সরকার যখন দেশের অসহায় মানুষের পাশে জমিসহ বাড়ী নিমার্ণ করে দিচ্ছে। দু’বেলা দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে বিধবা, বয়স্ক ভাতার ব্যবস্থা করেছে। ঠিক এমন সময় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে সরকারের এ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ভাতাভোগিদের দু’মুঠো খাবার কেড়ে নিতে উঠে পড়ে লেগেছে ভোলাহাট উপজেলার দলদলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বাররা।
জানা যায়, গত ১৭ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত উপজেলার দলদলী ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় বিধবা ৩৬৫ ও বয়স্ক ৩৬৮জন মোট ৭৩৩ জনের মধ্যে ব্যাংক এশিয়ার এ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জনপ্রতি ৪হাজার ৫০০ টাকা করে দেয়া অব্যহত আছে। ভাতা প্রদান শুরুর পূর্বে ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বারেরা গোপন বৈঠকে অলিখিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশদের বাড়ীতে বাড়ীতে পাঠিয়ে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট খোলার নামে ৩০০ টাকা করে আদায় করেন। যারা দিতে পারেনি তারা ভাতা নিতে আসলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বারেরা তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করেন এমন অভিযোগ করেছেন ভূক্তভুগিরা। দলদলী ইউনিয়নের মোট ৭৩৩জন ভাতাভোগির কাছে ৩০০ টাকা করে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ টাকা আদায় করা হয়।
অভিযোগের ভিত্তিতে সরজমিন গিয়ে ভাতাভোগি বিধবা রাবেয়া বেগম, মানোয়ারা বেগম, লতা বেগম, মাজিদা বেগম, মাবিয়া বেগম, বয়স্ক ভাতাভোগি খোসমোহম্মদ, মোঃ মমতাজ উদ্দিনসহ অনেকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, গ্রামপুলিশ বাড়ীতে গিয়ে ব্যাংক এ্যাকাউন্ট করার জন্য টাকা লাগবে বলে ৩০০ টাকা নিয়ে এসেছে। যারা বাড়ীতে টাকা দিতে পারেনি তঁদের কাছ থেকে পরিষদে বসে মেম্বারেরা ৩০০ টাকা করে আদায় করছে। টাকা না দিলে ভাতার টাকা পাওয়া যাবে না বলে মেম্বার ও গ্রামপুলিশেরা বলেছে বলে জানান।
২নং ওয়ার্ড গ্রামপুলিশ মোঃ আব্দুল হান্নান বলেন, আমাদের ৩০০ টাকা করে তুলতে বলায় বাড়ী বাড়ী গিয়ে ভাতাভোগিদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে ১নং ওয়াড় মেম্বার মোঃ আরসেদ আলী খালেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে খরচ বাবদ ৩০০ টাকা করে নেয়ার কথা স্বীকার করেন। একই বিষয়ে ৭নং ওয়ার্ড মেম্বার মোঃ বাবুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি খরচবাবদ ৩০০ টাকা নেয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এ টাকা দিয়ে দুপুরে পিকনিক করে সবাই মিলে খাওয়া-দাওয়া করতেই শেষ হয়ে যায়। তিনি বলেন, টাকা নেয়ার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম পরিষদে এসে টাকা নেয়ার সত্যতা পান। এ সময় তিনি সকলকে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলেন। এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে বাবু বলেন, টাকা ফেরত দিলে আমরা ছোট হয়ে যাবো তাই টাকা ফেরত দেয়া হয়নি। ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বারগণ অসহায় বিধবা ও বয়স্ক ভাতাভোগিদের টাকা হরিলুটের প্রতিযোগিতায় সরকারের ভাবমূর্তি চরম ভাবে ক্ষুন্ন করার চেষ্টা বলছেন সচেতনমহল।
দলদলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হক চুটু ভাতাভোগিদের কাছে টাকা নেয়ার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করেন তবে তিনি না মেম্বারেরা নিয়েছেন বলে নিজেকে দায়মুক্ত করার চেষ্টা করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ ঘটনায় ক্ষমা চান এবং প্রত্যেক ভাতাভোগিকে আদায়কৃত টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলেন। তবে টাকা ফেরত দেয়ার কথা বললে ৩দিনেও কাউকে টাকা ফেরত দেয়া হয়নি জানিয়েছেন ভাতাভোগিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গেলে কেউ কেউ সত্যতা স্বীকার করেন কেউ অস্বীকার করেছেন। তবে যাঁদের কাছে টাকা নিয়েছেন তাঁদের টাকা ফেরত দিতে বলেছি বলে জানান।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রাব্বুল হোসেন বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করবেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবী করেন।
আলি হায়দার রুমান, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ 

















