ধান বাংলাদেশে উৎপন্ন প্রধান খাদ্য ফসল। নদীমাতৃক বাংলার উর্বর পলিমাটিতে অতি সহজেই কম পরিশ্রমে ধানচাষ করা আবহমান বাংলার চিরায়ত ঐতিহ্য। ধানের আবাদ এ দেশের মাটি আর মানুষের অন্যতম অনুষঙ্গ। ধান বলতে আমরা আউশ, আমন, বোরো ইত্যাদি বুঝে থাকি। লাল, কিছুটা বাদামি কিংবা সাদা রঙের চালের রকমফেরও দেখা যায়। এমনই আলাদা রঙের ধানচাষ করেছেন সিঙ্গাপুর ফেরত রেজওয়ানুল সরকার ওরফে সোহাগ (৩৫)। তিনি উপজেলায় প্রথমবারের মতো কালো ধানচাষ করে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। বø্যাক রাইস চাষাবাদ অন্যান্য আধুনিক ধান চাষের মতোই। এতে কোনো অতিরিক্ত সার বা পানির প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় না আলাদা কোনো পরিচর্যারও। গত ৩০ জুলাই জমিতে রোপণ করা হয় এই কালোধানের চারা। এ ধান গত সপ্তাহেই কাটা হয়েছে এবং মাড়াইও করা হয়েছে। রেজওয়ানুল সরকার ওরফে সোহাগ জানান, বাড়ির পাশে ৫২ শতক জমিতে এই বøাক রাইস চাষ করছেন তিনি। এ কালোধানের আবাদ কৃষকের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এ ধানের বীজ সংগ্রহ করতে কৃষকরা চেষ্টা করছেন।
রেজওয়ানুল সরকার ওরফে সোহাগ দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত জোনাব আলী সরকারের ছেলে। তিনি সাড়ে ৪ বছর সিঙ্গাপুরে ছিলেন। দেশে ফিরে আসার পর তার পিতা মারা যান। এরপর আর সিঙ্গাপুর ফিরে যাওয়া হয়নি তার। পিতার রেখে যাওয়া জমি দেখাশোনা ও চাষাবাদ করছি। শাহ্ আলম নামে এক বন্ধুর মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে এ কালোধানের ২ কেজি বীজ সংগ্রহ করেছি। ধানের শীষও সাধারণ ধানের চেয়ে বড়। অন্যান্য ধানের মতোই এ ধানের পরিচর্যা করতে হয়। অতিরিক্ত কোনো কিছুই করতে হয় না। ধানগুলো দেখতে যেমন কালো চালও দেখতে তেমন কালো। এ চালের ভাতও কালো এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ। বাড়িতে পরিবার নিয়ে খাওয়ার জন্য এবং উৎপাদন কেমন হয় তা জানার জন্য এই প্রথম বøাক রাইস বা কালোধান চাষ করেছি।
সোহাগ জানান, বøাক রাইসের উপরে প্রামাণ্য চিত্র দেখে তিনি জেনেছেন কালো চাল ডায়াবেটিস, স্নায়ুরোগ ও বার্ধক্য প্রতিরোধক। এতে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। তাই কালো চাল উৎপাদনে উদ্যোগী হয়েছেন। এই ধানের উৎপাদনের পরিমাণ এবং মূল্য নির্ধারণ এখনই করা যাচ্ছে না। ধান ঘরে তুলে চাল করার পর পরিমাণ বোঝা যাবে। আর বাজারজাত করার মাধ্যমে জানা যাবে আর্থিক মূল্য। এ জন্য কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে। তিনি ধারণা করছেন বিঘাপ্রতি জমিতে ১৫-১৭ মণ ধান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল্য যদি আকর্ষণীয় হয় এবং চাহিদা যদি থাকে তাহলে আগামীতে বøাক রাইসের চাষ আরো বৃদ্ধি করব। তিনি আরো জানান, সিঙ্গাপুরে অবস্থানকালে আমি দেখেছি সেখানকার মানুষ, বিশেষ করে চীনের মানুষ বøাক রাইস বেশি দামে কিনে তার ভাত খেত। আমারা ৫ কেজি সাধারণ চাল কিনতাম ১২ থেকে ১৬ ডলারে। আর তারা ৫ কেজি বøাক রাইস কিনত ২০ ডলারে। তারা বলত বøাক রাইস শরীরে চর্বি জমতে দেয় না ধীরে ধীরে হজম হয়। এ কারণে ক্ষুধা কম লাগে।
উপজেলা কৃষি অফিসার বাসুদেব রায় মুঠোফোনে জগো২৪.নেট-কে জানান, ব্লাক রাইস একটি অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ ধান। এ ধানের চাল উৎপাদন করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া গেলে তা দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















