মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রোগ প্রতিরোধে ছাগল-ভেড়ার টিকা পেয়ে গৃহস্থদের স্বস্তি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বেশ কিছু খামারসহ অধিকাংশ পরিবারে পালন করে থাকেন ছাগল-ভেড়া। এ থেকে কেউ কেউ ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। কেউবা ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছেন। এর কারণ, মাঝে মধ্যে ওইসব প্রাণির পিপিআর ও ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়া। তাই রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিন প্রয়োগ। ইতোমধ্যে ছাগল-ভেড়া টিকা পেয়ে চিন্তামুক্ত হয়েছেন খামারী-গৃস্থালীরা।

সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের গড়ের মাঠসহ বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে দেখা গেছে- প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ছাগল ও ভেড়ায় ভ্যাকসিন প্রয়োগের চিত্র। এসময় সহস্রাধিক মানুষ তাদের পালিত ওইসব প্রাণির পিপিআর ও ক্ষুরা রোগের টিকা পেয়ে ফিরেছেন বাড়িতে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ ছাগল-ভেড়ার মারাতœক সংক্রমণ। এ রোগে শরীরের তাপমাত্র হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যেতে পারে। নাক, মুখ, চোখ দিয়ে প্রথমে পাতলা তরল পদার্থ বের হয়। পরবর্তীতে তা ঘন ও হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ধীরে ধীরে তা আরও শুকিয়ে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে প্রাণিটির শ্বাসকষ্টসহ আরও অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয়। এ রোগে প্রায় ৪০ ভাগ প্রাণির মৃত্যুত খামারী বা গৃহস্থালীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মালিকদের এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সারা দেশের ন্যায় সাদুল্লাপুর উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে- পিপিআর রোগ নির্মুল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে ছাগল ও ভেড়ায় পিপিআর টিকা প্রদান কার্যক্রম। যা আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে। শুরুতে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওছার হাবীব ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোছা. সুমনা আক্তার।

জয়েনপুর গ্রামের সুবিধাভোগি আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ছাগল পালন করে লাভবান হচ্ছি। কিন্তু মাঝে-মধ্যে ছাগলের পিপিআর ও খুরা রোগে লোকসান গুণতে হয়। এরই মধ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ৪টি ছাগল ও ২টি ভেড়ায় টিকা পেয়ে চিন্তামুক্ত হয়েছি।

আরাজী জামালপুর গ্রামের খামারী বাবুল মণ্ডল বলেন, আমার খামারে প্রায় ৪০টি ছাগল রয়েছে। অল্প পূঁজি দিয়ে এ ব্যবসা শুরু করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয়েছি। তবে পিপিআর ও ক্ষুরা রোগের কারণে অনেকটা ঝুঁকিতে থাকতে হয়। এখন সরকারিভাবে এ রোগে টিকা প্রদান করায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী বলেন, পিপিআর ও ক্ষুরায় অসুস্থ ছাগল-ভেড়ার নাক, মুখ, চোখ দিয়ে নিসৃত তরল যাতে অন্য প্রাণির শরীরে না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছাগলের থাকার ঘর জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার। সেই সঙ্গে পিপিআর ও ক্ষুরায় অসুস্থ প্রাণিকে আলাদা করে চিকিৎসা করাতে হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোছা. সুমনা আক্তার বলেন, এই টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় উপজেলায় প্রায় ৯২ হাজার ছাগল ও ভেড়ায় টিকা প্রদান করা হবে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রত্যেক ওয়ার্ডে এই কার্যক্রমের মাইকিংয়ে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই টিকাদান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত থেকে সফল করার আহবান জানান এই কর্মকর্তা।

রোগ প্রতিরোধে ছাগল-ভেড়ার টিকা পেয়ে গৃহস্থদের স্বস্তি

প্রকাশের সময়: ০৯:৫০:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ অক্টোবর ২০২৩

