তফসিল ঘোষণা না হলেও দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌঁড়ঝাপ ও গণসংযোগ শুরু হয়েছে। এসব প্রার্থী করছেন দলীয় মিটিং, উঠান বৈঠক, পথসভা ও গণসংযোগও। যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে। হাট-বাজারে মানুষের সাথে করছেন কুশল বিনিময়। সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রার্থীতা ঘোষণা দেয়ার সাথে সাথেই শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। প্রার্থীদের পাশাপাশি বসে নেই তাদের কর্মী সমর্থকরাও। তারা নিজ নিজ পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ নানাভাবে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন-গত উপজেলা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আবু হাতেমের ছেলে আনোয়ার হোসেন রানা এবং আঙ্গারপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ধীমান চন্দ্র দাস। অপরদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মরহুম আকবর আলী শাহ্ ছেলে ও দুই বার নির্বাচিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সহিদুজ্জামান শাহ, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্যানেল চেয়ারম্যান এটিএম সুজাউদ্দিন লুহিন শাহ্ ও জেলা পরিষদের সদস্য শরিফুল আলম প্রধান।
সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সহিদুজ্জামান শাহ্ বলেন, ‘আমার পিতা মরহুম আকবর আলী শাহ ছিলেন একজন রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সমাজসেবক ও দক্ষ সংগঠক। তার সম্মান ও আদর্শ নিয়েই আমি ছাত্রজীবন থেকে মানুষ ও এলাকার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ইনশাআল্লাহ জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থনে আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করব।’
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন বলেন, ‘গত উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নৌকা প্রতীক নিয়ে স্বল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছি। নির্বাচনে পরাজিত হলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বসে নেই। সকলকে সাথে নিয়ে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপির নেতৃত্ব এলাকার উন্নয়ন এবং করোনা মহামারীসহ বিভিন্ন দূর্যোগে ও বিপদ-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে ছিলাম। সে হিসেবে আমি আশা করি, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দেবেন। নৌকা প্রতীক পেলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান তিনি।
প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান আবু হাতেমের ছেলে আনোয়ার হোসেন রানা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, ‘আমার বাবা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে আমাকে আমার বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ প্রদানে জননেত্রী শেখ হাসিনা অবশ্যই মূল্যায়িত করবেন। নৌকার মনোনয়ন পেলে বিপুল ভোটে জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’
উপজেলা নির্বাচন অফিসার জিকরুল হক জাগো২৪.নেট-কে বলেন, নির্বাচন কমিশন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের বিষয়ে এখনও কোন নির্দেশনা দেয়নি। নির্দেশনা এলে নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতাজনিত কারণে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হাতেমের মৃত্যু হলে পদটি শূন্য হয়। পদ শুন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনী বাধ্যবাধকতা থাকায় নড়েচড়ে বসেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও দলীয় নেতাকর্মীরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীর প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন।

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















