বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে নেসকোর ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো (পিএলসি) এর ভুতুড়ে বিলের কারণে সীমাহীন ভোগান্তিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর পরিবারসহ উপজেলার সাধারণ গ্রাহকরা।  নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি  নেসকো( পিএলসি) এর কর্মচারীদের অদক্ষতা, অবহেলা ও অলসতায় ভুতুড়ে বিলে দিশেহারা বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, মিটার না দেখে প্রতি মাসে খেয়ালখুশি মতো ইউনিট বসিয়ে দেন মিটার রিডাররা। বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো ফল না পাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে বলা হয়েছে চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এই বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
এমতাবস্থায় উদ্বেগের মধ্যে আছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তাঁর পরিবার। তাঁর নামে একটি আবাসিক সংযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে মাত্র ৩২ টাকা। এছাড়া কোনো মাসে ৭২ টাকা, আবার কোনো মাসে ৫২ টাকা এবং কোনো মাসে ১১১ টাকা বিল দেখানো হয়েছে। সর্বোচ্চ একটি বিল ২,৪০৮ টাকা দেখানো হয়েছে ২০২২ সালের আগস্ট মাসের। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলের কাগজ  অফিসের অবহেলায় মন্ত্রীর হাতে পৌঁছায়নি ।
এর মধ্যে গত মাসে ‘মন্ত্রীর ছেলের নির্দেশে’ বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাংচুর ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ তুলে, সংবাদমাধ্যমে বিধিবহির্ভূত বক্তব্য প্রদান করে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী। পরে তার রেকর্ডেট বক্তব্য স্থানীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। পরক্ষণেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নেসকো( পিএলসি)। তদন্তে নেসকো অফিসে হামলায় -মন্ত্রীর ছেলের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ওই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটারের রিডিং দেখে বিল দেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতি মাসে অফিসে বসে অনুমান নির্ভর ভূতুড়ে বিল তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বিলি করেন মিটার রিডাররা। এতে অতিরিক্ত বিলের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদুৎ অফিসসহ বিভিন্ন জায়গা ধরনা দিচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেক সময় অফিসের লোকজনের সঙ্গে ভূতুড়ে বিলকে কেন্দ্র করে গ্রাহকরা জড়িয়ে পড়ছেন বাগবিতণ্ডায়। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলতে থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মদাতী ইউনিয়নের একজন গ্রাহক জানায়, তিনি ২০১৫ সালে কালীগঞ্জ নেসকো লি: এর বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। তার বাড়িতে মাত্র তিনটি বাল্ব ব্যবহার করে এতেই তার প্রতিমাসে নেসকোর বিদ্যুৎ বিল আসতো (১০০- ৩০০) ইউনিট মধ্যে। হঠাৎ ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তার ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ৪৮০০ ইউনিট দেখিয়ে একটি ভুতুড়ে বিল দেন নেসকো কালীগঞ্জ। যেখানে নভেম্বর মাসে মিটার রিডিং ১৬৭২০ ও ব্যবহৃত ইউনিট ৪৮০০ দেখানো হয় অথচ তার আগের মাস অক্টোবর /২০২২ এ নিয়মিত মিটার রিডিং ছিল ১১৯২০ ইউনিট।
এ নিয়ে (গত ১৪ মার্চ) কালীগঞ্জে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ,নেসকো অফিসের সামনে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে নেসকো (পিএলসি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী,সহকারী প্রকৌশলী ও মিটার পাঠক(পিচরেট) এর বিরুদ্ধে মিটার না দেখে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও গ্রাহক হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন উপজেলার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
গণমাধ্যম ভাইরাল- মন্ত্রী বাড়ির বিদ্যুৎ বিল। হঠাৎ এমন বিল খবর আসার কারণ জানতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানী নেসকো(পিএলসি) অফিসে যোগাযোগ করে কোন সদুত্তর পাননি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবার। পরে বিভাগীয় অফিসে যোগাযোগ করলে রংপুর নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে কোনো গাফিলতি করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তারা খতিয়ে দেখবেন।
তবে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা  জনগণের দুর্ভোগ দূর করতে প্রতিটি অযৌক্তিক বিল স্থগিত করে দ্রুত প্রকৃত বিল পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় কর্মচারীদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান।

