বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

অনন্য নিদর্শন ৫০০ বছরের সুরা মসজিদ

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১১ নভেম্বর, ২০২২

 অন্তত ৫০০ বছর আগে নির্মিত পোড়ামাটির অলংকরণ ও চিত্রফলকের মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন দিনাজপুরের ঐতিহাসিক সুরা মসজিদ। পৌরাণিক শহর দিনাজপুরের কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মসজিদটি দেখতে প্রতিনিয়তই ভিড় করে লোকজন। আবার কেউ মানতের শিরনি দেয়ার জন্য এখানে আসেন। এ মসজিদটি নিয়ে রয়েছে নানা কল্পকথা। তবে আরও সংস্কার এবং নির্মাণশৈলী পুনর্নির্মাণ করা হলে দেশি-বিদেশি পর্যটকের ব্যাপক আগমন ঘটবে বলে আশাবাদ এলাকাবাসীর। মসজিদটি জনহীন এক জনপদের নীরব সাক্ষী। এর নাম নিয়ে আছে নানা কথা। কেউ বলেন ‘সৌর মসজিদ’, কেউ বলেন ‘সুরা মসজিদ’, আবার কেউ ‘শাহ সুজা মসজিদ’। সুর শব্দের অর্থ অপদেবতা বা জিন।

স্থানীয় এক বয়োবৃদ্ধ জানান, সে সময় এক রাতের মধ্যে জিনরা এটি নির্মাণ করে। তাই এর নাম হয়েছে সুরা মসজিদ। আবার অনেকে বলেন, মোগল আমলে বাংলার নবাব শাহ সুজা এটি নির্মাণ করেন বলে নাম শাহ সুজা মসজিদ হয়েছে। মসজিদটি নিয়ে এ ধরনের নানা জনশ্রুতি রয়েছে।ঘোড়াঘাট উপজেলা সদর থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং হিলি রেলস্টেশন থেকে অন্তত ১৯ কিলোমিটার পূর্বে চৌরগাছা গ্রামে ঘোড়াঘাট-হিলি রাস্তার পাশে দিনাজপুরের প্রাচীন মসজিদগুলোর মধ্যে অন্যতম এ সুরা মসজিদটি অবস্থিত। ঘোড়াঘাটে মুসলিম আমলের পাকা ঘাটওয়ালা বিশাল দিঘির পাশেই এ সুরম্য মসজিদটি। বারান্দাসহ পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা এ মসজিদের মাপ অন্তত ৪২ বাই ২৬ ফুট। বারান্দার বাইরের মাপ অন্তত ১৪ বাই ২৬ ফুট। বারান্দার ভিতরের মাপ অন্তত ১৬ বাই ৮ ফুট। ৪ ফুট উঁচু মজবুত প্ল্যাটফরমের ওপর মসজিদের কাঠামো গড়ে উঠেছে। প্রধান কক্ষের সঙ্গে যুক্ত আছে ৬ ফুট প্রশস্ত রাস্তা। বারান্দার পরই মসজিদের প্রধান কামরা এবং সে কামরার ভিতরের আয়তন অন্তত ১৬ বাই ১৬ ফুট। পূর্ব-পশ্চিম ও মাঝের দেয়াল অন্তত ৮ ফুট করে পুরু। উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে রয়েছে তিনটি করে দরজা। মাঝের দরজা দুইটি পাশের দরজাগুলোর চেয়ে আকারে বড়। বারান্দাসহ উত্তর ও দক্ষিণ দেয়ালে দুটি করে দরজা রয়েছে। ভিতরে পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে তিনটি মেহরাব। মাঝের মেহরাবটি আকারে বড়। মসজিদের চারটি মিনার বা স্তম্ভ ছিল। এগুলো পাথরের এবং পাথর কেটে মাপমতো তৈরি করা হয়েছিল। মিনারগুলো দেয়ালের ইটের সঙ্গে শক্তভাবে গেঁথে দেয়া হয়েছিল। মিনারগুলো ছাদের কিছু ওপরে উঠেছিল। এখন ছাদ পর্যন্তই রয়েছে। মসজিদের কার্নিশগুলো বাঁকানো। ৩১ একর ২১ শতাংশ জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি। তবে শুধু মসজিদটি রয়েছে ১৯ শতাংশের ওপর।

প্রধান কামরার প্রতি কোণে ও প্রতিটি দেয়ালের প্রায় মাঝামাঝি বাইরের দিকে পাথরের মোটা গাঁথুনি রয়েছে এবং সেগুলো ছাদ পর্যন্ত উঠে গেছে। প্রতি দরজার চৌকাঠও পাথরের। প্রধান কামরার ওপরে রয়েছে একটি মাত্র গম্বুজ। গম্বুজটি দেখতেও মনোরম। বারান্দার ওপর রয়েছে তিনটি ছোট গম্বুজ। মসজিদের বাইরে কোনো প্লাস্টার নেই। পরিবর্তে অতি সুন্দর পোড়ামাটির চিত্রফলকের কাজ ছিল। নানাপ্রকার লতাপাতা, ফুল, ঝুলন্ত শিকল ইত্যাদির কাজ উন্নতমানের ছিল। মসজিদের ভিতরে মেহরাবগুলোও একই ধরনের পোড়ামাটির চিত্রফলক ছিল।মসজিদের বাইরের দিকে দেয়ালের গায়ে ছোট ছোট খোপকাটা টেরাকোটা অলংকরণ ইমারতের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে। লতাজাতীয় ভিন্ন নকশায় বাইরের দেয়াল সুসজ্জিত যা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তবে এখন এসব কারুকার্য অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন