মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খানসামায় বেগুনের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় চাষিরা 

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কৃষকরা সাধারণত কৃষির উপর নির্ভরশীল। এ উপজেলায় মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার ফসলের চাষ হয়। এখানকার কৃষকরা বর্তমানে বেগুন চাষ করছেন। তাই তারা বেগুনক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের প্রথমদিকে বেগুনের বাজারদর ভালো পাওয়ায় কৃষকের চোখে-মুখে হাসির ঝলক দেখা দেয়। কিন্তু গত সপ্তাহখানেক ধরে হঠাৎ করে বেগুনের বাজারদর নেমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বেগুন চাষিরা।
কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অধিক মুনাফার আশায় প্রতিবছর আগাম জাতের বেগুনচাষ করেন উপজেলার কৃষকরা। আগাম বেগুনচাষে বেশ লাভবান হন তারা। তবে চলতি মৌসুমে হঠাৎ করে জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা আরও জানান, মৌসুমের প্রথমদিকে ক্ষেত থেকেই প্রতিমণ বেগুন দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বেগুনের বাজারদর কমে গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ বেগুন ৮০০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের সুবর্ণখুলি গ্রামের বেগুনচাষি শেফাউল ইসলাম জানান, তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিবছর বেগুনচাষ করেন। তিনি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বেগুনচাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেগুনের ফলনও ভালো হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ক্ষেতের বেগুন বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু হঠাৎ করে বাজারে বেগুনের দর কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন।
ওই এলাকার আরেক বেগুনচাষি আবু তালেব জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথমদিকে বাজারে বেগুনের দাম ভালোই ছিল। এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। বেগুন উৎপাদনে প্রতিবিঘা জমিতে অন্তত ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ক্ষেত রোগমুক্ত, বাজারদর ভালো ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিবিঘা জমির বেগুন অন্তত ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিবিঘা জমির বেগুন বিক্রি করে অন্তত ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হয়। এ বছর বেগুনচাষে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে সব জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রথমদিকে বাজারে বেগুনের দাম ভালো থাকলেও এখন বাজারদর নিম্নমূখী। এখন বেগুন বিক্রি করে লাভ হওয়া তো দূরের কথা উল্টো লোকসানের আশঙ্কা করছি।
উপজেলার নেউলা গ্রামের বর্গাচাষি হাসিনুর রহমান জানান, এবছর তিনি ৩৮ হাজার টাকায় ২ বিঘা জমি ১ বছরের জন্য বর্গা নিয়েছেন। এ জমিতে তিনি আগাম জাতের বেগুন চাষ করেছেন। প্রতিবছর বেগুনচাষ করে লাভবান হয়েছেন। এবছর হঠাৎ জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কীটনাশকসহ মজুরের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বেগুন উৎপাদনে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। গত এক সপ্তাহ পূর্বে প্রতিমণ বেগুন ১ হাজার ৬০০-১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বেগুনের দর কমে গিয়ে প্রতিমণ বেগুন ৮০০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের বাজারদর বৃদ্ধি না পেলে লাভ করা তো দূরের কথা, খরচও তুলতে পারবো কিনা তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, এ উপজেলার মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। বেগুনচাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ ও বিভিন্ন সহযোগিতা করায় উপজেলায় চাষিরা বেগুনচাষে ঝুঁকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় অন্তত ২৪০ হেক্টর জমিতে বেগুনচাষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ কৃষক বেগুন বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
এ উপজেলার উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মৌসুমের প্রথমদিকে বেগুনের বাজারদর ভালো ছিল। গত ২-৩ দিনে বেগুনের বাজারদর একটু কমেছে। এতে চাষিদের লোকসান গুণতে হবে না বলে তিনি আশাপোষন করছেন।

খানসামায় বেগুনের দাম কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় চাষিরা 

