শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১০:১৪ অপরাহ্ন

ইগলে ক্যাংকা জার বাহে…!

তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৩

উহ্-ইহ্। আহা বাবারে। খালি বাতাস আর ওস পড়ে। একন এলা অদও ওটেনা। খালি হাত-পাও টাটাতিছে। হামার গাও কাঁপে ক্যামা। এতো জারত হামারগুলার শরীল চলতিছিনা। কেউ এনা কম্বলো দেয় না বাবা। একন বুড়া মানুষগুলার বাঁচা-মড়া বাজিগেচে। জারের ঠেলায় গাও-ও ধুই ন্যা। খালি চুলার পারত বসি আগুন তাপাই হামরা। আতোত ঘরত সুতলে এতো জারত নিন্দে ধরে না। ইগলে ক্যাংকা জার বাহে।

সম্প্রতি এভাবে কথাগুলো বলছিলেন গাইবান্ধার নিভৃত অঞ্চলের আমেনা, দছিজল, মইরন ও খাদেলা বেগমসহ আরও অনেকে। যেন পৌষের হাঁড় কাঁপানো শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে তারা।

জানা যায়, নদীবেষ্টিত গাইবান্ধার মানুষ কনকনে শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে। হঠাৎ জেঁকে বসা শীতে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রচন্ড ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ নাকাল হয়ে পড়েছেন। কুয়াশার চাদর ভেদ করে দেরিতে সূর্য উদিত হলেও কমছে না শীতের প্রকোপ। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে অনেকে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। ঠান্ডাজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে তারা। হাসপাতালে বেড়ে চলেছে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। হঠাৎ শীতে শ্রমজীবী মানুষের বেড়েছে চরম দুর্দশা। ঠান্ডর কারণে ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না অনেকে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় রাস্তায় যানবাহন চালাতে হচ্ছে হেড লাইট জ্বালিয়ে। ইতোমধ্যে শীত জনিত রোগে বেশ কিছু মানুষের মৃত্যুর খবরও পাওয়া গেছে। কনকনে ঠান্ডা এবং শৈত্যপ্রবাহের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অসহায় ছিন্নমূল মানুষেরা শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্দশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। হিমেল হাওয়া এবং ঠান্ডার কারণে দিনমজুররা কাজে যেতে পারছে না। অন্যান্য বছর যেভাবে দরিদ্র অসহায় মানুষদের শীতবস্ত্র দিয়ে সহায়তা দিতে বিভিন্ন এনজিও, সংগঠন এবং সরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র এবং খাদ্য সহায়তা দেয়া হতো এবারে সেরকম কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। শীতের প্রকোপ থেকে রেহাই পেতে হতদরিদ্র-ছিন্নমূল মানুষ এই মুহূর্তে প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের দাবি তুলেছেন।

বিভিন্ন সুত্র থেকে জানা গেছে, চরাঞ্চলের সার্বিক অবস্থা খুবই ভয়াবহ। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় এবং কোনরূপ খাদ্য সহায়তা না পাওয়ায় তাদের এখন দুর্দশা চরমে পৌঁছেছে। গাইবান্ধার মূলভুমির অবস্থাও শীতের কারণে জবুথবু অবস্থা। রাস্তাঘাট-হাট বাজার এবং শহরে লোক চলাচল কমে গেছে। ব্যবসা-বাণিজ্যে এর প্রভাব পড়েছে। স্থবির হয়েছে জনজীবন। তবে নিম্ন বিত্ত মানুষদের একমাত্র ভরসা গাউন মার্কেটের পুরনো শীতের কাপড়। সেখানে উপচে পড়া মানুষের ভীড়।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে শিশু এবং বৃদ্ধ রোগীরা ভর্তি হচ্ছে। শ্বাস কষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া জনিত রোগের সংখ্যা বেশি।

কুন্দেরপাড়া চরের বাসিন্দা দরিদ্র আয়নাল হক জাগো২৪.নেট-কে জানান, শুনছি সরকার কম্বল দিচে। কিন্তু হামার ভাগ্যে সে কম্বল জোটে নাই। কাক কাক দেয় হামরা টেরও পাই নাই।

ফুলছড়ির এরেন্ডবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, সামান্য বরাদ্দকৃত কম্বলে ইউনিয়নের দরিদ্র মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। তার এলাকায় নদী ভাঙা মানুষের সংখ্যা বেশি। তারা চরম দুদর্শার মধ্যে দিন কাটায়। তার উপর এবারের শীত তাদের আরও কাহিল করে ফেলেছে।

এব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল্লাহিল মাফি জাগো২৪.নেট-কে জানান, গত কয়েকদিনের প্রবল শীতে হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বেশি বেড়ে গেছে। ফলে এসব রোগী নিয়ে চিকিৎসক এবং নার্সরা হিমশিম খাচ্ছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন