গাইবান্ধার নদীবেষ্টিত সাদুল্লাপুরে ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়েছে বাঁধের রাস্তা। ফলে বিলীন হচ্ছে ঘরবারি ও ফসলি জমি। এতোমধ্যে অনেকে বাপ-দাদার বসতভিটা হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে অন্যত্র। আর ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে শতাধিক পরিবারের মানুষ। এখন নদীর করাল গ্রাসে আশ্রয়হীন হবার আশঙ্কায় নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের।
সরেজমিনে শুক্রবার (২৬ জুন) সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (পূর্বপাড়া) নামক স্থানের প্রায় ৫০০ মিটারজুড়ে দেখা গেছে- ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙনের দৃশ্য।
স্থানীয়রা বলছেন- একসময় পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (পূর্বপাড়া) নদী ঘেঁষে একটি বাঁধের রাস্তা ছিলো। কয়েক বছর আগে সেই রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এরপর থেকে এ স্থানে থামছে না নদীভাঙন। যার কারনে নাজির হোসেন, খলিল মিয়া, ছামাদ শেখ, রফিক মিয়া ও ছোলাইমান মিয়াসহ আরও অনেকের ঘরবাড়ি নদীর পেটে চলে গেছে। তারা ভূমিহীন হয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্বজনদের বাড়িতে। এছাড়া মোখলেছার, আনছার, মধু, কুদ্দুস, দেলবর, সোহরাফসহ আরও বেশ কিছু কৃষকের ফসলি জমি নদীতে হারিয়েছে। বর্তমান নদীতীরের জহির উদ্দিন শেখ, লাল মিয়া, আমজাদ হোসেন, সাহেব মিয়া, আফছার আলী এবং হাফিজার রহমানসহ শতাধিক পরিবার ভাঙন ঝঁকিতে রয়েছে। যেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে তাদের বাপ-দাদার ঘরবাড়ি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগি মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (পূর্বপাড়া) নামক স্থানের ভাঙন নতুন করে নয়। এটি দীর্ঘদিনের। এখানে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ ইউপি চেয়ারম্যানকে একাধিকবার জানিয়েও কোন কাজ হয়নি। এ স্থানে ভাঙন ঠেকাতে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান এলাকাবাসী।
ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা জহির উদ্দিন শেখ বলেন, ঘাঘট নদীর অব্যাহত ভাঙন আমার ঘরের কিনারায় ঠেকছে। এছাড়া বাবার কবর অর্ধেক গেছে নদীতে। কখন যেনো ঘরবাড়ি নদীতে যায়, এ আশঙ্কায় রাতে ঘুমাতে পারছিনা। সরকারের পক্ষ থেকে এখানে ভাঙনরোধ না করা হলেও বাপ-দাদার ঐতিহ্য হারিয়ে পথে বসতে হবে। তাই জরুরি ভিত্তিতে এ স্থানে ভাঙর রক্ষা কাজের দাবি করছি।
জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হাসান শুভ বলেন, পাতিল্যাকুড়া-চকদাড়িয়া (পূর্বপাড়া) নামক স্থানে নদীভাঙনের বিষয়টি অবগত আছি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ভাঙন রোধের জন্য চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ওই স্থানে ভাঙনের ব্যাপারটি জানা নেই। তবে খোঁজ নেওয়া হবে।
শামীম সরদার, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 