প্রকাশের সময়: ০৪:১৪:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার কৃষকরা সাধারণত কৃষির উপর নির্ভরশীল। এ উপজেলায় মৌসুম অনুযায়ী বিভিন্ন প্রকার ফসলের চাষ হয়। এখানকার কৃষকরা বর্তমানে বেগুন চাষ করছেন। তাই তারা বেগুনক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের প্রথমদিকে বেগুনের বাজারদর ভালো পাওয়ায় কৃষকের চোখে-মুখে হাসির ঝলক দেখা দেয়। কিন্তু গত সপ্তাহখানেক ধরে হঠাৎ করে বেগুনের বাজারদর নেমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বেগুন চাষিরা।
কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অধিক মুনাফার আশায় প্রতিবছর আগাম জাতের বেগুনচাষ করেন উপজেলার কৃষকরা। আগাম বেগুনচাষে বেশ লাভবান হন তারা। তবে চলতি মৌসুমে হঠাৎ করে জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম কমে যাওয়ায় চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। তারা আরও জানান, মৌসুমের প্রথমদিকে ক্ষেত থেকেই প্রতিমণ বেগুন দেড় হাজার থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে বেগুনের বাজারদর কমে গেছে। বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ বেগুন ৮০০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার আঙ্গারপাড়া ইউনিয়নের সুবর্ণখুলি গ্রামের বেগুনচাষি শেফাউল ইসলাম জানান, তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিবছর বেগুনচাষ করেন। তিনি এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বেগুনচাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেগুনের ফলনও ভালো হয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে ক্ষেতের বেগুন বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু হঠাৎ করে বাজারে বেগুনের দর কমে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় আছেন।
ওই এলাকার আরেক বেগুনচাষি আবু তালেব জানান, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রথমদিকে বাজারে বেগুনের দাম ভালোই ছিল। এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। বেগুন উৎপাদনে প্রতিবিঘা জমিতে অন্তত ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ক্ষেত রোগমুক্ত, বাজারদর ভালো ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতিবিঘা জমির বেগুন অন্তত ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিবিঘা জমির বেগুন বিক্রি করে অন্তত ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হয়। এ বছর বেগুনচাষে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে সব জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রথমদিকে বাজারে বেগুনের দাম ভালো থাকলেও এখন বাজারদর নিম্নমূখী। এখন বেগুন বিক্রি করে লাভ হওয়া তো দূরের কথা উল্টো লোকসানের আশঙ্কা করছি।
উপজেলার নেউলা গ্রামের বর্গাচাষি হাসিনুর রহমান জানান, এবছর তিনি ৩৮ হাজার টাকায় ২ বিঘা জমি ১ বছরের জন্য বর্গা নিয়েছেন। এ জমিতে তিনি আগাম জাতের বেগুন চাষ করেছেন। প্রতিবছর বেগুনচাষ করে লাভবান হয়েছেন। এবছর হঠাৎ জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কীটনাশকসহ মজুরের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বেগুন উৎপাদনে খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। গত এক সপ্তাহ পূর্বে প্রতিমণ বেগুন ১ হাজার ৬০০-১ হাজার ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে বাজারে বেগুনের দর কমে গিয়ে প্রতিমণ বেগুন ৮০০-৯০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের বাজারদর বৃদ্ধি না পেলে লাভ করা তো দূরের কথা, খরচও তুলতে পারবো কিনা তা নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, এ উপজেলার মাটি বেগুন চাষের জন্য উপযোগী। বেগুনচাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ ও বিভিন্ন সহযোগিতা করায় উপজেলায় চাষিরা বেগুনচাষে ঝুঁকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে উপজেলায় অন্তত ২৪০ হেক্টর জমিতে বেগুনচাষ হয়েছে। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ কৃষক বেগুন বিক্রি করতে শুরু করেছেন।
এ উপজেলার উৎপাদিত বেগুন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মৌসুমের প্রথমদিকে বেগুনের বাজারদর ভালো ছিল। গত ২-৩ দিনে বেগুনের বাজারদর একটু কমেছে। এতে চাষিদের লোকসান গুণতে হবে না বলে তিনি আশাপোষন করছেন।