আগুন লাগার কথা শুনে আমি বাড়ি থেকে দৌড়ে আসি দোকানের কাছে, এসে দেখি আগুনে পুড়ে গেছে আমার সব মালামাল। আমার একমাত্র রোজগারের পথ ছিল দোকানটি। এখন আমি কি করবো, কি করে পরিবার চালাবো” কান্না জর্জরিত কন্ঠে এমনটিই বলছিলেন গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কালতামারী গ্রামের বড়ভিটার বাবু মিয়া (৩৫)।
সোমবার দিবাগত দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বড়ভিটা বাজারে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে৷ এতে তিনটি দোকানের মালামাল পুড়ে যায়। স্থানীয়রা বিদ্যুতের শর্ট শার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাতের কথা নিশ্চিত করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দোকানিরা অশ্রুসিক্ত চোখে তাদের পুড়ে যাওয়া দোকানগুলো দেখছেন এবং মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন।
আগুন লাগার পর জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানালেও তারা সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। পরে এলাকাবাসী ৩০ মিনিটের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় বাবু মিয়া (৩৫), রাজু আহমেদ (৩০) এবং ভবেষ চন্দ্রের (২৮) স্বপ্ন। দীর্ঘ পাচঁ বছর যাবৎ কাতলামারীর বড়ভিটায় ডেকোরেটরের ব্যবসা করে আসছিলেন রাজু আহমেদ। ব্যবসা বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ ও নিয়েছিলেন। এখনো সেই টাকা শোধ দিতে পারেন নি। এর মধ্যেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার মালামাল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বাবু মিয়া (৩৫) বলেন, “এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ইলেকট্রনিকস মালামালের দোকান দিয়েছিলাম। দোকানে প্রায় ৪ লক্ষ টাকার মালামাল ছিল। আগুনে সব মালামাল পুড়ে শেষ।”
নরসুন্দর ভবেষ চন্দ্র বলেন, আমি কোন রকমে চুল কেটে আমার ৩ সদস্যের পরিবারে ভরণপোষণের খরচ চালাই। আমার দোকানে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মালামাল ছিল। সব পুড়ে গেছে। এখন আমার আয় রোজগারের পথ বন্ধ। কি করব, কিছুই ভেবে পাচ্ছি না?
দোকান মালিকরা জানান, ডেকোরেটর, ইলেকট্রনিকস ও সেলুন মিলে মোট ১২ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।
ফুলছড়ি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস লিডার নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, ” আমরা ফোন পাওয়ার সাথে সাথেই গাড়ি নিয়ে রওনা দিয়েছিলাম। কিন্ত রাস্তার মাঝপথে আমাদের কাছে ফোন আসে, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই আর ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়নি।
আগুনে ৩টি দোকান পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, ফুলছড়ি 

















