মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজও সংরক্ষণ গরুগাড়ী চাকা

তোফায়েল হোসেন জাকির: গ্রামীণ বাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক গরুর গাড়ি। কালের বিবর্তনে এই গাড়ি হারিয়ে গেলেও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে চাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গ্রামবাংলার ইতিহাস, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এই চাকা সংরক্ষণ করেছেন জিল্লুর রহমান খন্দকার (৭০) নামের এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহরতলীর জিল্লুর রহমান খন্দকারের বাড়িতে দেখা গেছে- গরুগাড়ীর চাকা।

স্থানীয় প্রবীনদের ভাষ্য, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জনপদে কৃষি ফসল বহন ও মানুষ বহনের প্রিয় বাহন ছিল দু-চাকার গরুর গাড়ি। আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় ও ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে হার মেনে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা বিলুপ্তপ্রায়।

স্থানীয় মহির উদ্দিন (৭০) নামের এ বৃদ্ধ বলেন, সেই সময়ের গরুগাড়ী চাকা বানানোর কাঠকাটার সেই খটখট শব্দ আর নেই। তখন কানে বাজত খটখট শব্দ। ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় মুখরিত থাকত মিস্ত্রিপাড়ায়। আর নেই সেই প্রাণচাঞ্চল্য। এখন শুধুই নিস্তব্ধতা।

চাকা তৈরি মিস্ত্রি খেতাব উদ্দিন (৭৫) বলেন, এক সময় গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় গরুগাড়ী চাকা বানানো হতো। প্রচুর চাপও ছিল। সহস্রাধিক মানুষ চাকাশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন গরুগাড়ী হারিয়ে যাওয়ার কারণে সবাই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় কোনমতো জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সাদুল্লাপুরের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান খন্দকার বলেন, একসময় আমাদের পরিবারে গরুর গাড়ী ছিলো। যা কৃষি কাজসহ অন্যন্যা কাজে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে আধুনিকতার যান্ত্রিক যুগে সেই গাড়ি বিলুপ্তি হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গ্রামবাংলার ইতিহাস, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এই গাড়ীর চাকা বাসায় সংরক্ষণ করেছি।

জনপ্রিয়

আজও সংরক্ষণ গরুগাড়ী চাকা

প্রকাশের সময়: ০১:৩৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির: গ্রামীণ বাংলার সুপ্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক গরুর গাড়ি। কালের বিবর্তনে এই গাড়ি হারিয়ে গেলেও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে চাকা সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গ্রামবাংলার ইতিহাস, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এই চাকা সংরক্ষণ করেছেন জিল্লুর রহমান খন্দকার (৭০) নামের এক ব্যক্তি।

সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর শহরতলীর জিল্লুর রহমান খন্দকারের বাড়িতে দেখা গেছে- গরুগাড়ীর চাকা।

স্থানীয় প্রবীনদের ভাষ্য, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জনপদে কৃষি ফসল বহন ও মানুষ বহনের প্রিয় বাহন ছিল দু-চাকার গরুর গাড়ি। আধুনিকতার যান্ত্রিক ছোঁয়ায় ও ডিজিটাল পদ্ধতির কাছে হার মেনে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি ও গাড়িয়াল পেশা বিলুপ্তপ্রায়।

স্থানীয় মহির উদ্দিন (৭০) নামের এ বৃদ্ধ বলেন, সেই সময়ের গরুগাড়ী চাকা বানানোর কাঠকাটার সেই খটখট শব্দ আর নেই। তখন কানে বাজত খটখট শব্দ। ক্রেতা-বিক্রেতার আনাগোনায় মুখরিত থাকত মিস্ত্রিপাড়ায়। আর নেই সেই প্রাণচাঞ্চল্য। এখন শুধুই নিস্তব্ধতা।

চাকা তৈরি মিস্ত্রি খেতাব উদ্দিন (৭৫) বলেন, এক সময় গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় গরুগাড়ী চাকা বানানো হতো। প্রচুর চাপও ছিল। সহস্রাধিক মানুষ চাকাশিল্পের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন গরুগাড়ী হারিয়ে যাওয়ার কারণে সবাই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় কোনমতো জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সাদুল্লাপুরের বাসিন্দা জিল্লুর রহমান খন্দকার বলেন, একসময় আমাদের পরিবারে গরুর গাড়ী ছিলো। যা কৃষি কাজসহ অন্যন্যা কাজে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে আধুনিকতার যান্ত্রিক যুগে সেই গাড়ি বিলুপ্তি হয়েছে। তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গ্রামবাংলার ইতিহাস, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে এই গাড়ীর চাকা বাসায় সংরক্ষণ করেছি।