পীরগঞ্জের কাদিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত খেলার মাঠে এবার নতুন দোকানঘরের জায়গা বরাদ্দ দেয়া নিয়ে আবারো ক্ষোভে ফুসে উঠেছে এলাকাবাসী।
বৃহষ্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে ওই বিদ্যালয়ের মিলনায়তন কক্ষে জরুরী সভা করে দোকানঘর বরাদ্দ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। এর আগেও মাঠটি একটি ইটভাটাকে কয়েক বছরের জন্য প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি লীজ দিয়েছিল। ওই ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে এ্যাডহক কমিটি রয়েছে।
এলাকাবাসীর সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের কাদিরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্মুক্ত খেলার মাঠটি নিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বরাবরই রোজগারের জন্য ব্যবহার করে আসছে। এ নিয়ে বিদ্যালয়টির অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয়রা মানববন্ধন, মামলা, স্মারকলিপি প্রদান করে আসছে। ২০১৩ সালের দিকে মাঠটি এইট ইটভাটাকে লীজ দিলে কয়েক বছর খেলাধুলা বন্ধ থাকে। একপর্যায়ে ২০১৩ সালে মাঠটি রক্ষায় বিদ্যালয়টির ৫ জন অভিভাবক সদস্য বাদী হয়ে রংপুরে সহকারী জজ আদালত পীরগঞ্জ এ ১৩০/১৩ নং একটি মামলা করে। ওই মামলা এখনো চলমান রয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টি পরিচালনার জন্য এ্যাডহক কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির সাথে আতাত করে প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান সপ্তাহখাকে আগে খেলার মাঠটির সামনে দিয়ে যাওয়া খালাশপীর-ভেন্ডাবাড়ী সড়কেরসাথে ৩২ টি দোকানঘরের জায়গা বরাদ্দ দেয়। প্রতিটি দোকানের জন্য ২ লাখ টাকা করে জামানত নেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ওই বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষকও দোকানঘর বরাদ্দ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহষ্পতিবার দোকানঘর নির্মানের জন্য লটারি করার জন্য জরুররী সভা করা হয়। কিন্তু এলাকাবাসী আবারো প্রতিবাদ করলে তড়িঘড়ি করে সভায় দোকানঘর নির্মানের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মানুষ বলেন, প্রধান শিক্ষক বরাবরই মাঠটি নিয়ে এলাকাবাসীকে ক্ষেপিয়ে তুলছে। এবারে তিনি (প্রধান শিক্ষক) মদনখালী ইউনিয়নের এক ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতাকে এ্যাডহক কমিটিতে সভাপতি করে আরও দুর্নীতি করছে। আমরা তা হতে দিবো না। এ ব্যাপারে খেলার মাঠ রক্ষায় করা মামলার বাদী সামছুজ্জামান সরকার বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক বরাবরই ম্যানেজিং কমিটির সাথে আতাত করে বিদ্যালয় থেকে অনৈতিক সুবিধা গ্রহন করছে। এবারেও তেমনই করছেন তিনি। অথচ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত কমিটি নেই। এ্যাডহক কমিটি দিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নেয়ায় খেলার মাঠ রক্ষায় আমরা এলাকাবাসী আবারো প্রতিবাদ করছি। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, আমরা আজকে (গতকাল) মিটিং ডেকেছি যে, এ্যাডহক কমিটি দোকান নির্মানের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিতে পারে কি না? যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। তা স্থগিত করা হয়েছে।
সরকার বেলায়েত, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পীরগঞ্জ (রংপুর) 

















