লালমনিরহাটে তিস্তার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। শনিবার সকাল ৯ টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচে নামে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতে গতকাল শুক্রবার সকাল ৬টায় তিস্তা ব্যরাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় বিপদবসীমা বরাবর প্রবাহিত হয়। এরপর বেলা ১২টায় বিপদসীমা অতিক্রম করে ৩ সেন্টিমিটার, বিকেল ৩টায় ১১ সেন্টিমিটার এবং সন্ধ্যা ৬টায় ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
আজ শনিবার পানি কমে সকাল ৬টায় ১০ সেন্টিমিটার, সকাল ৭টায় ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দুপুর ১২টায় ১০ সেন্টিমিটার নিচে নামে।
লালমনিরহাট জেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী বেশ কিছু নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়। বিশেষ করে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ি ও সিন্দুর্ণা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ও সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ে। এসময় ডুবে যায় বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাট। পানিতে তলিয়ে যায় আমনক্ষেত। আজ শনিবার সকাল থেকে পানি কমতে শুরু করলে উন্নতি হতে শুরু করে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির।
তিস্তায় চলতি বর্ষায় প্রথম দফায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে গত ১৯ জুন। সেদিন বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এরপর থেকে পানি বাড়া-কমার মধ্যে থেকে গত ১৫ জুলাই বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ১৪ আগস্ট সকালে আবারো পানি বেড়ে বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে সন্ধ্যায় বিপৎসীমার নিচে নামে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা বলেন, ‘উজানের ঢলে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় পানি কমে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচে নামে। পরিস্থি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সবকটি (৪৪) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, তিস্তায় পানি বাড়ায় কিছু নিচু এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। তবে পানি কমে যাচ্ছে। নদী পাড়ের মানুষের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।
শাহজাহান সাজু , ডিসট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 



















