বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় কেলিকদম উদ্ভিদে ফুল ফুটেছে। বর্ষার শেষে বা শরৎকালের শুরুতে এই উদ্ভিদে ফুল ফোটে। ফুলটি কদমের মতো কিন্তু অতিক্ষুদ্র এবং মাধুর্যময়। তবে এখনো কেউ এ গাছের ফল ফুটতে দেখেননি। গাছটিকে নিয়ে রয়েছে নানা পৌরণিক কথা। দূর্লভ এই কেলিকদম উদ্ভিদটি দিনাজপুর সরকারি কলেজের উত্তর-পশ্চিম কোণে জীববিজ্ঞান ভবনের পিছনে রয়েছে। ৪০-৫০ ফুট উঁচু শাখা-প্রশাখাযুক্ত উদ্ভিদটির সঠিক বয়স জানা না গেলেও এর বয়স শত বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গে এর অস্তিত্ব আর কোথাও পাওয়া যায়নি বলে দাবি দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও লেখক মো. দেলোয়ার হোসেনের।
টিস্যু কালচার পদ্ধতি প্রয়োগ করে বিলুপ্ত প্রজাতির গাছটির চারা উৎপাদনে আরো উন্নত গবেষণা হতে পারে। এজন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের উদ্ভিদ গবেষকদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। আঞ্চলিক জনশ্রæতি রয়েছে-কৃষ্ণ রাধাকে কেলিকদম ফুল দিয়ে প্রেম নিবেদন করেন। এ ফুলের কারণেই রাধা কৃষ্ণের প্রেমে পড়েন।
দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তথ্যমতে, কাস্টল উদ্ভিদটির পাতা কর্ডেট এবং বড় বড় আকৃতির। ফুলটি কদম ফুলের মতো তবে তুলনামূলক ক্ষুদ্রাকৃতির। জঁনরধপবধব গোত্রের উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম- অফরহধ পড়ৎফরভড়ষরধ।
কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক হোসেন জানান, ‘শিক্ষকদের সহযোগিতায় উদ্ভিদটির বংশবিস্তার বিষয়ে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। চারা উৎপাদনে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করেও চারা করা যায়নি। তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

দিনাজপুর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও লেখক মো. দেলোয়ার হোসেন জাগো২৪.নেট-কে জানান, ‘দুর্লভ প্রজাতির এ উদ্ভিদটি অত্র অঞ্চলে আর কোথাও থাকার কোনো রেকর্ড এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসে থাকা গাছটি থেকে বিগত ২০ বছর পর্যবেক্ষণ করেও গাছটি থেকে চারা উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরো জানান, দুর্লভ প্রজাতির উদ্ভিদটি বাংলাদেশের জাতীয় উদ্যান গাজীপুরের মধুপুর শালবনে থাকার তথ্য জানা যায়। বিভিন্ন সূত্র মতে উপমহাদেশে উদ্ভিদটি দুর্লভ এবং উত্তরবঙ্গের দিনাজপুর সরকারি কলেজে বিপন্ন উদ্ভিদটির একটিমাত্র বিদ্যমান যা ১৯৯৮ সাল থেকে দেখে আসছি। তবে ক্যাম্পাসের এ গাছটিতে ফুল হতে দেখা গেলেও এখনও ফল দেখা যায়নি।’
উল্লেখ্য, কেলিকদম এশিয়ায় প্রাপ্ত একটি গাছের প্রজাতি মূলত বর্ষার আগে ফুল ফোটে। তখন থোকা থোকা ফুটে থাকে। অর্জুন গাছের সাথে চেহারায় কিছুটা মিল রয়েছে।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 









