দিনাজপুরের খানসামায় ৯৭ শতক খাস জমি উদ্ধার করে কবরস্থানে দান করা হয়েছে। এ খাস জমি উদ্ধারের ঘটনাটি উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়ায় ঘটেছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ওই জমির সাবেক দাগ নং ৭২১৮, বর্তমান আর এস দাগ নং ১৪৬০৮, জমির শ্রেণি-কবরস্থান, জমির পরিমাণ-৯৭ শতক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কিছু লোক খাস জমিগুলো জবর-দখল করে রেখেছিল। এসব খাস জমি স্থানীয় কবরস্থানের সাথেই সংযুক্ত ছিল। গত ২২ জুলাই গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদ দখলদারদের সাথে সমঝোতা করে এবং তাদেরকে অন্যত্র সরিয়ে দিয়ে এসব বেদখল হওয়া জমিগুলো উদ্ধার করে।
গত ২২ আগস্ট বুধবার ওই কবরস্থানে গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ৭০০ ফুট সীমানা প্রাচীরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং উদ্বোধন করেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন লিটন।
স্থানীয় মোহাম্মদ আলী মিস্টার বলেন, খাস জমি উদ্ধার করে কবরস্থানে দেয়ায় আমরা আনন্দিত। ইউনিয়ন পরিষদ একটি ভালো কাজ করেছে। মুসলিমদের এই কবরস্থানের জায়গা বড় করা জরুরি প্রয়োজন ছিল। সেখানে জায়গা কম থাকায় মরদেহ কবরস্থ করতে কষ্ট ও ভোগান্তি হতো। এখন আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না।
আলহাজ্ব আজাদ বলেন, কি যে উপকার হইল বাহে, তা কয়া (বলে) বুঝির পারিম (পারবো) না। আইজ (আজকে) হামরা (আমরা) অনেক খুশি। হামরা মুসলমানরা মারা যাওয়ার পর যে ঠিকানায় যাই, সেটি হামার (আমাদের) এলাকায় কম ছিল। এখন জমি পাইছি আর সমস্যা হইবে না।
ইউপি সদস্য ছফিরউদ্দিন বলেন, আমরা এ জমি উদ্ধার করে এলাকার মুসলিমদের সুবিধার জন্য কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছি।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. সাখাওয়াত হোসেন লিটন বলেন, দীর্ঘদিন পর জমিটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই জমির পাশেই কবর ছিল। সমঝোতার মাধ্যমে সুরাহার পর পরিষদের পক্ষ থেকে সীমানা প্রাচীরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছি। ফলে এলাকাবাসী আনন্দিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মারুফ হাসান বলেন, ওই জমিটি কবরস্থানই ছিল। দীর্ঘদিন মানুষের দখলে ছিল। পরবর্তীতে দুই পক্ষের অভিযোগ ও এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে সমঝোতার মাধ্যমে জমিটি উদ্ধার করেছে ইউনিয়ন পরিষদ।
মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















