বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দত্তক দিয়েও ফিরিয়ে নিলো প্রতিবন্ধী শিশু 

এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। সোনিয়া কামরুলের সংসারে বিগত ৮ বছরেও হয়নি কোন সন্তান।  এতে একটি সন্তানের জন্য খুঁজছিলেন দত্তক।  কোথাও না পেয়ে এক প্রতিবন্ধী ৫ বছরের শিশুকেই দত্তক নিতে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই দত্তক নেয়া শিশুটিকেও আইনজীবী মাধ্যমে নোটারী করে  ফেরত নিলো দত্তক দাতা। আর তাতেই সোনিয়া দম্পতি ও স্বজনরা ভেঙ্গে পড়েন কান্নায়। এমন দৃশ্য ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভক্তবাড়ি এলাকায়।
ভক্তবাড়ি এলাকায় সিএনজি চালক আজিজুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে সোনিয়ার বিয়ে হয় গোয়ালপাড়া এলাকার মজিবুরের ছেলে কামরুলের সঙ্গে।  কিন্তু তার সংসারে সন্তান না হওয়ায় দত্তক খুঁজছিলেন তারা। এর মাঝে পরিচয় হয় উপজেলার কায়েতপাড়ার কামসাইরের ইমান ভুইয়ার ছেলে আল রাজিউদ্দিন ভুঁইয়াদের সঙ্গে। তাদের বাড়িতে থাকা একজন অজ্ঞাত  পাগলীর ঘরে জন্ম নেয়া শিশুটিকে লালন করতো রাজিউদ্দিনের মা সেতারা বেগম।  পাগলী মারা গেলে শিশুটি প্রায় বেওয়ারিশ হয়ে গেলে গত ১১ মাস পূর্বে সোনিয়া দম্পতির কাছে দত্তক দিতে রাজি হয়। পরে সোনিয়া প্রতিবন্ধী জেনেও শুধুমাত্র সন্তানের আশা পূরনের জন্য নোটারী মাধ্যমে দত্তক গ্রহণ করেন। তারা নাম রাখেন অপূর্ব।  কিন্তু সেতারা বেগম ছোট থেকে লালন পালন করায় মায়ায় দত্তক মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি রূপগঞ্জ থানায়  দত্তক ফেরত পেতে অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সোনিয়া দম্পতি।  তাদের স্বপ্নে হানা দেয় ফেরত দেয়ার বাধ্যবাধকতায়। থানা পুলিশকে জানিয়ে স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে আল রাজিউদ্দিন ভুঁইয়া ও তার মা সেতারা বেগম শিশুটিকে ফেরত নেয়। এ সময় আজিজুল আরও জানান, তার মেয়ের জন্য একটি দত্তক শিশু দরকার। যাতে সন্তান না পাওয়ার কষ্ট ভুলে থাকতে পারে।
আল রাজিউদ্দিন ভুইয়া বলেন, আমার মা পাগলীর সন্তানকে লালন করায় দত্তক মেনে নেয়নি। তাই আমরা ফেরত নিয়েছি।তারাও স্বেচ্ছায় ফেরত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা তদন্ত ওসি পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা কোর্ট থেকে নোটারী করার পরামর্শ দেই। শিশুটির নিরাপত্তা বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা নজরদারী করবে। আপোষমতে শিশুটি যেখানে আছে নিরাপদ মনে করছি।

দত্তক দিয়েও ফিরিয়ে নিলো প্রতিবন্ধী শিশু 

প্রকাশের সময়: ০৪:৫৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
এ এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। সোনিয়া কামরুলের সংসারে বিগত ৮ বছরেও হয়নি কোন সন্তান।  এতে একটি সন্তানের জন্য খুঁজছিলেন দত্তক।  কোথাও না পেয়ে এক প্রতিবন্ধী ৫ বছরের শিশুকেই দত্তক নিতে সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সেই দত্তক নেয়া শিশুটিকেও আইনজীবী মাধ্যমে নোটারী করে  ফেরত নিলো দত্তক দাতা। আর তাতেই সোনিয়া দম্পতি ও স্বজনরা ভেঙ্গে পড়েন কান্নায়। এমন দৃশ্য ৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সকালে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভক্তবাড়ি এলাকায়।
ভক্তবাড়ি এলাকায় সিএনজি চালক আজিজুল ইসলাম জানান, তার মেয়ে সোনিয়ার বিয়ে হয় গোয়ালপাড়া এলাকার মজিবুরের ছেলে কামরুলের সঙ্গে।  কিন্তু তার সংসারে সন্তান না হওয়ায় দত্তক খুঁজছিলেন তারা। এর মাঝে পরিচয় হয় উপজেলার কায়েতপাড়ার কামসাইরের ইমান ভুইয়ার ছেলে আল রাজিউদ্দিন ভুঁইয়াদের সঙ্গে। তাদের বাড়িতে থাকা একজন অজ্ঞাত  পাগলীর ঘরে জন্ম নেয়া শিশুটিকে লালন করতো রাজিউদ্দিনের মা সেতারা বেগম।  পাগলী মারা গেলে শিশুটি প্রায় বেওয়ারিশ হয়ে গেলে গত ১১ মাস পূর্বে সোনিয়া দম্পতির কাছে দত্তক দিতে রাজি হয়। পরে সোনিয়া প্রতিবন্ধী জেনেও শুধুমাত্র সন্তানের আশা পূরনের জন্য নোটারী মাধ্যমে দত্তক গ্রহণ করেন। তারা নাম রাখেন অপূর্ব।  কিন্তু সেতারা বেগম ছোট থেকে লালন পালন করায় মায়ায় দত্তক মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই তিনি রূপগঞ্জ থানায়  দত্তক ফেরত পেতে অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে হতাশ হয়ে পড়েন সোনিয়া দম্পতি।  তাদের স্বপ্নে হানা দেয় ফেরত দেয়ার বাধ্যবাধকতায়। থানা পুলিশকে জানিয়ে স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে আল রাজিউদ্দিন ভুঁইয়া ও তার মা সেতারা বেগম শিশুটিকে ফেরত নেয়। এ সময় আজিজুল আরও জানান, তার মেয়ের জন্য একটি দত্তক শিশু দরকার। যাতে সন্তান না পাওয়ার কষ্ট ভুলে থাকতে পারে।
আল রাজিউদ্দিন ভুইয়া বলেন, আমার মা পাগলীর সন্তানকে লালন করায় দত্তক মেনে নেয়নি। তাই আমরা ফেরত নিয়েছি।তারাও স্বেচ্ছায় ফেরত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা তদন্ত ওসি পরিদর্শক আতাউর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার পর আমরা কোর্ট থেকে নোটারী করার পরামর্শ দেই। শিশুটির নিরাপত্তা বিষয়ে রূপগঞ্জ থানা নজরদারী করবে। আপোষমতে শিশুটি যেখানে আছে নিরাপদ মনে করছি।