শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০১:২৪ পূর্বাহ্ন

জ্বিনের বাদশাহর খপ্পড়ে পড়ে সর্বশান্ত গৃহবধূ

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর)
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২২ নভেম্বর, ২০২২

দিনাজপুরের খানসামায় কথিত জ্বিনের বাদশার খপ্পরে পড়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা খুঁইয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন নাজমা খাতুন (৩৬) নামে এক গৃহবধূ। নাজমা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের গোয়ালডিহি গ্রামের ধনেশাহ্পাড়ার মো. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী। এ ঘটনায় মামলা দায়ের হলে থানা পুলিশ কথিত জ্বিনের বাদশা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জের গোসাইপুর চরপাড়ার তবিবুর রহমানের ছেলে মুক্তার রহমান (২৭) কে আটক করেছে।

থানা পুলিশ ও নাজমা খাতুন জানান, গত ১২ আগস্ট মধ্যরাতে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার থেকে ইমাম সাহেবের ফোন দিয়ে জ্বিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে এক প্রতারক মোবাইলে ফোন করেন। তিনি বলেন-তুমি ভাগ্যবান, তোমার ভাগ্য খুলে গেছে। তোমার মতো ভাগ্য আর কারো হয় না। তুমি ৭ হাড়ি সোনার মোহর পাবে। তিনি আরো জানান, সোনার মোহর পেতে হলে ২টি কোরআন শরিফ, জায়নামাজ ও আগরবাতির নির্যাস কেনার জন্য আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে। মোবাইল কলের বিষয়ে নাজমা তার স্বামীর সাথে কথা বলে সহজ-সরল বিশ্বাসে স্থানীয় ভুল্লারহাটে বিকাশের দোকান থেকে জ্বিনের বাদশার দাবিকৃত টাকা পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে একই নম্বর থেকে জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে আবারো ফোন করা হয়। এসময় তিনি (জ্বিনের বাদশা) জানান, তোমার বাড়িতে শুকরের হাড় আছে। এসব হাড় সরাতে হবে। এ জন্য তোমাকে উট কুরবানি করতে হবে। তোমার পিতামাতা আগুনের পোশাক পরিধান করে আছে। এসব দূর করতে হবে। এগুলো না সরালে তোমার বংশ নির্বংশ হবে। এছাড়াও আরো নানান ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। এসব ভয়ভীতির কারণে নাজমা আবাদি জমিসহ বাড়ির গরু-ছাগল বিক্রি করে গত ১৩ আগস্ট থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত জ্বিনের বাদশার দেয়া ০১৮৯৪–৪৯, ০১৭৬১–৮৮, ০১৯০৯–২০, ০১৭২১–৮৫ ও ০১৮৬৯–৫৯ বিকাশ নম্বরে চিরিরবন্দর উপজেলার গ্রামীণ শহর রানীরবন্দর এবং খানসামা উপজেলার কাচিনীয়া ও পাকেরহাট থেকে ৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা প্রদান করেন। মনভোলানো কথামালার ছলাকলায় সুকৌশলে জ্বিনের বাদশা নাজমার নিকট থেকে এসব টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর কৌশলে তিনি আরো জানান, তোমার বাড়িতে স্বর্ণালংকার আছে সেগুলোও জ্বিনের বাদশাকে দিতে হবে এবং এর বিনিময়ে নাজমা সোনার মোহর পাবে। প্রতারক জ্বিনের বাদশার কথামতো দিনাজপুরে গিয়ে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার কিনে জ্বিনের বাদশার কথিত এক খাদেম একটা ‘সোনার পুতুল’ লাল রঙের কাপড়ে মুড়িয়ে দেন। তারপর বলেন, এ ঘটনা কারো নিকট প্রকাশ করা যাবে না। এ ঘটনা প্রকাশ হলে বা পুতুল খোলা হলে তার সন্তানের মৃত্যু হবে অথবা অন্ধ হয়ে যাবে। মূর্তি নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসার পর সোনার মোহর না পাওয়ায় তার সন্দেহ হয়। কথিত জ্বিনেরর বাদশার প্রতারণার খপ্পড়ে পড়ে নাজমার পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ে। এরপর তিনি থানায় গিয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এ ঘটনায় গত ২০ নভেম্বর রবিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টায় গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় খানসামা থানা পুলিশ মুক্তার রহমানকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন এবং গত সোমবার সকালে তাকে আদালতে পাঠায়।

খানসামা থানার সাব-ইন্সপেক্টর শামীম মিয়া জানান, মামলার বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত জ্বিনের বাদশার মোবাইল নম্বরের বিকাশের হিসাব বিবরণ সংগ্রহ করে সনাক্ত করার পর কথিত জ্বিনের বাদশাকে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের সাহায্যে রাতভর অভিযান চালিয়ে মুক্তার রহমানকে আটক করা হয়। এসময় তার নিকট থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ সিমসহ মোবাইল ফোন উদ্ধার করা। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন