গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় আব্দুল মান্নান ও একরামুল হকের ওপর হামলা করে হত্যার চেষ্টা করেছে প্রতিপক্ষরা। এছাড়া বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে কামরুন নাহার জোসনা নামের এক ভাবী সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বুধবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে প্রেসক্লাব গাইবান্ধা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।
এসময় কামরুন নাহার জোসনা লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) আমার দেবর আব্দুল মান্নান তার ক্রয়কৃত জমিতে হোটেল ভাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্মাণকাজ শুরু করেন। ২০২০ সালে মহাসড়ক সম্প্রসারণ কাজ শুরু হলে সরকার জমি অধিগ্রহণ শুরু করে। জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন ভারাটে সন্ত্রাসী দিয়ে জমি দখল করে। জমির দলিল দেখানো সত্ত্বেও নানা কৌশলে তিনি মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। এসময় দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এলাকার একাধিক নাশকতা মামলার আসামি মোবাইদুল ইসলাম, আরিফুল ইসলাম, ফারুক, রাকিবসহ ১০-১২ জনের একটি দল আমার দুই দেবর আব্দুল মান্নান ও একরামুল হককে হত্যার চেষ্টা করে। গুরুত্বর আহত হন। এছাড়াও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা আমার ভাতিজা মুজাহিনকে তারা শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে। এই ঘটনার পরে হামলাকারীরা আমাদের ৬ টি বসতবাড়িতে আক্রমণ করে ১০ লাখ ৫০ হাজার নগদ অর্থ, ১২ ভরি স্বর্ণ ও ৩টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু লুট করে বাড়িঘর ভাঙচুর, জমির দলিল, সন্তানদের সার্টিফিকেট, ব্যাংকের চেক, জাতীয় পরিচয়পত্র, বাড়ির বিভিন্ন আসবাবপত্রসহ পরিধানের কাপড় পর্যন্ত লুট করে নিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত আমার পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমন কান্ডের পরও আমাদের পরিবারের সদস্যদেরকে মুঠোফোনসহ বিভিন্নভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারে সদস্যরা আতঙ্কিত ও প্রাণনাশের ভয়ে বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান এবং মানবেতর জীবনযাপন করছি।
কামরুন নাহার জোসনা আরও বলেন, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে পরিবার ও গ্রামের ব্যক্তিদের সাথে পরামর্শ করে গাইবান্ধা আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত থেকে পলাশবাড়ি থানার কর্মরত পুলিশকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসনকে মামলার যথাযথ তদন্ত করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আমার পরিবারের সদস্যদের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি করছি।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 



















