বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আত্রাই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে আবাসন প্রকল্প

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর পানি কমতে শুরু করায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গণ। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে অনেকের বসতভিটা ও ফসলি জমি।এ ভাঙ্গণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের সরকারি গুচ্ছগ্রামের আবাসন প্রকল্প, খানসামা টিটিসি, কেন্দ্রিয় মহাশ্মশান বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বর্ষায় নদী ভাঙ্গণে ভাবকী ইউনিয়নের চাকিনীয়া গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি, খামারপাড়া ইউনিয়নের মালিজালের ঘাট ও জোয়ার গ্রামের আত্রাই নদী তীরবর্তী অন্তত ৩শ’ পরিবারের কমপক্ষে ৩০০ একর আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
জানা গেছে, আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বুদুর বাঁশেরতলে নদী ভাঙ্গণে একের পর এক বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। রাতের আঁধারে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বাসিন্দাদের পৈতৃক নিবাসের শেষ সম্বলটুকু। ভাবকী ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণের চাকিনীয়া গ্রাম, খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার ও মালিজালের ঘাট দাসপাড়ায় আত্রাই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল কৃষি জমি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এছাড়াও প্রতিদিন ভাঙ্গণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পাশ দিয়ে চলাচলের একমাত্র সড়কটিও ভাঙ্গণের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, নদী ভাঙ্গণে কয়েকদিন ধরে একের পর এক বসতভিটা বিলীন হচ্ছে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের। শুধু থাকার জায়গা নয়-ফসলি জমি, গাছপালা বিলীন হলেও কিছুই যেন করার নেই নদীর তীরবর্তী লোজজনের। গত তিন বছর আগে বর্ষাকালে হঠাৎ করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আবাদি জমির ওপর দিয়ে স্রোত প্রবাহিত হয়। এতে অন্তত ৩০০ একর আবাদী জমি নদীতে পরিণত হয়। আর এ বছর ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে একেবারে বাড়ির কাছে এসে পৌঁছেছে। এমনকি নদীর পাশ দিয়ে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিও যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বাড়িঘর নিয়ে হুমকির মধ্যে রয়েছেন তারা। নদী ভাঙ্গণরোধ ও বাড়িঘর রক্ষার জন্য নদীতে বাঁধ নির্মাণের জন্য  ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চাকিনীয়া গ্রামের নদীরপাড়ের আব্দুল গনি বলেন, আমার ৩ বিঘা জমি চাষাবাদ করে সংসার চালাতাম। এ বছর নদীতে সেই শেষ সম্বল জমি ও গাছ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বসতবাড়ি নিয়ে হুমকির মুখে রয়েছি।
নদীর পাড়ের গুচ্ছগ্রামের আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা মজনু জানান, নদীটি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমার বাড়ির নিকটবর্তী চলে এসেছে। আমি সরকারের নিকট অনুরোধ করছি যেন আমাদের এলাকায় বাঁধের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।
মালিজালের ঘাট দাসপাড়ার লক্ষণ বলেন, ধীরে ধীরে আত্রাই নদী আমাদের খেয়ে ফেলছে। এভাবে নদী ভাঙ্গণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের গ্রামের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভাবকী ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, আমার ৫ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। নদী ভাঙ্গণরোধে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি।
আলোকঝাড়ি ইউপি সদস্য এনামুল হক বলেন, যেভাবে নদী ভাঙছে এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে গুচ্ছগ্রামের আবাসন প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, আত্রাই নদী ভাঙ্গণের কারণে আমরাও চিন্তিত। দ্রুত ভাঙ্গণরোধে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন বলেন, নদী ভাঙ্গণের বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী ভাঙ্গণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাজউদ্দীন জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নদী ভাঙ্গণ প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার মন্ডল জানান, আমি ইতিমধ্যে নদী ভাঙ্গণ কবলিত
এলাকা পরিদর্শন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নদী ভাঙ্গণ রুখতে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আত্রাই নদীর ভাঙনে হুমকির মুখে আবাসন প্রকল্প

