বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাস্তার ধারে পতিত জমিতে কৃষকের পেঁপে চাষ

ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে জনপ্রিয়। এক সময় পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য পেঁপে চাষ করা হতো। এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে সফল হচ্ছেন। রাস্তাধারেসহ পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক আলতাফ হোসেন। তিনি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের গুলজার রহমানের ছেলে। পিতা-পুত্র দু’জনেই কৃষক। তারা সবধরনের ফসল চাষাবাদ করেন। আলতাফ হোসেন রাস্তার ধারের আগাছা-জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিত্যক্ত জায়গায় সারিবদ্ধভাবে পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন। এসব গাছে পেঁপেও ধরেছে। পথচারীদের সারি সারি গাছের সবুজ পেঁপে দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। তিনি উপজেলার জমিদারনগর থেকে বরলাম বাজার যাওয়ার কাঁচা রাস্তার ধারে থাইল্যান্ড গ্রীণ ল্যাডি জাতের ৪০০ পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন। গত ২৯ আগষ্ট মঙ্গলবার তিনি প্রথম ধাপে প্রতিটি গাছ থেকে ৫-৭ কেজি করে পেঁপে পেড়েছেন। এতে তিনি ১০ মণের বেশি পেঁপে পেয়েছেন। তিনি বাজারে প্রতিমণ পেঁপে ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে আসছি। আমি সবসময়ই কৃষি অফিসারের পরামর্শে চাষাবাদ করি। এবার নতুন করে পেঁপে চাষ করার কথা বলেন আমাদের কৃষি অফিসার ইয়াসমিন আক্তার ম্যাডাম। আমি রাস্তার ধারের পরিত্যক্ত জায়গার জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরীক্ষামূলকভাবে ৪০০ পেঁপে গাছ লাগিয়েছি। আল্লাহ রহমতে প্রতিটি গাছে পেঁপে ধরেছে। আমি এ পর্যন্ত ১০ মণের বেশি পেঁপে বিক্রি করেছি এবং দামও ভালো পেয়েছি। আগামীতে আমি চাষাবাদের জমি ও রাস্তার দুই ধারে বেশি করে পেঁপে চাষ করবো।
পথচারী ফারুক হোসেন বলেন, আমি প্রতিনিয়ত এ পথ দিয়ে হাট-বাজারে যাতায়াত করে থাকি৷ রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় আগাছা ও বিভিন্ন জঙ্গল জম্মে থাকে। আলতাফ হোসেন সেসব আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এবার পেঁপে চাষ করেছেন। তিনি একজন পরিশ্রমী কৃষক। তিনি সবসময় তার চাষাবাদের জমিতে সময় দিয়ে থাকেন। তিনি এবার রাস্তার পাশে পেঁপে গাছ লাগিয়ে রাস্তাটিকে সাজিয়ে তুলেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আলতাফ হোসেন একজন ভালো কৃষক। কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে তিনি এ বছর সাড়ে তিন মাসে উচ্চ ফলনশীল গ্রীণ ল্যাডি পেঁপে চাষ করেছেন। বর্ষা মৌসুমে অন্যান্য সবজি কম থাকায় পেঁপের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তিনি বিষয়টি মাথায় রেখে পেঁপে চাষ করেছেন। আশা করি, তিনি বাজারে ভালো দামে পেঁপে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।

রাস্তার ধারে পতিত জমিতে কৃষকের পেঁপে চাষ

প্রকাশের সময়: ০৫:৩৮:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৩
ফল ও সবজি হিসেবে পেঁপে জনপ্রিয়। এক সময় পরিবারের চাহিদা মেটানোর জন্য পেঁপে চাষ করা হতো। এখন অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে সফল হচ্ছেন। রাস্তাধারেসহ পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কৃষক আলতাফ হোসেন। তিনি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের গুলজার রহমানের ছেলে। পিতা-পুত্র দু’জনেই কৃষক। তারা সবধরনের ফসল চাষাবাদ করেন। আলতাফ হোসেন রাস্তার ধারের আগাছা-জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিত্যক্ত জায়গায় সারিবদ্ধভাবে পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন। এসব গাছে পেঁপেও ধরেছে। পথচারীদের সারি সারি গাছের সবুজ পেঁপে দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। তিনি উপজেলার জমিদারনগর থেকে বরলাম বাজার যাওয়ার কাঁচা রাস্তার ধারে থাইল্যান্ড গ্রীণ ল্যাডি জাতের ৪০০ পেঁপে গাছ লাগিয়েছেন। গত ২৯ আগষ্ট মঙ্গলবার তিনি প্রথম ধাপে প্রতিটি গাছ থেকে ৫-৭ কেজি করে পেঁপে পেড়েছেন। এতে তিনি ১০ মণের বেশি পেঁপে পেয়েছেন। তিনি বাজারে প্রতিমণ পেঁপে ৭০০-৮০০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন।
কৃষক আলতাফ হোসেন বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই বাবার সাথে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করে আসছি। আমি সবসময়ই কৃষি অফিসারের পরামর্শে চাষাবাদ করি। এবার নতুন করে পেঁপে চাষ করার কথা বলেন আমাদের কৃষি অফিসার ইয়াসমিন আক্তার ম্যাডাম। আমি রাস্তার ধারের পরিত্যক্ত জায়গার জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরীক্ষামূলকভাবে ৪০০ পেঁপে গাছ লাগিয়েছি। আল্লাহ রহমতে প্রতিটি গাছে পেঁপে ধরেছে। আমি এ পর্যন্ত ১০ মণের বেশি পেঁপে বিক্রি করেছি এবং দামও ভালো পেয়েছি। আগামীতে আমি চাষাবাদের জমি ও রাস্তার দুই ধারে বেশি করে পেঁপে চাষ করবো।
পথচারী ফারুক হোসেন বলেন, আমি প্রতিনিয়ত এ পথ দিয়ে হাট-বাজারে যাতায়াত করে থাকি৷ রাস্তাটি পাকা না হওয়ায় রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত জায়গায় আগাছা ও বিভিন্ন জঙ্গল জম্মে থাকে। আলতাফ হোসেন সেসব আগাছা ও জঙ্গল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এবার পেঁপে চাষ করেছেন। তিনি একজন পরিশ্রমী কৃষক। তিনি সবসময় তার চাষাবাদের জমিতে সময় দিয়ে থাকেন। তিনি এবার রাস্তার পাশে পেঁপে গাছ লাগিয়ে রাস্তাটিকে সাজিয়ে তুলেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, আলতাফ হোসেন একজন ভালো কৃষক। কৃষি বিভাগের পরামর্শক্রমে তিনি এ বছর সাড়ে তিন মাসে উচ্চ ফলনশীল গ্রীণ ল্যাডি পেঁপে চাষ করেছেন। বর্ষা মৌসুমে অন্যান্য সবজি কম থাকায় পেঁপের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তিনি বিষয়টি মাথায় রেখে পেঁপে চাষ করেছেন। আশা করি, তিনি বাজারে ভালো দামে পেঁপে বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন।