ফরিদুপুরের আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে হযরত শাহসূফি খাজাবাবা ফুরিদপুরী (কু:ছে:আ:) দরবার শরীফে ওরস আগামী ফাল্গুন মাসে অনুষ্ঠিত হবে। ওরসটির আগাম প্রস্ততি হিসেবে সেখানে পৌঁছানো হচ্ছে নানা সামগ্রী। এরই মধ্যে রংপুর-গাইবান্ধার ভক্তবৃন্দ বাঁশের ভেলায় ছুটছেন নদীপথে।
বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রংপুরের পীরগঞ্জ ও গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভুক্তবৃন্দরা কাঁচা বাঁশ একত্রিত করে সাজিয়েছেন একটি ভেলা। এ ভেলাতে বাঁশ, খড়ি, ছাগল, মোরগসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে রওনা দিয়েছে দরবার শরীফের উদ্দেশ্যে। তারা বাঁশের ভেলা নিয়ে পদ্মা, যমুনা, করোতোয়া নদীপথে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছুটেছেন।
সাদুল্লাপুরের ধাপেরহাট আখিরা নদীতে তারা এই ভেলাটি সাজিয়েছেন। তাদের গন্তব্যস্থলে পৌঁছাতে ১৪ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে বলে ভক্তরা জানায়।
দরবার শরীফে রওনার সময় এলাকার শতশত নারী-পুরুষ তাদের মান্যতের সামগ্রী নিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন ওই ভেলায়। অনেকে নগদ টাকা, বাঁশ, খর, কাঠের খড়ি এবং চাল-ডালসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী।
ভক্তদের নেতা লিটন হক জানান, আমরা বুধবার রওনা দিচ্ছি নদী পথে। বৃহস্পতিবারে ঘোড়া ঘাট করতোয়া নদীতে রাত্রী যাপন করব। পরদিন রওনা দিয়ে শুক্রবারে গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি ব্রীজের নিচে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা আরও ৮-১০টি বাঁশের ভেলার সাথে মিলিত হয়ে একত্রে রওনা দিব বাবার দরবারের। এভাবেই করতোয়া থেকে যমুনা, যমুনা থেকে পদ্মাসহ বড় বড় নদী পাড়ি দিয়ে ১৪-১৫ দিন পর পৌঁছা যাবে আটরশি দরবার শরীফে।
আরেক ভক্ত নজরুল ইসলাম বলেন, নদীপথে থাকাকালিন আমাদের থাকা ও খাওয়ার যাবতীয় জিনিষপত্র ও খাদ্য সামগ্রী মজুদ রয়েছে। ইতিপূর্বে আর কখনো এ ভাবে জীবনের ঝুকি নিয়ে নদীপথে গিয়েছেন কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, আমরা জীবনের ভয় করিনা, প্রতি বছরেই ওরসের আগে এ ভাবেই আমরা নদীপথে বাঁশ, খড়ি নিয়ে হাজির হই বাবার দরবারে।
আমিনুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 















