মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশনের ঘটনায় প্রেমিক আবু তালেব রানা নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এ আত্নহত্যার ঘটনাটি বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকায় ঘটেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকার মনছুর রহমানের ছেলে আবু তালেব রানার সাথে খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বাউরাপাড়ার রশিদুল ইসলামের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর মেয়েটাকে বিয়ের প্রলোভনও দেখায়। পরে ছেলেটি অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ালে গত রবিবার ঈদের নামাজের পর প্রেমিকা তালেবের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন। এ ঘটনায় আবু তালেব বিয়েতে অসম্মতি জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরই সূত্রে মঙ্গলবার মেয়ের পরিবার থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্মরত এস আই শিমুল স্থানীয়ভাবে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করার পরামর্শ দেন।

এদিকে, আবু তালেবও সন্ধ্যার পর মুঠোফোনে মেয়েটিকে বিয়ে করার কথা স্থানীয় ইউপি সদস্য আফসেদুল ইসলামকে জানান। পরে রাত প্রায় ১০টার দিকে আবু তালেব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে “বিদায় পৃথিবী বিদায় আমার সকল ফেসবুক ফ্রেন্ড আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন আমিন” পোস্ট দিয়ে বিষপান করে হোসেনপুরে তার বোনের বাড়ি গিয়ে বমি করা শুরু করে। পরে তার বোনের পরিবারের লোকজন বিষপানের বিষয়টি টের পেয়ে তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবু তালেবের চাচা আফজাল হোসেন বলেন, ছেলেকে আমরা ওই মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য রাজি করিয়েছি। সে বাড়ি আসার পথে স্থানীয় ইউপি সদস্যা দুখুনি ছাপ্পার ছেলে আলমগীর ২ লাখ টাকার জন্য চাপ দেন। টাকা না দিলে পরিবারের সকলের নামে মামলা দেয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে আমাদের ছেলে বিষপান করে আতœহত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবি জানাই।

ইউপি সদস্য আফসেদুল ইসলাম বলেন, থানা থেকে ফোন দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য বললে আমি আবু তালেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করি। সে আমাকে রাতের মধ্যেই বিয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে। আর আমার সাথে কোন ধরনের টাকা লেনদেনের কথা হয় নি। যা তার পরিবার আমাকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায় বলেন, অনশনের ঘটনায় পুলিশ তো বিয়ে কিংবা মেয়েকে বের করে দিতে পারে না। তাই স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসা করার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা

প্রকাশের সময়: ০৭:৪৩:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ জুলাই ২০২২

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকার অনশনের ঘটনায় প্রেমিক আবু তালেব রানা নামে এক যুবক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে। এ আত্নহত্যার ঘটনাটি বুধবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকায় ঘটেছে।

জানা গেছে, উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ডাঙ্গারহাট এলাকার মনছুর রহমানের ছেলে আবু তালেব রানার সাথে খামারপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের বাউরাপাড়ার রশিদুল ইসলামের মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর মেয়েটাকে বিয়ের প্রলোভনও দেখায়। পরে ছেলেটি অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়ালে গত রবিবার ঈদের নামাজের পর প্রেমিকা তালেবের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেন। এ ঘটনায় আবু তালেব বিয়েতে অসম্মতি জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরই সূত্রে মঙ্গলবার মেয়ের পরিবার থানায় অভিযোগ করতে গেলে কর্মরত এস আই শিমুল স্থানীয়ভাবে ইউপি সদস্যের মাধ্যমে বিষয়টি মিমাংসা করার পরামর্শ দেন।

এদিকে, আবু তালেবও সন্ধ্যার পর মুঠোফোনে মেয়েটিকে বিয়ে করার কথা স্থানীয় ইউপি সদস্য আফসেদুল ইসলামকে জানান। পরে রাত প্রায় ১০টার দিকে আবু তালেব তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে “বিদায় পৃথিবী বিদায় আমার সকল ফেসবুক ফ্রেন্ড আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন আমিন” পোস্ট দিয়ে বিষপান করে হোসেনপুরে তার বোনের বাড়ি গিয়ে বমি করা শুরু করে। পরে তার বোনের পরিবারের লোকজন বিষপানের বিষয়টি টের পেয়ে তাকে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আবু তালেবের চাচা আফজাল হোসেন বলেন, ছেলেকে আমরা ওই মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার জন্য রাজি করিয়েছি। সে বাড়ি আসার পথে স্থানীয় ইউপি সদস্যা দুখুনি ছাপ্পার ছেলে আলমগীর ২ লাখ টাকার জন্য চাপ দেন। টাকা না দিলে পরিবারের সকলের নামে মামলা দেয়ার হুমকি দেন। বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে আমাদের ছেলে বিষপান করে আতœহত্যা করেছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে জোর দাবি জানাই।

ইউপি সদস্য আফসেদুল ইসলাম বলেন, থানা থেকে ফোন দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করার জন্য বললে আমি আবু তালেবের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করি। সে আমাকে রাতের মধ্যেই বিয়ের বিষয়ে নিশ্চিত করে। আর আমার সাথে কোন ধরনের টাকা লেনদেনের কথা হয় নি। যা তার পরিবার আমাকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায় বলেন, অনশনের ঘটনায় পুলিশ তো বিয়ে কিংবা মেয়েকে বের করে দিতে পারে না। তাই স্থানীয়ভাবে বসে মিমাংসা করার পরামর্শ দেয়া হয়। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।