বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রমিক থেকে সফল ফ্রিল্যান্সার

ইচ্ছা, ধৈর্য্য আর দৃয় মনোবল থাকলেই চাকুরির পিছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কেউ সফলতা পেতে পারেন

(মো. রফিকুল ইসলাম)

আইসিটির প্রসার ঘটছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরসহ সারাদেশেই। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাচঁতে স্বাধীনভাবে আয়ের পথ খুঁজে অনেকেই আইসিটি নির্ভর ক্যারিয়ার গঠনের চেষ্টা করছেন। অনেকেই নিজের দক্ষতায় সফলও হচ্ছেন। কেউবা হচ্ছেন ফ্রিল্যান্সার। বাড়ি কিংবা যে কোনো স্থানে বসেই কাজ করতে পারেন। প্রয়োজন নিজের দক্ষতা, বিদ্যুৎ আর দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। ইচ্ছা, ধৈর্য্য আর দৃয় মনোবল থাকলেই চাকুরির পিছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কেউ সফলতা পেতে পারেন। তেমনি এক সফল ফ্রিল্যান্সার জীবন কুমার রায়। চরম দারিদ্রতার সাথে জীবন যুদ্ধে জয়ী ট্রাক শ্রমিক থেকে এখন লাখপতি জীবন কুমার। তার এ সফলতা দেখে আরও অনেক বেকার তার সাথে এ কাজে যুক্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন।

জীবন কুমার রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের তালপুকুর গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র রায়ের ছেলে। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। এসএসসি পাস করার পর ২০১৭ সালে কম্পিউটার সায়েন্সে রংপুর টিএমএস পলিটেকনিকে ভর্তি হন। এ সময় পরিবারে চলছিল চরম দূর্দিন। তিনবেলা ঠিকমতো খাবার খাওয়া ছিল কষ্টকর। লেখাপড়া করা তো আরও কষ্টকর। জীবন বাচাঁতে জীবন কুমার রাজমিস্ত্রির শ্রমিক আবার কখনও ট্রাকের হেলাপারের কাজ করেন। এসব কাজ করে সংসারের পাশাপাশি নিজের লেখাপড়ার খরচও যোগান দেন তিনি। এ সময় স্থানীয় এক বড়ভাইয়ের পরামর্শে ২০২২ সালের ২ মার্চ ফ্রিল্যান্সসিং কাজ শিখতে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এসইটি-সিএএসএইচ প্রতিষ্ঠানে কাজ শিখেন তিনি। ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন শেষে তারাই তাকে একটি কম্পিউটার দিয়েছিল কাজ চালানোর জন্য। বাড়িতে ফিরে এসে ওই কম্পিউটারে ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করেন। প্রথম ২৭ হাজার টাকা আয় করার পর কিস্তিতে আরেকটি ল্যাপটক ক্রয় করেন। এরপর এলাকায় একটি ছোট্ট অফিস নেন। সেখানেই শুরু করেন ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ। আস্তে আস্তে আয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাথে আরো ১২ জন এই কাজে যোগ দেন। এরপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। বড় বড় প্রজেক্ট পেতে শুরু করেন।

দেশের বাইরে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের অর্ডার আসতে শুরু করে। এখন বৃহৎ একটি প্রজেক্ট চলছে। তার সাথে এসব কাজে বিভিন্ন এলাকার ২১৮ জন তরুণ যুক্ত হয়েছেন। তারাও আয় করতে পারছেন। এ কাজের পাশাপাশি তার ‘জীবন বুক বিডি ডট কম’ নামে একটি ওয়েব সাইট করেন। এতে দেশ-বিদেশের ৫০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছেন। এই ওয়েবসাইড থেকেও আয় করছেন তিনি।

জীবন কুমার রায় জাগো২৪.নেট-কে জানান, ২০২২ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি। ফ্রিল্যান্সার হয়ে বর্তমানে প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হয়। কাজের পরিধি বাড়ায় আমি মাস খানেক আগে দিনাজপুর শহরের উপ-শহরের একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ফ্রিল্যান্সার হলো ‘মুক্ত পেশাজীবী’। বাড়ি কিংবা যেকোনো স্থানে বসেই কাজ করতে পারেন। প্রয়োজন নিজের দক্ষতা, বিদ্যুৎ আর দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। ইচ্ছা, ধৈর্য্য শক্তি, দৃঢ় মনোবল থাকলে চাকুরির পিছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কেউ সফলতা পারেন। জীবন কুমার রায় আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকের মতো নিজের ওয়েবসাইটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।

শ্রমিক থেকে সফল ফ্রিল্যান্সার

প্রকাশের সময়: ০৫:১৯:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ নভেম্বর ২০২৩

ইচ্ছা, ধৈর্য্য আর দৃয় মনোবল থাকলেই চাকুরির পিছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কেউ সফলতা পেতে পারেন

(মো. রফিকুল ইসলাম)

