দাঁত তোলার বিষয়টি স্বীকার করে রাকিব নামের এক ব্যক্তি বলেন, “পরিচিত একজন আমার কাছে নিয়ে আসায় তুলে দিছি, তবে কোনো টাকা নেইনি।”

এ বিষয়ে জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাজনীন সুলতানাকে মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি বলেন, “প্রাণিকল্যাণ আইন অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ওই আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড, ১০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত করার বিধান রয়েছে।