প্রকাশের সময়: ০৭:৫০:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর পানি কমতে শুরু করায় দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙ্গণ। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে অনেকের বসতভিটা ও ফসলি জমি।এ ভাঙ্গণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের সরকারি গুচ্ছগ্রামের আবাসন প্রকল্প, খানসামা টিটিসি, কেন্দ্রিয় মহাশ্মশান বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বর্ষায় নদী ভাঙ্গণে ভাবকী ইউনিয়নের চাকিনীয়া গ্রামের অধিকাংশ ঘরবাড়ি, খামারপাড়া ইউনিয়নের মালিজালের ঘাট ও জোয়ার গ্রামের আত্রাই নদী তীরবর্তী অন্তত ৩শ’ পরিবারের কমপক্ষে ৩০০ একর আবাদি জমি বিলীন হয়ে গেছে।
জানা গেছে, আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বুদুর বাঁশেরতলে নদী ভাঙ্গণে একের পর এক বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি। রাতের আঁধারে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বাসিন্দাদের পৈতৃক নিবাসের শেষ সম্বলটুকু। ভাবকী ইউনিয়নের পশ্চিম-দক্ষিণের চাকিনীয়া গ্রাম, খামারপাড়া ইউনিয়নের জোয়ার ও মালিজালের ঘাট দাসপাড়ায় আত্রাই নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে গেছে। এতে স্থানীয় মানুষের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল কৃষি জমি হারিয়ে অনেকে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। এছাড়াও প্রতিদিন ভাঙ্গণের মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পাশ দিয়ে চলাচলের একমাত্র সড়কটিও ভাঙ্গণের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়রা আরো জানান, নদী ভাঙ্গণে কয়েকদিন ধরে একের পর এক বসতভিটা বিলীন হচ্ছে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের। শুধু থাকার জায়গা নয়-ফসলি জমি, গাছপালা বিলীন হলেও কিছুই যেন করার নেই নদীর তীরবর্তী লোজজনের। গত তিন বছর আগে বর্ষাকালে হঠাৎ করে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে আবাদি জমির ওপর দিয়ে স্রোত প্রবাহিত হয়। এতে অন্তত ৩০০ একর আবাদী জমি নদীতে পরিণত হয়। আর এ বছর ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে একেবারে বাড়ির কাছে এসে পৌঁছেছে। এমনকি নদীর পাশ দিয়ে চলাচলের একমাত্র রাস্তাটিও যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। বাড়িঘর নিয়ে হুমকির মধ্যে রয়েছেন তারা। নদী ভাঙ্গণরোধ ও বাড়িঘর রক্ষার জন্য নদীতে বাঁধ নির্মাণের জন্য  ভুক্তভোগীরা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
চাকিনীয়া গ্রামের নদীরপাড়ের আব্দুল গনি বলেন, আমার ৩ বিঘা জমি চাষাবাদ করে সংসার চালাতাম। এ বছর নদীতে সেই শেষ সম্বল জমি ও গাছ বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে বসতবাড়ি নিয়ে হুমকির মুখে রয়েছি।
নদীর পাড়ের গুচ্ছগ্রামের আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দা মজনু জানান, নদীটি ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আমার বাড়ির নিকটবর্তী চলে এসেছে। আমি সরকারের নিকট অনুরোধ করছি যেন আমাদের এলাকায় বাঁধের ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।
মালিজালের ঘাট দাসপাড়ার লক্ষণ বলেন, ধীরে ধীরে আত্রাই নদী আমাদের খেয়ে ফেলছে। এভাবে নদী ভাঙ্গণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের গ্রামের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভাবকী ইউপি সদস্য মকবুল হোসেন বলেন, আমার ৫ বিঘা জমি নদীতে চলে গেছে। নদী ভাঙ্গণরোধে ইউপি চেয়ারম্যানের পরামর্শে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি।
আলোকঝাড়ি ইউপি সদস্য এনামুল হক বলেন, যেভাবে নদী ভাঙছে এভাবে ভাঙ্গতে থাকলে গুচ্ছগ্রামের আবাসন প্রকল্প ও কেন্দ্রীয় মহাশ্মশান নদীতে বিলীন হয়ে যাবে।
খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, আত্রাই নদী ভাঙ্গণের কারণে আমরাও চিন্তিত। দ্রুত ভাঙ্গণরোধে সংশ্লিষ্টদের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন বলেন, নদী ভাঙ্গণের বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে নদী ভাঙ্গণরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাজউদ্দীন জানান, নদী ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। নদী ভাঙ্গণ প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় কুমার মন্ডল জানান, আমি ইতিমধ্যে নদী ভাঙ্গণ কবলিত
এলাকা পরিদর্শন করেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে নদী ভাঙ্গণ রুখতে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।