মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে হত্যার দায়ে দম্পতির যাবজ্জীবন  

লালমনিরহাটে হত্যার দায়ে এক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট আদালতের দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আকমল হোসেন রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোচাবাড়ি এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে দবিয়ার রহমান (৪০) ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম (৩৩)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর শাহিনা বেওয়া ছোট ভাই একরামুল  হকের বাড়ির পাশে বাড়ি করে বসবাস করতে শুরু করেন। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ ও কবিরাজি করে এক ছেলে ও দুই মেয়ের বিয়ে দেন শাহিনা বেওয়া। কবিরাজি করতে গিয়ে দবিয়ার রহমানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শাহিনা বেওয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দবিয়ার রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে দবিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর শাহিনা বেওয়াকে ডেকে নেন। পরে তারা কৌশলে ওই দিন রাতে শাহিনা বেওয়াকে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি পাকার মাথা এলাকার তিস্তা নদীর চরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরদিন ৭ নভেম্বর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ শাহিনা বেওয়ার লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ওই দিন নাম না জানা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত শাহিনা বেওয়ার ছোট ভাই একরামুল হক। তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মশিউর রহমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যার রহস্য উৎঘাটন করে অভিযুক্ত দবিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। ২০২১ সালের ৩১ মার্চ অভিযুক্ত দবিয়ার ও তার স্ত্রী শাহিনার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এসআই মশিউর রহমান। এ মামলায় ২২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক।

লালমনিরহাটে হত্যার দায়ে দম্পতির যাবজ্জীবন  

প্রকাশের সময়: ০৫:৪৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ অক্টোবর ২০২৩
লালমনিরহাটে হত্যার দায়ে এক দম্পতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট আদালতের দায়রা জজ মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আকমল হোসেন রায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, লালমনিরহাট সদর উপজেলার খোচাবাড়ি এলাকার মৃত মহির উদ্দিনের ছেলে দবিয়ার রহমান (৪০) ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম (৩৩)।
আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর শাহিনা বেওয়া ছোট ভাই একরামুল  হকের বাড়ির পাশে বাড়ি করে বসবাস করতে শুরু করেন। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ ও কবিরাজি করে এক ছেলে ও দুই মেয়ের বিয়ে দেন শাহিনা বেওয়া। কবিরাজি করতে গিয়ে দবিয়ার রহমানের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে শাহিনা বেওয়া বিয়ের জন্য চাপ দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন দবিয়ার রহমান। বিষয়টি জানাজানি হলে দবিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগম ২০২০ সালের ৬ নভেম্বর শাহিনা বেওয়াকে ডেকে নেন। পরে তারা কৌশলে ওই দিন রাতে শাহিনা বেওয়াকে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের কালমাটি পাকার মাথা এলাকার তিস্তা নদীর চরে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরদিন ৭ নভেম্বর স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ শাহিনা বেওয়ার লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ওই দিন নাম না জানা আসামিদের বিরুদ্ধে সদর থানায় হত্যা মামলা করেন নিহত শাহিনা বেওয়ার ছোট ভাই একরামুল হক। তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) মশিউর রহমান প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যার রহস্য উৎঘাটন করে অভিযুক্ত দবিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী শাহিনা বেগমকে গ্রেপ্তার করেন। ২০২১ সালের ৩১ মার্চ অভিযুক্ত দবিয়ার ও তার স্ত্রী শাহিনার বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এসআই মশিউর রহমান। এ মামলায় ২২ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। দীর্ঘ শুনানি শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে সোমবার রায় ঘোষণা করেন বিচারক।