সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রামের মাটিতে বিদেশি আঙুর, ফলনও বাম্পার

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা এমদাদুল হক রাজা। পেশা তিনি কলেজ শিক্ষক হলেও মনটা পড়ে থাকে কৃষিতে। এরই ধারাবাহীকতায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অনেকে অবাক হলেও ধীরে ধীরে তার সেই উদ্যোগই এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন- একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিল আঙুর। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই ফলের চাষ কল্পনাতেও আনতেন না অনেকেই। অথচ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক রাজা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন। নিজের শখ আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এক আঙুর বাগান। এখন এই বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ, গোলাপি ও জাম রঙের আঙুর। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন বাগানটি দেখতে।

জানা যায়, মাত্র ৭ শতক জমিতে গড়ে তোলা কৃষিবিদ আঙুর বাগানএ রয়েছে বাইকুনুর, গ্রিন লং, ভ্যালেজ, জয় সিডলেস, ডিকসন, ট্রান্সফিগারেশন ও রেবেকাসহ নানা জাতের প্রায় ৫০টি আঙুর গাছ। চার বছর আগে লাগানো গাছগুলোতে এবার মিলেছে কাঙ্ক্ষিত বাম্পার ফলন।

তার এই বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে মাচার নিচে ঝুলে থাকা বড় বড় আঙুরের থোকা। কোনো কোনো থোকার ওজন প্রায় এক কেজি। সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করায় এসব আঙুরের স্বাদও বেশ মিষ্টি ও রসালো বলে জানান উদ্যোক্তা।

সড়কের পাশেই বাগান হওয়ায় প্রতিদিন নানা বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ আঙুর চাষ সম্পর্কে জানছেন উদ্যোক্তার কাছ থেকে।

স্থানীয় মেহেদী হাসান নামেরে এক যুবক বলেন, গ্রামের মাটিতে এমন বিদেশি ফলের চাষ তারা আগে কখনো দেখেননি। নিজেদের এলাকাতেই এত সুন্দর ও সুস্বাদু আঙুর উৎপাদন হওয়ায় তারা বেশ আনন্দিত।

আরেক যুবক লিটন মিয়া বলেন, আমার এলাকায় আঙুর চাষ করেছে রাজা ভাই। তার বাগানটি বেশ ভালো লেগেছে আমাকে। আঙুর বেশ কয়েকটি খেয়ে দেখলাম, বেশ ভালো পেলাম।

আঙুর চাষী এমদাদুল হক রাজার বলেন, শুরুতে শুধু শখ থেকেই আঙুর চাষ শুরু করি। পরে যখন গাছে ফল আসতে শুরু করল, তখন আরও উৎসাহ পাই। বর্তমানে আমার বাগানে ২৬ জাতের আঙুর রয়েছে। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বছর বাগান থেকে আড়াই থেকে তিন মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন এমদাদুল হক রাজা। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আঙুরের চারা উৎপাদনও শুরু করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এলাকার  মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী। কেউ আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।

গ্রামের মাটিতে বিদেশি আঙুর, ফলনও বাম্পার

প্রকাশের সময়: ০৮:৫৬:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা এমদাদুল হক রাজা। পেশা তিনি কলেজ শিক্ষক হলেও মনটা পড়ে থাকে কৃষিতে। এরই ধারাবাহীকতায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করেন আঙুর চাষ। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে অনেকে অবাক হলেও ধীরে ধীরে তার সেই উদ্যোগই এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

স্থানীয়রা বলছেন- একসময় বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত ছিল আঙুর। দেশের গ্রামাঞ্চলে এই ফলের চাষ কল্পনাতেও আনতেন না অনেকেই। অথচ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বাছহাটি গ্রামের বাসিন্দা এমদাদুল হক রাজা সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছেন। নিজের শখ আর কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে গড়ে তুলেছেন ব্যতিক্রমী এক আঙুর বাগান। এখন এই বাগানজুড়ে থোকায় থোকায় ঝুলছে সবুজ, গোলাপি ও জাম রঙের আঙুর। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন বাগানটি দেখতে।

জানা যায়, মাত্র ৭ শতক জমিতে গড়ে তোলা কৃষিবিদ আঙুর বাগানএ রয়েছে বাইকুনুর, গ্রিন লং, ভ্যালেজ, জয় সিডলেস, ডিকসন, ট্রান্সফিগারেশন ও রেবেকাসহ নানা জাতের প্রায় ৫০টি আঙুর গাছ। চার বছর আগে লাগানো গাছগুলোতে এবার মিলেছে কাঙ্ক্ষিত বাম্পার ফলন।

তার এই বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে মাচার নিচে ঝুলে থাকা বড় বড় আঙুরের থোকা। কোনো কোনো থোকার ওজন প্রায় এক কেজি। সম্পূর্ণ জৈব সার ব্যবহার করায় এসব আঙুরের স্বাদও বেশ মিষ্টি ও রসালো বলে জানান উদ্যোক্তা।

সড়কের পাশেই বাগান হওয়ায় প্রতিদিন নানা বয়সী মানুষ সেখানে ভিড় করছেন। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে ছবি তুলছেন, আবার কেউ কেউ আঙুর চাষ সম্পর্কে জানছেন উদ্যোক্তার কাছ থেকে।

স্থানীয় মেহেদী হাসান নামেরে এক যুবক বলেন, গ্রামের মাটিতে এমন বিদেশি ফলের চাষ তারা আগে কখনো দেখেননি। নিজেদের এলাকাতেই এত সুন্দর ও সুস্বাদু আঙুর উৎপাদন হওয়ায় তারা বেশ আনন্দিত।

আরেক যুবক লিটন মিয়া বলেন, আমার এলাকায় আঙুর চাষ করেছে রাজা ভাই। তার বাগানটি বেশ ভালো লেগেছে আমাকে। আঙুর বেশ কয়েকটি খেয়ে দেখলাম, বেশ ভালো পেলাম।

আঙুর চাষী এমদাদুল হক রাজার বলেন, শুরুতে শুধু শখ থেকেই আঙুর চাষ শুরু করি। পরে যখন গাছে ফল আসতে শুরু করল, তখন আরও উৎসাহ পাই। বর্তমানে আমার বাগানে ২৬ জাতের আঙুর রয়েছে। আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে আরও বড় পরিসরে আঙুর চাষের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বছর বাগান থেকে আড়াই থেকে তিন মণ আঙুর উৎপাদনের আশা করছেন এমদাদুল হক রাজা। পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আঙুরের চারা উৎপাদনও শুরু করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, এলাকার  মাটি ও আবহাওয়া আঙুর চাষের জন্য উপযোগী। কেউ আগ্রহী হলে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।