একসময় গ্রামাঞ্চলে শিশুদের হাওয়াই মিঠায়ের কদর ছিল অনেকটাই। কিন্তু এখন সেই মিঠাই হারিয়ে যেতে বসেছে কালেরগর্ভে। তবুও জিয়াউল হক নামের এক ব্যক্তি ছাড়ছে না এই মিঠাই বিক্রির কাজ। এতে স্বল্প লাভ হলেও গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আকড়ে ধরে ক্ষুদ্র এ ব্যবসাটি অব্যাহত রাখছেন তিনি।
কাধে লাঠির মাথায় ঝুলানো স্বচ্ছ কাচের বাক্স আর হাতে ঘন্টি নিয়ে সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরস্থ ফ্রেন্ডস এবিআরএস শিবরাম আদর্শ বিদ্যাপীঠের গেটের সামনে দেখা হয় এই জিয়াউল হকের সঙ্গে। এসময় তিনি জানালেন এ ব্যবসার নানা ইতিকথা।
তার বাড়ি গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের দুলার ভিটা গ্রামে। প্রায় ৩ যুগ ধরে হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছেন। অন্য পেশায় বেশি লাভজনক হলেও তবুও ছাড়ছে না মিঠাই বিক্রির কাজ। গ্রামীণ ঐতিহ্যকে আকড়ে ধরে এ কাজটি করে যাচ্ছেন তিনি।
জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী হাওয়াই মিঠাই দেখতে যেমন অতুলনী গোল-গোল। তেমনী মিষ্ট স্বাদের স্বপ্নিল ছোঁয়ায় নিমিষে মিলিয়ে যায়। সেই সঙ্গে এই মিঠাই দেখতে অত্যান্ত আকর্ষণীয়। তুলোর মতো তুলতুলে গোলাপী রঙ্গের। এক সময় শিশুরা তাদের মা-বাবা-দাদা-দাদীর কাছে মিঠাই খাওয়ার বায়না ধরতো। এখন সেই হাওয়াই মিঠাই আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে। বর্তমান সময়ে শিশুরা হাওয়াই মিঠা সম্পর্কে অনেকটা অজানা রয়েছে।
জিয়াউল হক জানান, স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ৪ সদস্যের সংসার তার। একমাত্র পেশা হাওয়াই মিঠাই বিক্রি। বাড়িতে ছোট একটি মেশিনে চিনি দিয়ে এই মিঠাই তৈরী করে থাকেন। এর পর সকাল হলে গ্রামাঞ্চলে হেঁটে চলেন মিঠাই বিক্রি করতে। এর খরচ বাদে দৈনন্দিন প্রায় ৩০০ টাকা লাভ থাকে। এ দিয়ে কোনমত সংসার চালাচ্ছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম নামের এক অভিভাক বলেন, আজ বাড়ির পাশে হঠাৎ করে ঘন্টির শব্দ শুনে বের হই। দেখা গেল অতীতের সেই চিরচেনা হাওয়াই মিঠাই। খুব ভালো লাগা থেকে সন্তানকে কিনে দিয়েছি।
সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জিয়াউল হক হাওয়াই মিঠাই বিক্রি করে চলেছেন। আবহমান গ্রামবাংলার এই ঐতিহ্য শৈশবের মতোই জ্বলজ্বল করে বেঁচে থাকুক। জিউয়ালের পরিবারের জন্য শুভ কামনা।
তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট 





















