বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে ১২শ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ শত কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, ব্যাপক ফলন এবং দেশব্যাপী দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কৃষক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে।

জেলার বিভিন্ন লিচুবাগানে ইতোমধ্যে গাছে গাছে ঝুলছে সুস্বাদু ও রসালো লিচু, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ী দিনাজপুর এর উপ-পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুরের সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, খানসামা, বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, কাহারোল, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বোচাগঞ্জ, হাকিমপুর ও বিরামপুর উপজেলাসহ জেলার সব উপজেলাতেই কমবেশি লিচুর আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। জেলার জনপ্রিয় বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি ও মাদ্রাজি জাতের লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বাগান বুকিং যারা দিয়েছিলেন তারা এখন বাগান থেকে লিচু ভাঙ্গা শুরু করেছে। এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় লিচু সরবরাহ শুরু করে দিয়েছি। অনেক বাগান আগাম বিক্রিও হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। লিচুকে কেন্দ্র করে মৌসুমি শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, প্যাকেজিং কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এছাড়া লিচুর মুকুলকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌচাষিরাও মধু সংগ্রহ করছেন, যা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষি বিভাগের মতে, লিচু ও মধু মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাজারমূল্য সন্তোষজনক থাকলে তারা লাভবান হবেন। তবে তারা বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লিচুর উৎপাদন ও বাজারমূল্য উভয়ই সন্তোষজনক থাকবে এবং জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। চলতি বছর দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনাজপুরে ১২শ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা

প্রকাশের সময়: ০৯:৪৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ১২ শত কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, ব্যাপক ফলন এবং দেশব্যাপী দিনাজপুরের লিচুর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কৃষক, বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসাহ বিরাজ করছে।

জেলার বিভিন্ন লিচুবাগানে ইতোমধ্যে গাছে গাছে ঝুলছে সুস্বাদু ও রসালো লিচু, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ী দিনাজপুর এর উপ-পরিচালক মোঃ আফজাল হোসেন জানান, দিনাজপুরের সদর, বিরল, চিরিরবন্দর, খানসামা, বীরগঞ্জ, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, কাহারোল, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট, বোচাগঞ্জ, হাকিমপুর ও বিরামপুর উপজেলাসহ জেলার সব উপজেলাতেই কমবেশি লিচুর আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও ভালো হয়েছে। জেলার জনপ্রিয় বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি ও মাদ্রাজি জাতের লিচু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি করেছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বাগান বুকিং যারা দিয়েছিলেন তারা এখন বাগান থেকে লিচু ভাঙ্গা শুরু করেছে। এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় লিচু সরবরাহ শুরু করে দিয়েছি। অনেক বাগান আগাম বিক্রিও হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন চাষিরা। লিচুকে কেন্দ্র করে মৌসুমি শ্রমিক, পরিবহন শ্রমিক, প্যাকেজিং কর্মী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

এছাড়া লিচুর মুকুলকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মৌচাষিরাও মধু সংগ্রহ করছেন, যা অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষি বিভাগের মতে, লিচু ও মধু মিলিয়ে কয়েক লাখ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেলেও বাজারমূল্য সন্তোষজনক থাকলে তারা লাভবান হবেন। তবে তারা বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর লিচুর উৎপাদন ও বাজারমূল্য উভয়ই সন্তোষজনক থাকবে এবং জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। চলতি বছর দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১২ কোটি লিচু বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।