শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের সন্ধানে এক নারী

দিনাজপুরের হিলিতে হাতে খাবারের ব্যাগ ঝুলিয়ে পথে-ঘাটে আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে চলছেন ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষের সন্ধানে এক নারী। এ যেনো এক ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগী নারী।

জানা যায়, ওই নারী একজন সরকারি চাকুরি জীবি। প্রতি শুক্রবার সকাল হলেই নিজ হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে বেরিয়ে পরেন ক্ষুধার্ত মানুষের সন্ধানে। হাতে খাবারের ব্যাগ, ব্যাগে থাকে ১৮ থেকে ২০ টি খাবারের প্যাকেট। প্রতি প্যাকেটে থাকে কখনও মাংস দিয়ে খিচুড়ি আর সবজি, আবার কখনও থাকে ডিম, সবজি।

রাস্তায় খাবার নিয়ে চলার সময়, যখন দেখে কোন অসহায় বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ভিক্ষা করছেন এবং দিনমজুর মাঠে কাজ করছেন। হয়তো সকালে বাড়ি থেকে না খেয়ে খাবারের খোঁজে বের হয়েছেন তারা। তাদের ডেকে তিনি বলেন, সকালে খাওয়া হয়েছে কি? তখন তাদের কাছে ডেকে ব্যাগ থেকে খাবারের প্যাকেট বের করে তাদের হাতে সযত্নে তুলে দেন তিনি।

অসহায় এক বৃদ্ধা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, সকাল থেকে এখনও কিছু খাইনি বাবা, মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করছি। এক বোরকা পড়া মা এসে আমাদের খাবার দিলো, আল্লাহ এই মায়ের অনেক ভাল করবেন।

দিনমজুর মজিবর রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, সকালে কাজের খোঁজে হিলি শহরে আসছি, এখন সকাল ১০ টা বাজে। এখনও কোন কাজ পাইনি। মনে হয় আজ আর কাজ পাওয়া যাবে না। কাজ না করলে বাড়িতে ছোল-পোল নিয়ে কি খাবো? এমন ভাবতে ভাবেতে আসছি। পথে মধ্যে একজন ভদ্র মহিলা আমার সব কথা শুনে দুই প্যাকেট খাবার দিলো।

নামপ্রকাশ না করা শর্তে ওই নারী জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আমি একজন সাধারণ সরকারি চাকুরিজীবি মানুষ। ছোট থেকে আমার ইচ্ছে আমি মানুষের সেবা করবো এবং ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে নিজের হালাল উপার্জন দিয়ে যতটুক পারি তাদের খাওয়াবো। প্রতি শুক্রবার বাসায় আমি ভাল-মন্দ খাবার তৈরি করি। বেশ কিছু দিন থেকে নিজেদের জন্য আর ভাল খাবার তৈরি করি না। ওই টাকা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের খাবার তৈরি করি এবং  অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে খাবার তুলে দেই।

তিনি আরও বলেন, মানব সেবায় বড় ধর্ম, মানুষের মাঝে লুকিয়ে আছে সৃষ্টিকর্তা। আমি ছোট মানুষ, বড় কিছু দেবার সাধ্য আমার নেই। যতটুকু দিতে পারছি তাদিয়ে আমার আত্মার তৃপ্তি আনছি।

 

 

জনপ্রিয়

অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষের সন্ধানে এক নারী

প্রকাশের সময়: ০৫:২৭:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২০

দিনাজপুরের হিলিতে হাতে খাবারের ব্যাগ ঝুলিয়ে পথে-ঘাটে আর প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছুটে চলছেন ক্ষুধার্ত অসহায় মানুষের সন্ধানে এক নারী। এ যেনো এক ব্যতিক্রম ধর্মী উদ্যোগী নারী।

জানা যায়, ওই নারী একজন সরকারি চাকুরি জীবি। প্রতি শুক্রবার সকাল হলেই নিজ হাতে রান্না করা খাবার নিয়ে বেরিয়ে পরেন ক্ষুধার্ত মানুষের সন্ধানে। হাতে খাবারের ব্যাগ, ব্যাগে থাকে ১৮ থেকে ২০ টি খাবারের প্যাকেট। প্রতি প্যাকেটে থাকে কখনও মাংস দিয়ে খিচুড়ি আর সবজি, আবার কখনও থাকে ডিম, সবজি।

রাস্তায় খাবার নিয়ে চলার সময়, যখন দেখে কোন অসহায় বৃদ্ধ নারী-পুরুষ ভিক্ষা করছেন এবং দিনমজুর মাঠে কাজ করছেন। হয়তো সকালে বাড়ি থেকে না খেয়ে খাবারের খোঁজে বের হয়েছেন তারা। তাদের ডেকে তিনি বলেন, সকালে খাওয়া হয়েছে কি? তখন তাদের কাছে ডেকে ব্যাগ থেকে খাবারের প্যাকেট বের করে তাদের হাতে সযত্নে তুলে দেন তিনি।

অসহায় এক বৃদ্ধা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, সকাল থেকে এখনও কিছু খাইনি বাবা, মানুষের বাড়ি বাড়ি ভিক্ষা করছি। এক বোরকা পড়া মা এসে আমাদের খাবার দিলো, আল্লাহ এই মায়ের অনেক ভাল করবেন।

দিনমজুর মজিবর রহমান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, সকালে কাজের খোঁজে হিলি শহরে আসছি, এখন সকাল ১০ টা বাজে। এখনও কোন কাজ পাইনি। মনে হয় আজ আর কাজ পাওয়া যাবে না। কাজ না করলে বাড়িতে ছোল-পোল নিয়ে কি খাবো? এমন ভাবতে ভাবেতে আসছি। পথে মধ্যে একজন ভদ্র মহিলা আমার সব কথা শুনে দুই প্যাকেট খাবার দিলো।

নামপ্রকাশ না করা শর্তে ওই নারী জাগো২৪.নেট-কে বলেন, আমি একজন সাধারণ সরকারি চাকুরিজীবি মানুষ। ছোট থেকে আমার ইচ্ছে আমি মানুষের সেবা করবো এবং ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে নিজের হালাল উপার্জন দিয়ে যতটুক পারি তাদের খাওয়াবো। প্রতি শুক্রবার বাসায় আমি ভাল-মন্দ খাবার তৈরি করি। বেশ কিছু দিন থেকে নিজেদের জন্য আর ভাল খাবার তৈরি করি না। ওই টাকা দিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের খাবার তৈরি করি এবং  অসহায় ক্ষুধার্ত মানুষগুলোকে খুঁজে বের করে তাদের হাতে খাবার তুলে দেই।

তিনি আরও বলেন, মানব সেবায় বড় ধর্ম, মানুষের মাঝে লুকিয়ে আছে সৃষ্টিকর্তা। আমি ছোট মানুষ, বড় কিছু দেবার সাধ্য আমার নেই। যতটুকু দিতে পারছি তাদিয়ে আমার আত্মার তৃপ্তি আনছি।