গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় নির্মাণধীন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির নিয়ে পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন তার অফিসিয়াল ফেসবুক আইডিতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পোস্ট দিয়েছেন।
সোমবার (৬ জুলাই) রাতে এই বিজ্ঞপ্তি পোস্ট দেন তিনি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, পলাশবাড়ী থানাধীন শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দিরে নির্মীয়মাণ ৮১ ফুট উচ্চতার রাম বিগ্রহ এবং উক্ত মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণিদাসকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম উস্কানিমূলক, বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য ও ভুয়া তথ্যসম্বলিত পোস্ট, স্থির ছবি, ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচারিত হচ্ছে। যা অত্র জেলার হিন্দু-মুসলমানসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও সামাজিক ঐক্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করার একটি অপচেষ্টা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে আরও পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, একটি স্বার্থান্বেষী মহল এ ধরনের বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক পোস্ট, ছবি, ভিডিও শেয়ার করছেন, এবং নিয়মিত সেগুলোতে মন্তব্য করছেন এবং এর মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাধারণ জনগণের মধ্যে উত্তেজনা, অসহিষ্ণুতা, পারস্পরিক বিদ্বেষ এবং সাম্প্রদায়িক প্রতিহিংসা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যা ক্রমাগত সামাজিক অস্থিরতা ও জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করছে। একটি সংঘবদ্ধ কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ ধরনের কন্টেন্ট প্রচার করছেন। যা প্রচলিত আইনের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ হতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে। এছাড়া অনলাইন প্ল্যাটফর্মসমূহ সাইবার প্যাট্রোলিং টিম কর্তৃক সার্বক্ষণিকভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ, গাইবান্ধা’র পক্ষ থেকে জেলার সম্মানিত নাগরিকগণকে অনুরোধ করা যাচ্ছে যে, কোনো প্রকার ধর্মীয় উস্কানিমূলক, সন্দেহজনক বা বিভ্রান্তিকর পোস্ট, ছবি, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দৃশ্যমান হলে সেখানে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। শেয়ার করার পূর্বে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট তথ্যের সত্যতা নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করুন। এ ধরনের বিতর্কিত কোন কনটেন্ট দৃষ্টিগোচর হলে অতি সত্ত্বর নিকটস্থ থানাকে অবহিত করুন।
পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন বলেন, গাইবান্ধা জেলা একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ। আবহমান কাল ধরে অত্র জেলায় কোন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার নজির নাই। যুগ যুগ ধরে সমাজে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে একইসঙ্গর বসবাস করে আসছেন। শান্তি, সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, গাইবান্ধা জেলার সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণ, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট 















