মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পর্যটন খাতে বড় উদ্যোগ, ১০০ দিনে নতুন দিগন্ত খুলতে চায় সরকার

দেশ পরিচালনায় প্রথম ১০০ দিনেই পর্যটন খাতকে অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে সামনে এনেছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের পর্যটনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিগঠন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ সফল হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২১ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা ২৩ মে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৭ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন অর্থমন্ত্রী। কমিটিতে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ভূমি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বাণিজ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যানও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ, নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারকে নীতিগত পরামর্শ দেবে এই কমিটি। এছাড়া পর্যটন খাতের সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণেও কাজ করবে তারা।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত নয়, বরং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল, সিলেট-এর চা-বাগান, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও কাপ্তাই হ্রদ-কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন এ খাত অবহেলিত ছিল। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নিরাপত্তা সংকট, মানসম্মত হোটেল ও রিসোর্টের অভাব, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি পর্যটন বিকাশের বড় বাধা হয়ে আছে। কক্সবাজারে যানজট ও পানি সংকট, পাহাড়ি এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধার অভাব এবং পরিবেশ রক্ষায় দুর্বল নজরদারিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। তাদের মতে, বছরে অন্তত ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা গেলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব। এর সুফল পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কৃষি, কারুশিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতেও পড়বে।

সরকারের নতুন উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম, মেডিকেল ট্যুরিজম ও ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী পর্যটন ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেনি। তাই নতুন কমিটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে কার্যকর ব্র্যান্ডিং ও বৈশ্বিক প্রচারণা নিশ্চিত করা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও শক্তিশালী হবে।

পর্যটন খাতকে ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা : ১০০ দিনের সাফল্যে নতুন দিগন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন ভরসা পর্যটন : প্রথম ১০০ দিনে সরকারের অগ্রাধিকার পর্যটন উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি : বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতির চিত্র পর্যটন শিল্পে যুগান্তকারী উদ্যোগ : ১০০ দিনে সরকারের কৌশলগত অগ্রগতি বাংলাদেশকে পর্যটনের হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা :

সরকারের নতুন পদক্ষেপ পর্যটন খাতের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ: অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দরজা অবহেলিত পর্যটন খাতকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ :

সরকারের ১০০ দিনের পরিকল্পনা পর্যটনে নতুন বিনিয়োগ ও নীতিগত সংস্কার : সরকারের উন্নয়ন রূপরেখা পর্যটন শিল্পে সমন্বিত মন্ত্রিসভা কমিটি : অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন অধ্যায় পর্যটন খাতে বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত : সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কৌশল

জনপ্রিয়

পর্যটন খাতে বড় উদ্যোগ, ১০০ দিনে নতুন দিগন্ত খুলতে চায় সরকার

প্রকাশের সময়: ০৯:০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

দেশ পরিচালনায় প্রথম ১০০ দিনেই পর্যটন খাতকে অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে সামনে এনেছে বিএনপি সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে সরকার পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন, সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে উচ্চপর্যায়ের পর্যটনসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিগঠন করেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ উদ্যোগ সফল হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ২১ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা ২৩ মে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। ১৭ সদস্যের এই কমিটির নেতৃত্বে থাকছেন অর্থমন্ত্রী। কমিটিতে স্থানীয় সরকার, স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, পরিবেশ, সংস্কৃতি, ভূমি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন, বাণিজ্য, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, পার্বত্য চট্টগ্রাম, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যানও কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পর্যটন শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ, নতুন সম্ভাবনা চিহ্নিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকারকে নীতিগত পরামর্শ দেবে এই কমিটি। এছাড়া পর্যটন খাতের সমস্যা, সীমাবদ্ধতা ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণেও কাজ করবে তারা।

সরকারের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, পর্যটনকে শুধু বিনোদনের খাত নয়, বরং অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চল, সিলেট-এর চা-বাগান, সেন্ট মার্টিন দ্বীপ ও কাপ্তাই হ্রদ-কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন এ খাত অবহেলিত ছিল। অবকাঠামোগত দুর্বলতা, নিরাপত্তা সংকট, মানসম্মত হোটেল ও রিসোর্টের অভাব, দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক প্রচারণার ঘাটতি পর্যটন বিকাশের বড় বাধা হয়ে আছে। কক্সবাজারে যানজট ও পানি সংকট, পাহাড়ি এলাকায় পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধার অভাব এবং পরিবেশ রক্ষায় দুর্বল নজরদারিও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিকল্পিত বিনিয়োগ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে। তাদের মতে, বছরে অন্তত ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক আকৃষ্ট করা গেলে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় সম্ভব। এর সুফল পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, কৃষি, কারুশিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতেও পড়বে।

সরকারের নতুন উদ্যোগে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই পর্যটনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে ইকো ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম, মেডিকেল ট্যুরিজম ও ধর্মীয় পর্যটনের বিকাশে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশ পর্যটনকে কেন্দ্র করে অর্থনীতিতে বড় অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শক্তিশালী পর্যটন ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে পারেনি। তাই নতুন কমিটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ হবে কার্যকর ব্র্যান্ডিং ও বৈশ্বিক প্রচারণা নিশ্চিত করা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটন খাত দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও শক্তিশালী হবে।

পর্যটন খাতকে ঘিরে সরকারের বড় পরিকল্পনা : ১০০ দিনের সাফল্যে নতুন দিগন্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নতুন ভরসা পর্যটন : প্রথম ১০০ দিনে সরকারের অগ্রাধিকার পর্যটন উন্নয়নে উচ্চপর্যায়ের কমিটি : বদলে যেতে পারে দেশের অর্থনীতির চিত্র পর্যটন শিল্পে যুগান্তকারী উদ্যোগ : ১০০ দিনে সরকারের কৌশলগত অগ্রগতি বাংলাদেশকে পর্যটনের হাবে রূপান্তরের পরিকল্পনা :

সরকারের নতুন পদক্ষেপ পর্যটন খাতের বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ: অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দরজা অবহেলিত পর্যটন খাতকে ঘুরে দাঁড় করানোর উদ্যোগ :

সরকারের ১০০ দিনের পরিকল্পনা পর্যটনে নতুন বিনিয়োগ ও নীতিগত সংস্কার : সরকারের উন্নয়ন রূপরেখা পর্যটন শিল্পে সমন্বিত মন্ত্রিসভা কমিটি : অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন অধ্যায় পর্যটন খাতে বড় রূপান্তরের ইঙ্গিত : সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কৌশল