আইসিটির প্রসার ঘটছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরসহ সারাদেশেই। বেকারত্বের অভিশাপ থেকে বাচঁতে স্বাধীনভাবে আয়ের পথ খুঁজে অনেকেই আইসিটি নির্ভর ক্যারিয়ার গঠনের চেষ্টা করছেন। অনেকেই নিজের দক্ষতায় সফলও হচ্ছেন। কেউবা হচ্ছেন ফ্রিল্যান্সার। বাড়ি কিংবা যে কোনো স্থানে বসেই কাজ করতে পারেন। প্রয়োজন নিজের দক্ষতা, বিদ্যুৎ আর দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। ইচ্ছা, ধৈর্য্য আর দৃয় মনোবল থাকলেই চাকুরির পিছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কেউ সফলতা পেতে পারেন। তেমনি এক সফল ফ্রিল্যান্সার জীবন কুমার রায়। চরম দারিদ্রতার সাথে জীবন যুদ্ধে জয়ী ট্রাক শ্রমিক থেকে এখন লাখপতি জীবন কুমার। তার এ সফলতা দেখে আরও অনেক বেকার তার সাথে এ কাজে যুক্ত হয়েছেন এবং হচ্ছেন।

জীবন কুমার রায় চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের তালপুকুর গ্রামের পূর্ণ চন্দ্র রায়ের ছেলে। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি বড়। এসএসসি পাস করার পর ২০১৭ সালে কম্পিউটার সায়েন্সে রংপুর টিএমএস পলিটেকনিকে ভর্তি হন। এ সময় পরিবারে চলছিল চরম দূর্দিন। তিনবেলা ঠিকমতো খাবার খাওয়া ছিল কষ্টকর। লেখাপড়া করা তো আরও কষ্টকর। জীবন বাচাঁতে জীবন কুমার রাজমিস্ত্রির শ্রমিক আবার কখনও ট্রাকের হেলাপারের কাজ করেন। এসব কাজ করে সংসারের পাশাপাশি নিজের লেখাপড়ার খরচও যোগান দেন তিনি। এ সময় স্থানীয় এক বড়ভাইয়ের পরামর্শে ২০২২ সালের ২ মার্চ ফ্রিল্যান্সসিং কাজ শিখতে কুষ্টিয়ায় গিয়ে এসইটি-সিএএসএইচ প্রতিষ্ঠানে কাজ শিখেন তিনি। ভালোভাবে দক্ষতা অর্জন শেষে তারাই তাকে একটি কম্পিউটার দিয়েছিল কাজ চালানোর জন্য। বাড়িতে ফিরে এসে ওই কম্পিউটারে ফ্রিল্যান্সিং কাজ শুরু করেন। প্রথম ২৭ হাজার টাকা আয় করার পর কিস্তিতে আরেকটি ল্যাপটক ক্রয় করেন। এরপর এলাকায় একটি ছোট্ট অফিস নেন। সেখানেই শুরু করেন ডিজিটাল মার্কেটিং, ওয়েব ডিজাইন এন্ড ডেভেলপমেন্টের কাজ। আস্তে আস্তে আয় বৃদ্ধি পেতে থাকে। সাথে আরো ১২ জন এই কাজে যোগ দেন। এরপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। বড় বড় প্রজেক্ট পেতে শুরু করেন।

দেশের বাইরে আমেরিকা, কানাডা, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের অর্ডার আসতে শুরু করে। এখন বৃহৎ একটি প্রজেক্ট চলছে। তার সাথে এসব কাজে বিভিন্ন এলাকার ২১৮ জন তরুণ যুক্ত হয়েছেন। তারাও আয় করতে পারছেন। এ কাজের পাশাপাশি তার ‘জীবন বুক বিডি ডট কম’ নামে একটি ওয়েব সাইট করেন। এতে দেশ-বিদেশের ৫০ লাখ ব্যবহারকারী রয়েছেন। এই ওয়েবসাইড থেকেও আয় করছেন তিনি।

জীবন কুমার রায় জাগো২৪.নেট-কে জানান, ২০২২ সালে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছি। ফ্রিল্যান্সার হয়ে বর্তমানে প্রতিমাসে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা আয় হয়। কাজের পরিধি বাড়ায় আমি মাস খানেক আগে দিনাজপুর শহরের উপ-শহরের একটি ফ্লাট ভাড়া নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ফ্রিল্যান্সার হলো ‘মুক্ত পেশাজীবী’। বাড়ি কিংবা যেকোনো স্থানে বসেই কাজ করতে পারেন। প্রয়োজন নিজের দক্ষতা, বিদ্যুৎ আর দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। ইচ্ছা, ধৈর্য্য শক্তি, দৃঢ় মনোবল থাকলে চাকুরির পিছনে না ছুটে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কেউ সফলতা পারেন। জীবন কুমার রায় আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সোস্যাল মিডিয়া ফেসবুকের মতো নিজের ওয়েবসাইটকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।