দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় বন্ধুদের সাথে আত্রাই নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সকালে ওই নদীর বাদলাঘাট এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে এলাকাবাসী। নিহত যতন রায় (১৭) নীলফামারীর সদর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নটখানার বালাপাড়া গ্রামের কান্দু রায়ের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দুপুরে যতন রায় তার ১১জন বন্ধুসহ খানসাসা উপজেলার জয়গঞ্জের শালবন নামকস্থানে এসে আত্রাই নদীতে গোসল করতে নামে। গোসল করার একপর্যায়ে যতন নদীর মধ্যে তলিয়ে যায়। এসময় তার বন্ধুরা তাকে নদীতে অনেক খোঁজাখুঁজি করে ব্যর্থ হয় এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতা নেয়। পরে স্থানীয় লোকজন ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসে এবং অনেক খোঁজাখুঁজি করে তারাও ব্যর্থ হন। এরপর তারা রংপুরের ডুবুরিদলকে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান করে ব্যর্থ হন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসায় রংপুরের ডুবুরিদল তাদের কার্যক্রম স্থগিত করেন।

ইউপি সদস্য পীযূষ জানান, সন্ধ্যা হওয়ায় রংপুরের ডুবুরিদল তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। পুলিশ ও আমাদের স্থানীয় ডুবুরিদের সহযোগিতায় নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিকে রাতভর খোঁজাখুঁজি অব্যাহত রাখেন। এতেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এরপর গতকাল ২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
খানসামা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার মো. নজরুল ইসলাম জানান, আমরা গত ১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার খবর পাওয়া মাত্র সেখানে গিয়ে পৌঁছি। আমরা অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরও তাকে খুঁজে পাইনি। তখন আমাদের রংপুরের ডুবুরিদল ঘটনাস্থলে এসে অনেক খোঁজাখুঁজি করে। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যা হয়ে গেলে আমরা আমাদের কাজ স্থগিত করি। আজ সকালে যতনের মরদেহটি ভেসে ওঠে। আমরা সেখানে গিয়ে মরদেহ থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করি এবং পুলিশ মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
খানসামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্ত রঞ্জন রায় বলেন, নিখোঁজ হওয়া ছেলেটিকে উদ্ধার করতে ফায়ার সার্ভিস ও রংপুর থেকে ডুবুরিদল আসে। সন্ধ্যা হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। আমরা এলাকাবাসীকে উদ্বুদ্ধ করে আমাদের পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে রাতভর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকে। পরে আজ গতকাল ২ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে যতনের মরদেহ নদীতে ভেসে উঠে। ফায়ার সার্ভিস আমাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করে এবং আমরা পরিবারের নিকট হস্তান্তর করি। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 



















