বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে সাংবাদিক হেনস্তাকারী সেই এসিল্যাণ্ডের বদলি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তথ্য চাইতে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনের হেনস্তার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এ ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে অবশেষে   তাকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারি ১/১ খতিয়ানভুক্ত সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের দেখেই এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেন এবং কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন। পরে নিজেও দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। গত রোববার রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তের পরদিন সোমবার হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে জমির দখলদার ও ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়নি।

সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়।

তবে অভিযোগ, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা বলা হলেও, ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়। পরস্পরবিরোধী এই দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক।

উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে সরকারি খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।

জনপ্রিয়

সাদুল্লাপুরে সাংবাদিক হেনস্তাকারী সেই এসিল্যাণ্ডের বদলি

প্রকাশের সময়: ০৬:৪২:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে তথ্য চাইতে গিয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিনের হেনস্তার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। এ ঘটনায় বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে অবশেষে   তাকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার উত্তম কুমার দাশ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানা যায়। আদেশে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ বদলি আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের হাসানপাড়া মৌজায় সরকারি ১/১ খতিয়ানভুক্ত সাড়ে ৬ শতক অর্পিত সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানা দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ উত্তোলনের বিষয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে এসিল্যান্ড কার্যালয়ে যান সময় সংবাদের প্রতিবেদক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ।

অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের দেখেই এসিল্যান্ড জসিম উদ্দিন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, আঙুল উঁচিয়ে ধমক দেন এবং কার্যালয় ত্যাগ করতে বলেন। পরে নিজেও দ্রুত অফিস ত্যাগ করেন। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়। গত রোববার রংপুর বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আশরাফুল ইসলাম গাইবান্ধা সার্কিট হাউসে তদন্ত করেন। তদন্তে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণ এবং ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার নথিপত্র পর্যালোচনা করা হয়। তবে তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

তদন্তের পরদিন সোমবার হাসানপাড়া মৌজার বিতর্কিত সাড়ে ৬ শতক জমি সরকারি সম্পত্তি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়। তবে জমির দখলদার ও ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করা হয়নি।

সূত্র জানায়, ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে অধিগ্রহণ করা ওই জমির বিপরীতে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর পীরগঞ্জের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের নামে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতিপূরণ ছাড় করা হয়।

তবে অভিযোগ, জমিটি প্রকৃতপক্ষে অর্পিত (সরকারি) সম্পত্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এতে প্রশাসনের ভূমিকা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নথিপত্রে দেখা যায়, ২০২২ সালের এক প্রতিবেদনে জমিতে সরকারি স্বার্থ না থাকার কথা বলা হলেও, ২০২৫ সালের আরেক প্রতিবেদনে সরকারি স্বার্থ বিদ্যমান বলে উল্লেখ করা হয়। পরস্পরবিরোধী এই দুই প্রতিবেদনের কারণ নিয়েও দেখা দিয়েছে নতুন বিতর্ক।

উল্লেখ্য, ৩৮তম বিসিএস কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব পালনকালে সরকারি খাস জমি, নামজারি, ভূমি প্রশাসন এবং সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।