রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাঁথিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

পাবনার সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।অনৈতিক উপায়ে ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।প্রতিবছর একাধিকবার তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মাঝেমধ্যে তদন্তও হয়।কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বোর্ড ও অধিদপ্তরে পত্র পাঠায়।কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপই নেয়া হয় না।এটি একটি জাতীয়করণকৃত স্কুল হলেও বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে একটা সাইনবোর্ড(নামফলক) পর্যন্ত লেখা নেই।অপরদিকে ২০১২ সালে বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে ফেলার পর আর তা মেরামত করা হয়নি।এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়টির সম্মুখদিকে তাকালে এখন মনে হয় এ যেন কোন ময়লার ভাগাড়। অন্যান্যবারের মতো এবারও তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে প্রধানমন্ত্রীর দরিদ্রতহবিল থেকে উপবৃত্তির অনলাইন আবেদনের নামে অর্থ আদায় করছেন প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ। সততা কম্পিউটারের মালিক মিলন হোসেনের সাথে যোগসাজস করে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে দুই শত টাকা করে আদায় করছেন। সততা কম্পিউটারের মালিক মিলন হোসেন এর কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ স্যার দু’শত করে টাকা নিতে বলেছেন।

সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওযা হলে তিনি বলেন, আমি কোন কম্পিউটারের দোকান্দারকে টাকা নিতে বলিনি। উপবৃত্তির ফরম পূরণ করে কম্পিউটারের দোকানে জমা দিতে বলেছি। অপরদিকে গত বছরের শেষের দিকে উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২৮০ টাকা করে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোন কারণ ছাড়াই প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ গত বছর ৮ম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে অন লাইনের কথা বলে ৫০টাকা করে আদায় করেছেন। অপরদিকে উপবৃত্তির কথা বলে দুই শ’ আশি টাকা করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়ও করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়,গত বছর এসএসসি ভোকেশনাল নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ড নির্ধারিত দিন ২২/১২/২১ থেকে ২৮/১২/২১ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সচিব বিজয় কুমার দেবনাথ এসবের নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে একদিনে হাজিরা সীটে চারটি স্বাক্ষর নিয়ে স্ব স্ব বিষয় ট্রেডের শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকার সমন্বয় বা তাদের পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ওইসব শিক্ষকদের সম্মানীর সমুদয় অর্থ তিনি একাই হাতিয়ে নেন। এসব কর্মকান্ড তিনি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। কোন শিক্ষক এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অশালীন মন্তব্য করেন বলে জানান ওই শিক্ষক। গত বছরের আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা ফেরত দেননি। ২০১৮ সালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি তাকে পদচ্যুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ বরাবর পত্র দিয়েছিল।কিন্তু অদৃশ্যকারণে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়া হয় না।

সাঁথিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের উপবৃত্তির ফরমপূরণে অর্থ নেওযার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, উপবৃত্তির অনলাইন ফরমপূরণের ক্ষেত্রে কোন প্রকার অর্থ নেওয়ার কোন বিধান নেই। এটা সরকারি বিধিবর্হিভুত। অনলাইন ফরমপূরণ প্রতিষ্ঠান থেকে করার কথা। স্কুলটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জামাল অহমেদ জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাঁথিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৪:৪৬:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ এপ্রিল ২০২২

পাবনার সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই।অনৈতিক উপায়ে ২০১৫ সালে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে যোগদানের পর থেকেই তিনি একের পর এক বিতর্কের সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।প্রতিবছর একাধিকবার তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। মাঝেমধ্যে তদন্তও হয়।কমিটি তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করে বোর্ড ও অধিদপ্তরে পত্র পাঠায়।কিন্তু অদৃশ্য কারণে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক পদক্ষেপই নেয়া হয় না।এটি একটি জাতীয়করণকৃত স্কুল হলেও বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে একটা সাইনবোর্ড(নামফলক) পর্যন্ত লেখা নেই।অপরদিকে ২০১২ সালে বিদ্যালয়ের প্রাচীর ভেঙে ফেলার পর আর তা মেরামত করা হয়নি।এক সময়ের দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়টির সম্মুখদিকে তাকালে এখন মনে হয় এ যেন কোন ময়লার ভাগাড়। অন্যান্যবারের মতো এবারও তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিকট থেকে প্রধানমন্ত্রীর দরিদ্রতহবিল থেকে উপবৃত্তির অনলাইন আবেদনের নামে অর্থ আদায় করছেন প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ। সততা কম্পিউটারের মালিক মিলন হোসেনের সাথে যোগসাজস করে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে দুই শত টাকা করে আদায় করছেন। সততা কম্পিউটারের মালিক মিলন হোসেন এর কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমাকে প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ স্যার দু’শত করে টাকা নিতে বলেছেন।

সাঁথিয়া সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওযা হলে তিনি বলেন, আমি কোন কম্পিউটারের দোকান্দারকে টাকা নিতে বলিনি। উপবৃত্তির ফরম পূরণ করে কম্পিউটারের দোকানে জমা দিতে বলেছি। অপরদিকে গত বছরের শেষের দিকে উপবৃত্তির ফরম পূরণের কথা বলে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ২৮০ টাকা করে নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ওই বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোন কারণ ছাড়াই প্রধান শিক্ষক বিজয় কুমার দেবনাথ গত বছর ৮ম শ্রেণির প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নিকট থেকে অন লাইনের কথা বলে ৫০টাকা করে আদায় করেছেন। অপরদিকে উপবৃত্তির কথা বলে দুই শ’ আশি টাকা করে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়ও করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়,গত বছর এসএসসি ভোকেশনাল নবম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা শেষে ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ড নির্ধারিত দিন ২২/১২/২১ থেকে ২৮/১২/২১ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু কেন্দ্র সচিব বিজয় কুমার দেবনাথ এসবের নিয়মনীতির কোন তোয়াক্কা না করে একদিনে হাজিরা সীটে চারটি স্বাক্ষর নিয়ে স্ব স্ব বিষয় ট্রেডের শিক্ষকদের সাথে কোন প্রকার সমন্বয় বা তাদের পরীক্ষা নেয়ার সুযোগ না দিয়ে ওইসব শিক্ষকদের সম্মানীর সমুদয় অর্থ তিনি একাই হাতিয়ে নেন। এসব কর্মকান্ড তিনি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন। কোন শিক্ষক এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে তিনি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ অশালীন মন্তব্য করেন বলে জানান ওই শিক্ষক। গত বছরের আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দেয়ার কথা থাকলেও তিনি তা ফেরত দেননি। ২০১৮ সালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটি তাকে পদচ্যুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ বরাবর পত্র দিয়েছিল।কিন্তু অদৃশ্যকারণে তার বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থাই নেয়া হয় না।

সাঁথিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের উপবৃত্তির ফরমপূরণে অর্থ নেওযার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, উপবৃত্তির অনলাইন ফরমপূরণের ক্ষেত্রে কোন প্রকার অর্থ নেওয়ার কোন বিধান নেই। এটা সরকারি বিধিবর্হিভুত। অনলাইন ফরমপূরণ প্রতিষ্ঠান থেকে করার কথা। স্কুলটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম জামাল অহমেদ জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।