লালমনিরহাটে নেসকোর ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিল, ভোগান্তিতে সাধারণ গ্রাহক

প্রকাশের সময়: ০৭:৪০:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ নেসকো (পিএলসি) এর ভুতুড়ে বিলের কারণে সীমাহীন ভোগান্তিতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর পরিবারসহ উপজেলার সাধারণ গ্রাহকরা।  নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি  নেসকো( পিএলসি) এর কর্মচারীদের অদক্ষতা, অবহেলা ও অলসতায় ভুতুড়ে বিলে দিশেহারা বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। তাদের অভিযোগ, মিটার না দেখে প্রতি মাসে খেয়ালখুশি মতো ইউনিট বসিয়ে দেন মিটার রিডাররা। বারবার অভিযোগ করার পরও কোনো ফল না পাওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। কিন্তু বিদ্যুৎ অফিস থেকে বলা হয়েছে চলতি মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে এই বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।
এমতাবস্থায় উদ্বেগের মধ্যে আছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ ও তাঁর পরিবার। তাঁর নামে একটি আবাসিক সংযোগ রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিল দেখানো হয়েছে মাত্র ৩২ টাকা। এছাড়া কোনো মাসে ৭২ টাকা, আবার কোনো মাসে ৫২ টাকা এবং কোনো মাসে ১১১ টাকা বিল দেখানো হয়েছে। সর্বোচ্চ একটি বিল ২,৪০৮ টাকা দেখানো হয়েছে ২০২২ সালের আগস্ট মাসের। কিন্তু বিদ্যুৎ বিলের কাগজ  অফিসের অবহেলায় মন্ত্রীর হাতে পৌঁছায়নি ।
এর মধ্যে গত মাসে ‘মন্ত্রীর ছেলের নির্দেশে’ বিদ্যুৎ অফিসে হামলা, ভাংচুর ও প্রকৌশলীকে মারধরের অভিযোগ তুলে, সংবাদমাধ্যমে বিধিবহির্ভূত বক্তব্য প্রদান করে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী। পরে তার রেকর্ডেট বক্তব্য স্থানীয় গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। পরক্ষণেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে নেসকো( পিএলসি)। তদন্তে নেসকো অফিসে হামলায় -মন্ত্রীর ছেলের সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় ওই প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটারের রিডিং দেখে বিল দেয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতি মাসে অফিসে বসে অনুমান নির্ভর ভূতুড়ে বিল তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে বিলি করেন মিটার রিডাররা। এতে অতিরিক্ত বিলের বোঝা মাথায় নিয়ে বিদুৎ অফিসসহ বিভিন্ন জায়গা ধরনা দিচ্ছেন সাধারণ গ্রাহকরা। অনেক সময় অফিসের লোকজনের সঙ্গে ভূতুড়ে বিলকে কেন্দ্র করে গ্রাহকরা জড়িয়ে পড়ছেন বাগবিতণ্ডায়। দীর্ঘদিন থেকে এ সমস্যা চলতে থাকায় গ্রাহকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। মদাতী ইউনিয়নের একজন গ্রাহক জানায়, তিনি ২০১৫ সালে কালীগঞ্জ নেসকো লি: এর বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছেন। তার বাড়িতে মাত্র তিনটি বাল্ব ব্যবহার করে এতেই তার প্রতিমাসে নেসকোর বিদ্যুৎ বিল আসতো (১০০- ৩০০) ইউনিট মধ্যে। হঠাৎ ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তার ব্যবহৃত বিদ্যুৎ ৪৮০০ ইউনিট দেখিয়ে একটি ভুতুড়ে বিল দেন নেসকো কালীগঞ্জ। যেখানে নভেম্বর মাসে মিটার রিডিং ১৬৭২০ ও ব্যবহৃত ইউনিট ৪৮০০ দেখানো হয় অথচ তার আগের মাস অক্টোবর /২০২২ এ নিয়মিত মিটার রিডিং ছিল ১১৯২০ ইউনিট।
এ নিয়ে (গত ১৪ মার্চ) কালীগঞ্জে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ,নেসকো অফিসের সামনে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে নেসকো (পিএলসি) এর নির্বাহী প্রকৌশলী,সহকারী প্রকৌশলী ও মিটার পাঠক(পিচরেট) এর বিরুদ্ধে মিটার না দেখে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল ও গ্রাহক হয়রানীর প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন উপজেলার ভুক্তভোগী গ্রাহকরা।
গণমাধ্যম ভাইরাল- মন্ত্রী বাড়ির বিদ্যুৎ বিল। হঠাৎ এমন বিল খবর আসার কারণ জানতে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানী নেসকো(পিএলসি) অফিসে যোগাযোগ করে কোন সদুত্তর পাননি মন্ত্রী ও তাঁর পরিবার। পরে বিভাগীয় অফিসে যোগাযোগ করলে রংপুর নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে কোনো গাফিলতি করা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তারা খতিয়ে দেখবেন।
তবে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার সাধারণ বিদ্যুৎ গ্রাহকরা  জনগণের দুর্ভোগ দূর করতে প্রতিটি অযৌক্তিক বিল স্থগিত করে দ্রুত প্রকৃত বিল পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। এবং কিংকর্তব্যবিমূঢ় কর্মচারীদের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহবান জানান।