দীর্ঘদিন ধরেই গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র নদের বালুতে ভারী ও মূল্যবান খনিজের উপস্থিতির কথা শোনা যাচ্ছিল, যা এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান ভারী খনিজ বালু আহরণের এক বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলীয় খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান ‘এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড’ গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন চরে ইতিমধ্যে তাদের মূল কার্যক্রম ও ভারী যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছে।
উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, ইতোমধ্যে গাইবান্ধার কামারজানি, খারজানি ও বাটিকামারীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে পাইলট প্ল্যান্টের সফল পরীক্ষা শেষে এখন পুরোদমে খনিজ পৃথকীকরণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এই প্রকল্প থেকে অন্তত ৪ হাজার কোটি টাকার খনিজ সম্পদ সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে।
বিশেষ সুত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার কামারজানি, গিদারি ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চল এবং কুড়িগ্রামের চিলমারী সীমানা এলাকাজুড়ে এই খনিজ ব্লকের অবস্থান। সরকারের খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো (বিএমডি) ৫টি নির্দিষ্ট খনিজ আহরণের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ৭৯৯ হেক্টর বালুচর ইজারা দিয়েছে। সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী, উত্তোলিত খনিজ সম্পদের ৪৩ শতাংশ পাবে বাংলাদেশ সরকার এবং বাকি ৫৭ শতাংশ পাবে এভারলাস্ট মিনারেলস লিমিটেড।
বর্তমানে কামারজানি বন্দর সংলগ্ন কড়াইবাড়ির চর ও এর আশপাশের এলাকায় আধুনিক ‘মিনারেল সেপারেশন প্ল্যান্ট’ বা খনিজ পৃথকীকরণ যন্ত্রপাতির মাধ্যমে বালু থেকে পাঁচটি মূল্যবান খনিজ আলাদা করা হচ্ছে। এগুলো হলো-জিরকন, রুটাইল, ইলমেনাইট, ম্যাগনেটাইট ও গারনেট। এর মধ্যে জিরকন ব্যবহৃত হয় সিরামিক, টাইলস ও রিফ্যাক্টরিজ শিল্পে। রুটাইল ব্যবহার করা হয় রং, প্লাস্টিক, কসমেটিকস ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল হিসেবে। এছাড়া টাইটানিয়াম ধাতু ও ওয়েল্ডিং রড তৈরিতে কাজে লাগে ইলমেনাইট। অন্যদিকে, ইস্পাত, চুম্বক, সিরিঞ্জ এবং শিরিষ কাগজ বা আব্রেসিভ তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে ম্যাগনেটাইট ও গারনেট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিকভাবে এই খনিজ উত্তোলন পুরোপুরি সফল হলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বিশেষ করে দেশীয় খনিজ সম্পদ খাতে এক অভূতপূর্ব ভূমিকা রাখবে। এতে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, তেমনি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।
প্রকল্পের প্রজেক্ট নির্বাহী ইমরান আহমেদ বলেন, পরীক্ষামূলক প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর বর্তমানে চরের নদী ও স্থলভাগ থেকে বালু সংগ্রহের মূল কাজ শুরু হয়েছে। চরের এই খনিজ বালু থেকে তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব বলে আশাবাদী।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 






