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় বেশ কিছু খামারসহ অধিকাংশ পরিবারে পালন করে থাকেন ছাগল-ভেড়া। এ থেকে কেউ কেউ ঘুরিয়েছেন ভাগ্যের চাকা। কেউবা ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছেন। এর কারণ, মাঝে মধ্যে ওইসব প্রাণির পিপিআর ও ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হওয়া। তাই রোগ প্রতিরোধে সরকারিভাবে শুরু হয়েছে ভ্যাকসিন প্রয়োগ। ইতোমধ্যে ছাগল-ভেড়া টিকা পেয়ে চিন্তামুক্ত হয়েছেন খামারী-গৃস্থালীরা।

সম্প্রতি সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের গড়ের মাঠসহ বিভিন্ন টিকা কেন্দ্রে দেখা গেছে- প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে ছাগল ও ভেড়ায় ভ্যাকসিন প্রয়োগের চিত্র। এসময় সহস্রাধিক মানুষ তাদের পালিত ওইসব প্রাণির পিপিআর ও ক্ষুরা রোগের টিকা পেয়ে ফিরেছেন বাড়িতে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, পিপিআর ও ক্ষুরা রোগ ছাগল-ভেড়ার মারাতœক সংক্রমণ। এ রোগে শরীরের তাপমাত্র হঠাৎ করে অনেক বেড়ে যেতে পারে। নাক, মুখ, চোখ দিয়ে প্রথমে পাতলা তরল পদার্থ বের হয়। পরবর্তীতে তা ঘন ও হলুদ বর্ণ ধারণ করে। ধীরে ধীরে তা আরও শুকিয়ে নাকের ছিদ্র বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে প্রাণিটির শ্বাসকষ্টসহ আরও অন্যান্য লক্ষণ দেখা দেয়। এ রোগে প্রায় ৪০ ভাগ প্রাণির মৃত্যুত খামারী বা গৃহস্থালীরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। মালিকদের এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সারা দেশের ন্যায় সাদুল্লাপুর উপজেলায় বাস্তবায়ন হচ্ছে- পিপিআর রোগ নির্মুল ও ক্ষুরা রোগ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার প্রত্যেকটি ইউনিয়নে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে বিনামূল্যে ছাগল ও ভেড়ায় পিপিআর টিকা প্রদান কার্যক্রম। যা আগামী ৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলমান থাকবে। শুরুতে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাওছার হাবীব ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোছা. সুমনা আক্তার।

জয়েনপুর গ্রামের সুবিধাভোগি আব্দুর রাজ্জাক মিয়া বলেন, বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে ছাগল পালন করে লাভবান হচ্ছি। কিন্তু মাঝে-মধ্যে ছাগলের পিপিআর ও খুরা রোগে লোকসান গুণতে হয়। এরই মধ্যে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ৪টি ছাগল ও ২টি ভেড়ায় টিকা পেয়ে চিন্তামুক্ত হয়েছি।

আরাজী জামালপুর গ্রামের খামারী বাবুল মণ্ডল বলেন, আমার খামারে প্রায় ৪০টি ছাগল রয়েছে। অল্প পূঁজি দিয়ে এ ব্যবসা শুরু করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হয়েছি। তবে পিপিআর ও ক্ষুরা রোগের কারণে অনেকটা ঝুঁকিতে থাকতে হয়। এখন সরকারিভাবে এ রোগে টিকা প্রদান করায় প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী বলেন, পিপিআর ও ক্ষুরায় অসুস্থ ছাগল-ভেড়ার নাক, মুখ, চোখ দিয়ে নিসৃত তরল যাতে অন্য প্রাণির শরীরে না লাগে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছাগলের থাকার ঘর জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা দরকার। সেই সঙ্গে পিপিআর ও ক্ষুরায় অসুস্থ প্রাণিকে আলাদা করে চিকিৎসা করাতে হবে।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোছা. সুমনা আক্তার বলেন, এই টিকাদান কার্যক্রমের আওতায় উপজেলায় প্রায় ৯২ হাজার ছাগল ও ভেড়ায় টিকা প্রদান করা হবে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রত্যেক ওয়ার্ডে এই কার্যক্রমের মাইকিংয়ে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই টিকাদান কর্মসূচিতে সর্বস্তরের জনগণকে সম্পৃক্ত থেকে সফল করার আহবান জানান এই কর্মকর্তা।